তিন বছরের শিশুর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ডাকাতি, এলাকায় আতঙ্ক
মঙ্গলবার, ০৫ মার্চ ২০২৪, ০৫:৪২

তিন বছরের শিশুর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ডাকাতি, এলাকায় আতঙ্ক

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১১/০২/২০২৪ ০৭:০৬:০২

তিন বছরের শিশুর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে ডাকাতি, এলাকায় আতঙ্ক


মৌলভীবাজার সদর উপজেলার জগন্নাথপুর গ্রামে ভোরে তিন বছরের শিশুর গলায় ছুরি ঠেকিয়ে সংঘবদ্ধ ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। ডাকাতরা স্বর্ণ, মোবাইল ফোনসহ নগদ টাকা লুট করে নিয়ে গেছে। এ ঘটনায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

রোববার ভোরে সদর উপজেলার মোস্তফাপুর ইউনিয়নের ৬নং ওয়ার্ডের জগন্নাথপুর গ্রামের মৃত মোস্তফা মিয়া মাহালদারের বাড়িতে এই ডাকাতি ঘটে।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, রোববার ভোরে মুখে কালো কাপড় বেঁধে ৭/৮ জনের সংঘবদ্ধ ডাকাতদল ওই বাড়িতে হানা দেয়। এসময় একতলা ওই ঘরের জানালার গ্রিল কেটে প্রবেশ করে। পরে ভেতরের দরজা দিয়ে অন্যরা প্রবেশ করে। এসময় ঘরের সবাই ঘুমন্ত অবস্থায় ছিলেন। ডাকাতদের প্রবেশের বিষয়টি আঁচ করতে পেরে সবার ঘুম ভাঙে। ডাকাতরা প্রথমে মোস্তফা মিয়া মাহালদারের ছোট ছেলে ও কমিউনিটি ক্লিনিক কর্মকর্তা মাজহারুল ইসলাম মনসুরের কক্ষে প্রবেশ করে তাদের ভয়ভীতি দেখিয়ে আলমিরার তালা ভাঙে। সেখান থেকে ৬ থেকে ৭ বড়ি স্বর্ণ ও নগদ ৩৫ হাজার টাকা লুট করে।

ওই ঘটনার সময় পাশের রুমে মনসুরের বড় ভাই ইউনিয়ন যুবলীগের সাধারণ সম্পাদক নাজমুল হক আলী থাকেন। সেখানের দরজার সামনেও অবস্থান নেয় ডাকাত দলের ৩ সদস্য।  

বিষয়টি বুঝতে না পেরে প্রথমে আলীর ধারণা তার অসুস্থ মা ডাকছিলেন। এসময় দরজা খুলে দেখেন সেখানে ডাকাতদলের ৩ জন দাঁড়ানো। দেখেই দরজা বন্ধ করে পেছনের জানালা দিয়ে তিনি ঘরে ডাকাত এসেছে বলে আশপাশের লোকজনকে চিৎকার করে ডাকাডাকি করতে থাকেন। ওই সময় ডাকাতরা আশেপাশের লোকজন চলে আসার ভয়ে দ্রুত স্থান ত্যাগ করে চলে যায়।

নাজমুল হক আলী বলেন, দাসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত ডাকাতরা জানালার গ্রিল কেটে প্রবেশ করে স্বর্ণ, দুটি মোবাইলফোন ও নগদ ৩৫ হাজার টাকা ভয়ভীতি দেখিয়ে লুট করে নিয়ে যায়। ডাকাতদের একজন নাম ধরে তার ছোট ভাই মনসুরকে ডাকে বলেও জানা যায়। ডাকাতির সময় মাজহারুল ইসলাম মনসুর চিৎকার করলে ডাকাতরা ৩ বছর বয়সী শিশু ফাইজা তাফসিন এর গলায় ছুরি দিয়ে হত্যার হুমকি দেয়।

জানা যায়, ওই গ্রামে ডাকাতির ঘটনা এবারই প্রথম। এর আগে বড় ধরনের কোন চুরি কিংবা ডাকাতির ঘটনা খুব একটা ঘটেনি। শান্তিপূর্ণ গ্রামটিতে হঠাৎ এমন ঘটনায় স্থানীয়রা আতঙ্কিত।  

মোস্তফাপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান তাজুল ইসলাম তাজ জানান, বিষয়টি দুঃখজনক ও আতঙ্কের। আমরা এলাকাবাসীকে নিয়ে বৈঠক করে দ্রুত কঠোর পদক্ষেপ নেব।

খবর পেয়ে এরই মধ্যে মৌলভীবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম এন্ড অবস্) সুদর্শন কুমার রায়, সদর থানা পুলিশের ওসি কে এম নজরুল ইসলাম, জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলামসহ ঊর্ধ্বতন পুলিশ কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করা পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, তারা বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে দেখছেন।

মৌলভীবাজারের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মনজুর রহমান (পিপিএম বার) বলেন, পুলিশ তদন্ত করছে, যত দ্রুত সম্ভব আমরা এ ঘটনার রহস্য উন্মোচন করার চেষ্টা করছি।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর