নগরীতে সুপেয় পানির তীব্র সংকট
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৫:৪৩ PM

নগরীতে সুপেয় পানির তীব্র সংকট

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩/০৪/২০২৫ ০৯:২৬:৫৫ AM

নগরীতে সুপেয় পানির তীব্র সংকট


নগরীতে সুপেয় পানির তীব্র সংকট শুরু হয়েছে। চাহিদার অর্ধেকেরও নিচে নেমে এসেছে সিটি করপোরেশনের পানি সরবরাহ। আর যতটুকু পাওয়া যাচ্ছে, তা দিয়ে চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। এতে নগরবাসীকে চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। এ অবস্থায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছেন পানিসংকটে নাকাল সিলেটবাসী।

নগরবাসীর অভিযোগ যেসব এলাকায় সিসিক পানি সরবরাহ করছে সেখানেও ঠিক মতো পানি পাচ্ছেন না তারা। একদিন পানি দিলে আরেকদিন বন্ধ থাকে। এছাড়া অনেক সময় ময়লা ও দুর্গন্ধযুক্ত পানি সরবরাহ করা হচ্ছে।

এদিকে, নগরীর পানি ও পয়োনিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নতির লক্ষ্যে ২০২২ সালে গঠিত সিলেট ওয়াসাও তাদের কার্যক্রম শুরু করতে পারেনি। বোর্ডের চেয়ারম্যান এ কে এম হাফিজ জানান, তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ। ওয়াসার দায়িত্ব নেওয়ার মতো অবস্থাতে তিনি নেই।

সিলেট সিটি করপোরেশন কর্তৃপক্ষ জানায়, চাহিদা অনুযায়ী প্রতিদিন সাড়ে ৮ কোটি গ্যালন পানি প্রয়োজন। সরবরাহ করা যাচ্ছে চার কোটি গ্যালনের কিছু বেশি। ঘাটতি থাকছে প্রায় অর্ধেক। কর্তৃপক্ষ আরো জানায়, শুষ্ক মৌসুমে চাহিদা বাড়ার পাশাপাশি বিদ্যুতের লোডশেডিংয়ের কারণে পানি সরবরাহে ঝামেলা হয়। ফলে সরবরাহ এক-তৃতীয়াংশে নেমে আসে।

সিসিকের পানি শাখার সূত্র জানায়, সিলেট সিটি করপোরেশনের পুরোনো ২৭টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২৪টিতে পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। বর্ধিত ১৫টি ওয়ার্ডে পানির সঞ্চালন লাইন এখনো স্থাপিত হয়নি। ২৪টি ওয়ার্ডে দৈনিক সাড়ে ৮ কোটি গ্যালন চাহিদা রয়েছে। বিপরীতে সিটি করপোরেশন সরবরাহ করছে ৪ কোটি গ্যালনের কিছু বেশি। এ ছাড়া সিটির ৪২টি ওয়ার্ডে দৈনিক পানির চাহিদা সাড়ে ১২ কোটি লিটার।

তথ্যমতে, বর্তমানে সিলেট নগরীতে দুটি প্ল্যান্টের মাধ্যমে সুরমা নদীর পানি পরিশোধন করা হচ্ছে। এগুলো থেকে ১ কোটি ৪০ লাখ গ্যালন এবং ৪৫টি গভীর নলক‚প থেকে প্রতিদিন আড়াই থেকে ৩ কোটি গ্যালন পানি সরবরাহ করা হচ্ছে। কিন্তু পুরোনো যন্ত্রপাতির কারণে উৎপাদন কমে গেছে। এতে পানি সংকট আরও তীব্র হয়েছে।

নগরীর আখালিয়া নতুনবাজার এলাকার বাসিন্দা জনি দাশ বলেন, ‘ছয় বছর ধরে পানির সমস্যায় ভুগছি। আমরা নিয়মিত বিল দিয়ে যাচ্ছি, কিন্তু পানি পাই না। শহরে তো পুকুর-দিঘির মতো পানির বিকল্প কোনো উৎস নেই। শুষ্ক মৌসুমে কীভাবে চলব? পানির জন্য ভোগান্তির কোনো শেষ নেই। কর্তৃপক্ষ সমস্যা সমাধানে কোনো উদ্যোগ না নিয়ে কেবল একে অন্যের ওপর দোষ চাপাচ্ছে।’

নগরীর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ইয়াসমিন অঅক্তার বলেন, ‘লাইনের সংযোগ নেওয়ার পর থেকে কখনো ঠিকমতো পানি পাইনি। সপ্তাহে দুই-তিন দিন সরবরাহ বন্ধ থাকে। এ ছাড়া পানিতে রয়েছে তীব্র দুর্গন্ধ। বাধ্য হয়ে খাওয়ার ও রান্নার পানি কিনতে হয়।’

সিলেট ওয়াসার প্রধান প্রকৌশলী (অতিরিক্ত দায়িত্ব) ও সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমান বলেন, দায়িত্ব প্রহণের পরপরই সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে লিখিত আকারে সব তথ্য জমা দিয়েছি। তবে কোনো অগ্রগতি হয়নি। দ্রæত ওয়াসার কার্যালয় স্থাপন ও জনবল নিয়োগ না হলে সিলেটে পানি সংকট দূর করা সম্ভব নয় বলে জানান এই প্রকৌশলী।

তিনি আরো বলেন, পানি সংকট নিরসনে ২০১৬ সালে সিসিক ‘চেঙের খাল ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট’ প্রকল্পের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু ওয়াসা প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর সেই প্রকল্পটিও আটকা পড়েছে।

সিলেট ওয়াসার চেয়ারম্যান এ.কে.এম হাফিজ বলেন, তিন বছর আগেই মন্ত্রণালয়ে কার্যালয় স্থাপন, জনবল নিয়োগসহ চাহিদাপত্র জমা দিয়েছি। কিন্তু তিন বছেরেও মন্ত্রণালয় কোনো উদ্যোগ নেয়নি।

তিনি বলেন, এখন আমি অসুস্থ। ডায়ালাইসিস নিচ্ছি। ওয়াসার দায়িত্ব নেওয়ার মতো অবস্থায় নেই।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর