গোয়াইনঘাটে স্বস্তিতেই বোরোধান শুকিয়ে ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণী
বৃহস্পতিবার, ০২ জুলাই ২০২৬, ০৮:১২ AM

গোয়াইনঘাটে স্বস্তিতেই বোরোধান শুকিয়ে ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণী

সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে

প্রকাশিত: ০৪/০৫/২০২৫ ০২:০৮:১০ AM

গোয়াইনঘাটে স্বস্তিতেই বোরোধান শুকিয়ে ঘরে তুলতে ব্যস্ত কৃষক-কৃষাণী


সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলার হাওরাঞ্চলে চলছে বোরো ধান কাটা ও মাড়াইয়ের কাজ। হাওরের বাতাসে দুলছে কৃষকের পাকা ধানের সোনালি শীষ। এ দৃশ্য এখন উপজেলার প্রতিটি হাওরে।

কৃষকরা ধান কেটে মাঠেই মাড়াই করে রোদে শুকাতে শুরু করেছেন। ভারি বর্ষণ ও আগাম বন্যার শঙ্কা না থাকায় স্বস্তিতেই সোনার ফসল ঘরে তুলতে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষক-কৃষাণীরা।

এ বছর হাওরে ধানের ফলন ও দাম ভালো থাকায় খুশি হাওর পাড়ের প্রতিটি কৃষক পরিবার। গোয়াইনঘাট উপজেলায় অর্ধশতাধিক ছোট বড় মাঝারী হাওর রয়েছে। এসব হাওরে কৃষকরা আনন্দের সঙ্গে ধান কেটে মাড়াই ও শুকানোর কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন। সেই সঙ্গে কৃষাণীরাও বসে নেই। তারাও মনের আনন্দে ধান শুকিয়ে গোলায় তোলার কাজে সাহায্য করছেন।অন্যদিকে গবাদি পশুর খাদ্য খড় শোকাতে ব্যস্ত কৃষক।  শ্রমিকের পাশাপাশি সমতলে কম্বাইন্ড হারভেস্টার মেশিনে কম খরচে ও দ্রুত ধান কাটতে পেরে এবং ধানের ফলন ও দাম ভালো হওয়ায় কৃষকের মুখে ফুটেছে হাসি।

বোরো ফসলের ভালো ফলন হওয়ায় কৃষকরা একদিকে যেমন আনন্দিত, তেমনি অন্যদিকে বৃষ্টি ও আবহাওয়া নিয়ে উৎকণ্ঠিত। বিশেষত বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে বোরো ধান কেটে ঘরে তোলার কাজ চলমান রয়েছে, কিন্তু অনিয়মিত বৃষ্টির কারণে কিছু এলাকায় ধান কাটা কাজে বিঘ্ন ঘটছে।

উপজেলার নওয়াগাঁও গ্রামের কৃষক আশিক মিয়া  জানান, "ফসল কাটা পুরোদমে শুরু হয়েছে, তবে সব কাটা শেষ হয়নি। কৃষক পরিবারগুলো বিশাল এ কর্মজজ্ঞে ব্যস্ত সময় পার করছে। ঠিক তখনই বৈরী আবহাওয়া ও বৃষ্টির আশঙ্কা করছেন কৃষকরা।" তিনি বলেন, গত সপ্তাহ থেকে উপজেলাজুড়ে বৃষ্টি হচ্ছে, ফলে ফসল সংরক্ষণের কাজে কিছুটা বাধা তৈরি হচ্ছে।

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি বলেন, "এ বছর উপজেলায় ১০ হাজার ১৩৪ হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে। বৃষ্টিপাতের কারণে কিছু জায়গায় ধান কর্তন কাজ কিছুটা বিঘ্নিত হলেও, আমরা আশাকরছি আবহাওয়া স্বাভাবিক থাকলে খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে সমস্ত ধান কর্তন করতে সক্ষম হবো।"

তিনি আরো বলেন, "কৃষকদের প্রতি আমাদের অনুরোধ থাকবে, বৈশাখ মাসে শতকরা ৮০ ভাগ পাকা ধান দ্রুত কেটে ফেলার। যাতে কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগের কবলে পড়ে ফসলের ক্ষতি না হয়। উপজেলার কৃষকরা আশা করছেন, এবছর প্রকৃতি তাদের সহায় থাকবে এবং তারা ভালো ফলন ঘরে তুলতে সক্ষম হবেন। তবে কৃষকদের জন্য বৃষ্টি এবং আবহাওয়া নিয়ন্ত্রণের বিষয়টি একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে।

আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর