বৃহস্পতিবার মধ্যরাত রাত পর্যন্ত ছাতক পৌর শহরে বন্ধুদের সঙ্গে আড্ডা দেন সৈয়দ মোখছেদ হাসান মহান, আব্দুল আজিজ সায়েম ও রফিকুল্লাহ মাহি। রাতে ব্যাডমিন্টনও খেলেন তারা। এর পর ভোরে মহান, সায়েম ও মাহি খেজুরের রস খেতে রওয়ানা দেন সিলেটের লামাকাজি এলাকায়। তাদের সঙ্গে যোগ দেন আরও দুইজন।
খেজুরের রস খেয়ে প্রাইভেটকারে করে ভোরেই রওয়ানা দেন সিলেটের জাফলং ও জৈন্তাপুরের লাল শাপলার বিল দেখতে। ভ্রমন শেষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে বাড়ি ফেরার পথে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে ধামড়ী নামক এলাকায় প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিদ্যুতের খুটির সঙ্গে ধাক্কা লেগে দুই বন্ধুসহ তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। ভাগ্যক্রমে বেঁচে যাওয়া দুইজনও গুরুতর আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
শুক্রবার বিকেলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায় জরুরি বিবাগের সামনে অপেক্ষা করছেন সমবয়সী অন্তত ১০-১২জন তরুণ। কথা বলে পরিচয় জানা গেল তাদের। তারা সবাই মহান ও সায়েমের বন্ধু। প্রিয় দুই বন্ধুর মরদেহ জৈন্তাপুর থেকে কখন আসবে, সেই অপেক্ষায় তাকিয়ে আছেন পথের দিকে। বাকরুদ্ধ অবস্থায় একে অপরের দিকে চেয়ে আছেন তারা। কেউ কাউকে কিছুই বলছেন না।
কথা হয় সায়েম, মহান ও মাহির বন্ধু ইউসুফ আহমদ ফারহান বলেন, সায়েম তার বাবার প্রাইভেটকার নিয়ে শুক্রবার ভোরে খেজুরের রস খেতে ছাতক থেকে সিলেটের লামাকাজি যান। সঙ্গে ছিলেন মহানসহ আরও চারজন। সেখানে খেজুরের রস খেয়ে হরিপুরের দিকে বিভিন্ন এলাকা ঘুরতে যান। পরে ফেরার পথে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।
নিহতদের আরেক বন্ধু মুমরাজ আলম অর্পন বলেন, বৃহস্পতিবার রাতে অনেকদিন পর সকল বন্ধুরা একত্রিত হয়েছিলাম। মধ্যরাত পর্যন্ত আড্ডা দিয়েছি। কে জানতো আজ সকালেই তারা আমাদের ছেড়ে চলে যাবে। সায়েম রাতে আমার বাসায় থাকতে চেয়েছিল। কিন্তু আমি নানির বাসায় চলে যাওযায় সে আর থাকতে পারেনি। সকালে খেজুরের রস খেতে যাবে বলেছিল। কিন্তু জাফলং যাওযার কথা বলেনি।
উল্লেখ্য, শুক্রবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে সিলেট-তামাবিল মহাসড়কে ধামড়ী নামক এলাকায় প্রাইভেটকার নিয়ন্ত্রন হারিয়ে বিদ্যুতের খুটির সঙ্গে ধাক্কা খেয়ে দুমড়ে মুচরে যায়। এতে ঘটনাস্থলেই মারা যান দুইজন। পরে হাসপাতালে নেওয়ার পর মারা যান আরও একজন।
নিহতরা হলেন, সুনামগঞ্জ জেলার ছাতক তাকিকোনা গ্রামের সৈয়দ জুনেদ মিয়ার ছেলে সৈয়দ মোখছেদ হাসান মহান (২০), একই উপজেলার রাধানগর গ্রামের আব্দুর রহমানের ছেলে আব্দুল আজিজ সায়েম (২১) ও সিলেট নগরীর দক্ষিন বাগবাড়ি এলাকার আব্দুল হাসিমের ছেলে হাফিজুর রশিদ (২০)।
এ ঘটনায় গুরুতর আহতরা হলেন সায়েমের চাচাতো ভাই তাহমিদ আহমদ (২০) ও একই উপজেলার মণ্ডলীবোগ এলাকার জামিল আহমদের ছেলে রফিকুল্লাহ মাহি (২০। তারা সিলেটের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (আইসিইউ) চিকিৎসাধীন রয়েছেন তারা।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
নিউজ ডেস্ক 








