ওসমানী হাসপাতালে রোগীর স্বজনকে চিকিৎসকের 'ফ্লাইং কিক'
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৪:৪৮ PM

সাম্প্রদায়িক উষ্কানী দেয়ার চেষ্টা চিকিৎসকের, তদন্দ কমিটি গঠন

ওসমানী হাসপাতালে রোগীর স্বজনকে চিকিৎসকের 'ফ্লাইং কিক'

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২৯/০৪/২০২৫ ১০:২৪:৪৩ AM

ওসমানী হাসপাতালে রোগীর স্বজনকে চিকিৎসকের 'ফ্লাইং কিক'


সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীর স্বজনকে চিকিৎসকের লাথি মারার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। গতকাল সোমবার সকাল থেকে ভিডিওটি বিভিন্ন মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। এর পর পুরো সিলেটজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়। ভিডিওতে ভাইরাল হওয়ার ঘটনাটি গত রোববার দুপুরে হাসপাতালের নিচতলার ৩১ নম্বর ওয়ার্ডে ঘটে। হাসপাতালে ওয়ার্ডে এমন কাণ্ড ঘটনোর পর অভিযুক্ত চিকিৎসক ঘটনাটি নিয়ে সাম্প্রদায়িক উষ্কানী দেয়ার চেষ্টা করেছেন। এ ঘটনায় অভিযুক্ত চিকিৎসককে সাময়িক ভাবে অব্যাহতি দিয়ে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। অভিযুক্ত চিকিৎসকের তন্ময় দেবনাথ হাসপাতালের সার্জারি বিভাগে কর্মরত।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিওতে দেখা যায়, কর্তব্যরত চিকিৎসককে কিছু একটা বলছেন এক রোগীর স্বজন। এসময় তেড়ে আসেন চিকিৎসক। এক পর্যায়ে যুবককে লাথি মারতেও দেখা যায় চিকিৎসককে।

জানা গেছে, সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সার্জারি ওয়ার্ডে চিকিৎসা নিতে আসেন জুবায়ের আহমদ নামে এক ব্যক্তি। ঘটনার সময় রোগীর অ্যাপেন্ডিকসের ব্যথা হচ্ছিল। মারধরের শিকার যুবক ওই রোগীর বন্ধু।

হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানায়, চিকিৎসক তন্ময় দেবনাথ একজন স্নাতকোত্তর ‘ফেজ-বি’ এর আবাসিক শিক্ষার্থী।

এদিকে, হাসপাতালে রোগীর স্বজনকে লাথি দেয়ার ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর অভিযুক্ত চিকিৎসক এটি নিয়ে সাম্প্রদায়িক উষ্কানি দেয়ার চেষ্টা করেছেন। তিনি দাবি করেছেন রোগীর স্বজনরা তাকে 'মালাউন' বলে গালি দিয়েছেন।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে অভিযুক্ত চিকিৎসকের গায়ে তো নাম নাম লিখা ছিলনা, তাহলে রোগীর স্বজন কিভাবে উনাকে আপত্তিকর শব্দ ব্যবহার করে গালি দিবেন। উল্টো ভাইরাল হওয় ভিডিওতে চিকিৎসককেই গালাগালি দিতে ও দুর্ব্যবহার করতে দেখা গেছে।

ওসমানী মেডিকেলহাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. সৌমিত্র চক্রবর্ত্তী এ তথ্য নিশ্চিত করে বলেন, ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। আমরা তদন্তের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখবো। এ ঘটনায় পাঁচ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে এবং সাত কর্মদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে। এ ঘটনায় চিকিৎসক তন্ময় দেবনাথকে আপাতত তার দায়িত্ব থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

ঘটেছিলো রোগীর স্বজনের?
তেড়ে গিয়ে রোগীর এক স্বজনকে লাথি দিচ্ছেন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের এক চিকিৎসক- এমন একটি ভিডিও সোমবার ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে।

ভিডিওতে দেখা যায়, কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে সাদা এপ্রোন পরিহিত এক চিকিৎসক তেড়ে গিয়ে লাথি মারছেন এক ব্যক্তিকে। এই ভিডিও ছড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগারেযাগ মাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা দেখা দেয়। ওই চিকিৎসকের শাস্তিরও দাবি ওঠে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসপাতালের সার্জারি ইউনিটের ৩১ নং ওয়ার্ডে চিকিৎসাধীন রয়েছেন জুবেল আহমদ। রোববার তাকে হাসপাতালে দেখতে আসেন তার বন্ধু মিজান আহমদ। মিজান আহমদের সাথেই হাসপাতালের চিকিৎসক তন্ময় দেবনাথের সাথে এই অনাকাঙ্খিত ঘটনাটি ঘটে।

ঘটনার বিবরণ দিয়ে ভুক্তভোগী মিজান আহমদ জানান, ‘জুবেলের এপেন্ডিসাইটিসের ব্যাথা বেড়ে যাওয়ায় ওয়ার্ডে দায়িত্বরত ডাক্তারকে ডাক দেই। এসময় ডাক্তার আরেকজন রোগী দেখতে অন্য ওয়ার্ডে চলে যান। পরবর্তীতে ডাক্তার আসার পর আবার যখন আমি ডাক দেই তিনি বলেন, এই ভাবে ডাকছেন কেনো’। আমি বললাম, ‘স্যার বলেই তো ডাকলাম’। এনিয়ে কথা কাটাকাটি হলে ডাক্তার ক্ষেপে গিয়ে আমাকে থাপ্পর ও লাথি দেন।

তবে অভিযুক্ত চিকিৎসক তন্ময় দেবনাথ দাবি করে বলেন, আমি তখন ইমার্জেন্সি একটা রোগী দেখতে অন্য ওয়ার্ডে যাচ্ছিলাম। তখন ৩১ নং ওয়ার্ডে রোগীর বেডে পায়ের উপর পা তুলে শুয়ে দুজন আমাকে ডাকাডাকি করছিলো। অন্য ওয়ার্ড থেকে ফিরে আসার পরও তারা একই ভঙিতে আমাকে ডাকাডাকি করছিলো। ওই বেডের কাছে গিয়ে এভাবে কেন ডাকাডাকি করছেন জানতে চাইলে তারা তর্ক শুরু করে দেয়।

তবে লাথি দেয়া ঠিক হয়নি উল্লেখ করে ওই চিকিৎসক বলেন, অশোভন আচরণ ও গালি দেওয়ায় মেজাজ হারিয়ে ফেলি। কিন্তু কাজটা ঠিক হয়নি। এজন্য আমি অনুতপ্ত ও দুঃখিত। পরবর্তীতে রোগীর গার্ডিয়ানের কাছে গিয়ে সব কিছু বুঝিয়ে বললে তারা বিষয়টা বুঝতে পেরেছেন।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর