সিলেটের কানাইঘাট সীমান্তে ভারতী খাসিয়াদের হামলায় শাহেদ মিয়া (২৫) নামে
এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। নিহত শাহেদ কানাইঘাট উপজেলার মঙ্গলপুর
গ্রামের মোশাহিদ মিয়ার ছেলে।
শুক্রবার সকালে শাহেদের লাশ মেঘালয়
রাজ্যের লাইজুরী বাঁশকোনা এলাকা থেকে উদ্ধার করা হয়। এর আগে বৃহস্পতিবার
দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঘটনাটি ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা যায়,
রাত সাড়ে ৩টার দিকে জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের (১৯ বিজিবি) দায়িত্বপূর্ণ সীমান্ত
দিয়ে শাহেদ মিয়া ভারতে প্রবেশ করেন। একপর্যায়ে সেখানকার স্থানীয়
চোরাকারবারি খাসিয়াদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়ান শাহেদ। এ এসময় খাসিয়াদের
হামলায় তার মৃত্যু হয়। রাত পর্যন্ত তিনি বাড়ি ফিরে না আসায় শুক্রবার সকালে
পরিবারের লোকজন ও স্বজনরা তাকে খুঁজতে শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা জানতে
পারেন শাহেদের গুলিবিদ্ধ মরদেহ ভারতের মেঘালয় রাজ্যের লাইজুরি বাঁশকোনা
এলাকার ১৩১৯ নম্বর পিলারের অভ্যন্তরে পড়ে রয়েছে। বিষয়টি পরে বিজিবি অবগত
করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফকে।
স্থানীয়রা বলছেন, ভারত
থেকে অবৈধভাবে চিনি ও অন্যান্য পণ্য সামগ্রী বহনের জন্য অনেকে ভারতে
অনুপ্রবেশ করে থাকেন। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে লাইজুরি এলাকায় গুলির শব্দ
শোনা গেছে।
বিজিবির জকিগঞ্জ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক মোহাম্মদ
এমদাদুল হক জানান, বৃহস্পতিবার রাত ৩টার দিকে ভারতে প্রবেশ করে সে দেশের
খাসিয়া চোরাকারবারিদের সঙ্গে দ্বন্দ্বে লিপ্ত হন শাহেদ। একপর্যায়ে
খাসিয়াদের আঘাতে মৃত্যু হয় তার। বিষয়টি বিএসএফকে জানানো হলে বিএসএফ মরদেহের
ছবি পাঠায়। পরে নিহতের স্বজনরা তা শনাক্ত করেন। ওই যুবকের মরদেহ দেশে আনার
প্রস্তুতি চলছে।
বিজিবির ৪৮ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট
কর্নেল মো. নাজমুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ভারতীয় খাসিয়াদের হামলায়
শাহেদ নামের এক বাংলাদেশি যুবক নিহত হয়েছেন। মরদেহ দেশে আনতে প্রস্তুতি
চলছে। এ ছাড়া এ ঘটনায় বিএসএফ কর্তৃক সংশ্লিষ্ট ভারতীয় খাসিয়া নাগরিকদের
বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন।
কানাইঘাট
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তানিয়া আক্তার জানান, ভারতের অভ্যন্তরে
বাংলাদেশি যুবকের মরদেহ পড়ে থাকার সংবাদ পেয়ে উদ্ধারে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য
বিজিবিকে জানানো হয়।
আজকের সিলেট/এসটি









