শাপলারাজ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ১২:৩৯ AM

শাপলারাজ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি

জৈন্তাপুর প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ৩১/০১/২০২৪ ০৯:২৯:১১ AM

শাপলারাজ্যে ঝাঁকে ঝাঁকে অতিথি পাখি


বিলে বন্দি শাপলা। বিল আর শাপলার এমন প্রাকৃতিক মিত্রতাকে বলা হয় শাপলাবিল। শীতে বিলে নৌকা চলাচলের উপযোগী যথেষ্ট পানি রয়েছে। তাই বিলগুলোতে প্রাকৃতিকভাবে বেড়ে ওঠা লাল শাপলার মাঝে ঠাঁই নিয়েছে নানা প্রজাতির পাখি।

কোনোটি ফুলের কলিতে ঠুকর দিচ্ছে, কোনোটি মেতেছে মাছ ধরতে, কোনোটি ব্যস্ত খুনসুটিতে। পর্যটকদের নৌকার শব্দ পেলেই ঝাঁক বেঁধে উড়াল দিচ্ছে হাজারো পাখি। এ দৃশ্য দেখা যাচ্ছে প্রকৃতিপ্রেমীদের পছন্দের তালিকায় থাকা সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ডিবিরহাওড় লাল শাপলা বিলে।

পাখির নাম বালি হাঁস, শামুকখোল, মেটেমাথাটিটি, সাদা বক, কানি বক, মাছরাঙা, নীলকণ্ঠী, জলময়ুর, সরালি হাঁসসহ অসংখ্য প্রজাতির পাখি। কয়েক বছরের তুলনায় এ বছর জৈন্তাপুরের লাল শাপলা বিলে খুব বেশি অতিথি পাখির দেখা মিলছে। পশ্চিম পাশের বাঁধ নির্মাণের কারণে পানি আটকে থাকায় এবারঅতিথি পাখির সংখ্যা বৃদ্ধি পেয়েছে। বিলের পশ্চিম বাঁধটি ৪/৫ ফিট উঁচু করা হলে বিলটিতে অতিথি পাখির আগমন আরও কয়েকগুণ বাড়বে বলে ধারণা এলাকাবাসীর।

জৈন্তাপুর, গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট উপজেলার অনেক বিল ইজারা দেওয়ায় পানি সেচে মাছ ধরা হয়। তবে, শাপলার সৌন্দর্যের কারণেই লাল শাপলার বিল ইজারা বন্দ রয়েছে। পর্যাপ্ত পানি থাকায় এবং সামাজিক বনায়নের আওতায় বিলের রাস্তা এবং টিলায় বৃক্ষ রোপণের কারণে অতিথি পাখির নিরাপদ স্থান হিসাবে পরিণত হচ্ছে লাল শাপলার বিল। অতিথি পাখির উপস্থিতি বিগত বছরগুলোর তুলনায় এবার বেশি বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।

সম্প্রতি সরেজমিন লাল শাপলা বিলে গিয়ে দেখা মেলে বালিহাঁস, শামুকখোল, মেটে মাথা টিটির ঝাঁকসহ অসংখ্য অতিথি পাখির। তারা লাল শাপলায় কলিতে ঠুকর দিচ্ছে, পানিতে ডুব দিচ্ছে, সাঁতার কাটছে এবং বিল জুড়ে নিরাপদে বিচরণ করছে। খানিক পর বিশ্রাম নিচ্ছে দল বেঁধে। পর্যটকেরাও এমন দৃশ্য উপভোগ করছেন নৌকায় চড়ে। যেন লাল শাপলার বিলগুলোতে পর্যটকদের স্বাগত জানাচ্ছে বিভিন্ন প্রজাতির পাখি।

নৌকার মাঝি হারুন মিয়া ও দুলাল হোসেন জানান, জৈন্তাপুরের ডিবির হাওর লাল শাপলা বিল নাম পরিচিতি পাওয়ার আগে এবং পরে কিছু লোক পাখি শিকার করতেন। স্থানীয় সাংবাদিক ও পরিবেশকর্মীদের তৎপরতার ফলে প্রাণীর প্রতি দরদ বেড়েছে সবার। এখন আর পাখি শিকার হচ্ছে না। পাখিরা বিলে খাবার খেয়ে নিরাপদেই থাকছে। লাল শাপলার রাজ্য এখন পাখির রাজ্যেও পরিণত হচ্ছে।

স্থানীয়রা মনে করেন বিলটির পশ্চিম বাঁধটি আরও প্রশস্ত এবং ৫/৭ ফিট উঁচু করা প্রয়োজন। এছাড়া বিলের অবশিষ্ট ভূমি শাপলা বিলের সাথে সংযুক্ত করা দরকার। বিলের পশ্চিম অংশে জায়গা জবরদখল করে যেসব বাড়ি তৈরি করা হচ্ছে সেগুলো শুরুতেই উচ্ছেদ করা প্রয়োজন। বিলের বাকী অংশ যুক্ত করা হলে লাল শাপলা বিলটি তিন উপজেলার শ্রেষ্ঠ পর্যটন কেন্দ্র এবং নিরাপদ অতিথি পাখির আশ্রয় কেন্দ্র হবে। অবিলম্বে কেন্দ্রী বিলের অপদখলকৃত জায়গা চিহ্নিত করে দখলমুক্ত করে পরিকল্পিত বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে বিলের সাথে সংযুক্ত করার দাবি জানান পরিবেশকর্মীরা।

জৈন্তা ফটোগ্রাফি সোসাইটির সাধারণ সম্পাদক মো. রেজওয়ান করিম সাব্বির বলেন, ২০১৪ সালে স্থানীয় ও জাতীয় মিডিয়ায় ডিবির হাওরের চারটি বিল নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়। এরপর এগুলো লাল শাপলার বিল হিসেবে পরিচিতি পায়। আমরা উপজেলা প্রশাসনের সাথে দীর্ঘমেয়াদী চুক্তি সাপেক্ষে নিজ অর্থায়নে বৃক্ষরোপণের মাধ্যমে পাখিদের নিরাপদ আশ্রয়কেন্দ্র তৈরি করছি। আগামী বছরগুলোতে বিলের সৌন্দর্য আরও বৃদ্ধি পাবে। অতিথি পাখিদের বাসস্থান তৈরি হবে। আরও নতুন নতুন প্রজাতির অতিথি পাখিসহ অন্যান্য প্রাণীর দেখা পাওয়া যাবে।

জৈন্তাপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি কামাল আহমদ বলেন, জৈন্তাপুরের লাল শাপলা বিলে সৌন্দর্য বর্ধনের জন্য উপজেলা পরিষদ ও উপজেলা প্রশাসন নানা উন্নয়ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। পর্যটকদের জন্য ঘাট নির্মাণ করা হচ্ছে। নতুন আরও একটি পার্কিং স্থান নির্মাণ হবে। পর্যটকদের যাথায়াতের জন্য এক কিলোমিটার রাস্তা আরসিসি পাকাকরণের কাজ এ মাসে শুরু হবে। এছাড়া একটি ওয়াসব্লক করা হয়েছে। বিলের পশ্চিম পাশের বেড়িবাঁধ ছিল না। সেটি করা হয়েছে। বাঁধটি উচু করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। এছাড়া পাখির আবাসস্থল ও পর্যটকদের জন্য ছায়া সৃষ্টির লক্ষ্যে জৈন্তা ফটোগ্রাফি সোসাইটির মাধ্যমে দীর্ঘ মেয়াদী চুক্তিতে ও তাদের অর্থায়নে বনায়ন করা হচ্ছে। দুই বছরের মধ্যে বিলটি হয়ে উঠবে নিরাপদ অতিথি পাখির আবাসস্থল এবং উপজেলার অন্যতম পর্যটন কেন্দ্র।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর