বিশ্বনাথে কন্যা সন্তানের মা হয়েছে এক মানসিক ভারসাম্যহীন নারী (পাগলি)। কিন্তু জন্ম নেওয়া হতভাগা এই কন্যা সন্তানের বাবার কোনো পরিচয় পাওয়া যায়নি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে পৃথিবীর আলো আর পাগল মায়ের দুঃখী মুখ দেখে তার জন্ম হয় পৌরসভার নতুন বাজারস্থ প্রবাসী চত্বরের পাশে থাকা যাত্রী ছাউনিতে।
এ সময় টিএন্ডটি রোডে বসবাসকারী কমরুন বেগম (৪২) নামের আরেক পথিক নারীর নজরে আসে। আর ওই নারীর ব্যবস্থাপনায় যাত্রী ছাউনিতে পর্দার আড়ালে জন্ম নেয় পাগলির এই ফুটফুটে কন্যা সন্তান।
পরে কমরুন বেগম বিশ্বনাথ থানায় গিয়ে সংবাদ জানায়। এ সময় থানা পুলিশ উপজেলা সমাজসেবা অফিসে খবর দিলে নবজাতক শিশুকন্যাসহ সমাজসেবা অফিসের ব্যবস্থাপনায় ওই নারীকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করা হয়।
তবে কমরুন বেগমের মেয়ে রুমেনা বেগম ও জামাতা মনির হোসেন ওই সন্তানকে দত্তক নিতে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তারা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাগলি ও তার কন্যা সন্তানের পাশে থেকে দেখাশোনা করছেন।
এদিকে এই পাগলি কন্যা সন্তানে মা হওয়ার খবর পেয়ে আইনি শর্তসাপেক্ষে দত্তক নেওয়ার জন্য ফেসবুক পেজে স্ট্যাটাস দিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুনন্দা রায়।
ইউএনওর স্ট্যাটাসটি হুবহু ধরে তুলা হলো- বিশ্বনাথ উপজেলায় এক মানসিক ভারসাম্যহীন মহিলা একটা মেয়ে বাচ্চা প্রসব করেছে, যার কোনো বৈধ অভিভাবক নেই। যদি কোন নিঃসন্তান দম্পতি বাচ্চাটির অভিভাবকত্ব নিতে চান তাহলে নিম্নের ডকুমেন্টসসহ উপজেলা নির্বাহী অফিসার/উপজেলা সমাজসেবা অফিসার বরাবর আজই আবেদন দাখিল করুন।
প্রয়োজনীয় ডকুমেন্টসগুলো হচ্ছে- আগ্রহী নিঃসন্তান দম্পতি মহিলা বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের প্রত্যয়ন নিবেন এই মর্মে যে তাদের ভবিষ্যতে বাচ্চা হওয়ার সম্ভাবনা নাই, ভোটার আইডির ফটোকপি ও মোবাইল নাম্বার, সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের প্রত্যয়ন, দুইজন সাক্ষীর এনআইডি ও মোবাইল নাম্বার, আর্থিক সচ্ছলতার প্রত্যয়ন ও দম্পতির সম্মতিপত্র।
জানতে চাইলে উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা কামরুল হাসান বলেন, কেউ যদি এই সন্তানকে দত্তক নিতে চায় তাহলে আইনি প্রক্রিয়া মেনে নিতে পারবেন।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
সংবাদদাতা 








