চা স্টলের আড্ডা থেকে শুরু করে সামাজিক যোগাযোগের বিভিন্ন মাধ্যম সব কিছুতেই এখন আলোচনা হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠ নিয়ে। মাসব্যাপী স্কুলের মাঠে বাণিজ্য মেলার আয়োজনকে ঘিরে শুধু শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যেই নয়, ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে অভিভাবক, প্রাক্তন শিক্ষার্থী ও সামাজিক বিভিন্ন সংগঠনেও। স্কুলের বর্তমান ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা আন্দোলনে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন বলে জানা গেছে। অপর দিকে, জেলা প্রশাসন সূত্র বলছে, মেলার কোনো অনুমতি দেওয়া হয়নি। এর আগে ২০১৪ সালে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় পরিদর্শনকালে খেলার মাঠে যাতে মেলা না হয় এমন নির্দেশনা দিয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ১৪০ বছরের পুরনো হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি স্থানীয়ভাবে ‘নিউফিল্ড’ হিসেবেও পরিচিত। নিউফিল্ডটি নিয়ে রয়েছে করুণ ইতিহাস। ১৯৭০ সালে এ মাঠটি নিয়ে আনসার ও ছাত্রদের মধ্যে ভয়াবহ সংঘর্ষ হয়। এতে রক্ত ঝরে ওই সময়ের ছাত্র-শিক্ষকদের। শুধু তাই নয়, কারাবরণ পর্যন্ত করতে হয় ওই সময়ের সহকারী প্রধান শিক্ষককে। ঘটনাটি দেশজুড়ে ছাত্র-শিক্ষক সমাজে প্রচ-ভাবে নাড়া দেয়। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়েও ছাত্ররা এর প্রতিবাদে ক্ষোভ মিছিল বের করেন। এর পর থেকে নিউফিল্ডটি শিক্ষক-ছাত্রসমাজের কাছে আবেগ ও গুরুত্বপূর্ণ স্থান হিসেবে মনে গেঁথে আছে।
প্রতিদিন এ মাঠটিতে স্কুলের শিক্ষার্থী ছাড়াও আশপাশের শিশুরা খেলাধুলায় মেতে ওঠে। সেখানে দর্শক হিসেবে থাকেন অভিভাবক, শিক্ষক ও প্রবীণরাও।
কিন্তু, জেলা প্রশাসনের অনুমতি না নিয়ে সম্প্রতি হবিগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স নিউফিল্ডে বালিজ্যমেলার আয়োজনের কাজ শুরু করেছে। ইতিমধ্যে ট্রাক দিয়ে সাজসরঞ্জাম আনা শুরু হয়েছে।
ইভেন্ট ম্যনেজমেন্টের সূত্র জানায়, কিছুদিনের মধ্যে মাটি খুঁড়ে ফোয়ারা বানানো, ইট বিছিয়ে রাস্তা, স্টল নির্মাণসহ অন্যান্য কাজ শুরু হবে।
কয়েকজন ছাত্র বলেন, ‘কয়েক বছর ধরে শীত মৌসুম এলেই কৃষি-শিল্প-বাণিজ্য মেলার নামে চেম্বার অব কমার্স, পুনাক, তৃণমূল নারী সংগঠনগুলো মেলার আয়োজন করে। মাসের পর মাস চলা এসব মেলায় গুটিকয়েক নিম্নমানের পোশাক, কসমেটিকস, আচার, চানাচুর, ভাজাপোড়া খাবারের দোকান বসানো হয়। গভীর রাত পর্যন্ত চলে সার্কাসের নামে অশ্লীল অঙ্গভঙ্গিতে নাচগান, জুয়া, লটারি বাণিজ্য। প্রতিদিন মোটরসাইকেলসহ লোভনীয় পুরস্কারের ঘোষণা দিয়ে হাজার হাজার লটারির টিকিট বিক্রি করা হয়। আর এসবের ক্রেতা হচ্ছেন রিকশাচালক, দিনমজুর। পুরস্কার পাওয়ার আশায় নিম্ন আয়ের লোকজন সারা দিনের রুজির টাকায় লটারির টিকিট কিনে ফতুর হয়ে বাড়ি ফেরেন।’
যোগাযোগ করা হলে হবিগঞ্জ সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ আলফাজ উদ্দিন বলেন, স্কুলের বার্ষিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে। এ মাসের শেষ দিন পর্যন্ত চলবে। স্কুল মাঠে মেলা না বসানোর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনার বিষয়টি জেলা প্রশাসককে জানিয়েছি।
হবিগঞ্জ চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি মিজানুর রহমান শামীম বলেন, মেলার অনুমোদন এখনো পাইনি।
জেলা প্রশাসক জিলুফা সুলতানা বলেন, মেলার কোনো অনুমতি দিইনি। স্কুলের মাঠ বাদে অন্য কোথাও মেলার ব্যবস্থা করা যায় কি না দেখা হচ্ছে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 








