সিলেটের সীমান্তবর্তী গোয়াইনঘাট উপজেলার নলজুড়ী এলাকায় বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশ করে একটি খেলার মাঠ দখলের চেষ্ঠা করে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিএসএফ। এসময় স্থানীয় জনতা বিএসএফকে ধাওয়া করলে তারা পালিয়ে যেতে বাধ্য হয়। এঘটনায় স্থানীয় জনসাধারণের মাধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে।
বৃহস্পতিবার সকালে এঘটনা ঘটে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশের সীমান্তের অভ্যন্তরে স্বাধীনতার পর থেকে বাংলাদেশীদের ব্যবহৃত একটি খেলার মাঠ দখলে নিতে চায় বিএসএফ। ভারতীয় বাহিনীর দাবি, ১৫ বছর আগে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ওই মাঠ ভারতকে হস্তান্তর করেছিলেন। তবে এই দাবি মানতে নারাজ বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্ধারা। মাঠটি স্থানীয় শিশু-কিশোর ও যুবকদের খেলাধুলার একমাত্র স্থান হিসেবে পরিচিত।
বুধবার ও বৃহস্পতিবার সকালে, যখন বিএসএফ সদস্যরা যখন মাঠটি দখল করে মাঠে লাল পতাকা টাঙানোর চেষ্টা কওে তখনই এতে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখান স্থানীয় বাসিন্দারা এবং মাঠে জড়ো হন বিপুল সংখ্যক মানুষ। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।
বিজিবি সদস্যরা উত্তেজনা প্রশমনের চেষ্টা করেন এবং স্থানীয়দের সরে যাওয়ার আহ্বান জানান। তবে স্থানীয়রা মাঠ রক্ষায় অনড় অবস্থান নেন। অপরদিকে, ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকায় বিএসএফের পাশে অবস্থান নেয় খাসিয়া জনগোষ্ঠীর সদস্যরাও। ফলে সীমান্ত এলাকায় যে কোনো সময় বড় ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনার আশঙ্কা করা হচ্ছে।
এদিকে, গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে ভারতে পালিয়ে যান সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এরপর থেকে দলের নেতাকর্মীরা কোণঠাসা হয়ে পড়েছেন। কেউ বিভিন্ন মামলা মাথায় নিয়ে পলাতক রয়েছেন, কেউ বিদেশে পালিয়েছেন। এমন পরিস্থিতিতে শেখ হাসিনার বরার দিয়ে খেলার মাঠ দখল করতে আসায় ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিসএফকে স্থানীয় একজন বাংলাদেশি শাসিয়ে বলছেন, এখানে (বাংলাদেশ) হাসিনা নেই। আপনাদের ইচ্ছেমতো সব হবে না।
অন্যদিকে, সিলেট সীমান্তে সম্প্রতি ঘটেছে এমনই এক ঘটনা, যার ভিডিও সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘুরে বেড়াচ্ছে। ভিডিওতে দেখা যায়, বাঁশ হাতে বাংলাদেশিরা বিএসএফের সঙ্গে কথা বলছে। কথোপকথনের এক পর্যায়ে তারা বাঁশ নিয়ে তাদের ধাওয়া করে। এ সময় একজন বাংলাদেশিকে বলতে শোনা যায়, আপনাদের গায়ে হাত তোলা না হলেও আপনারা বন্দুক কেন তাক করলেন?
তিনি আরও বলেন, এই পাশে (বাংলাদেশে) এখন হাসিনা (সাবেক প্রধানমন্ত্রী) নেই। আপনাদের ইচ্ছেমতো সব হবে না।
সিলেট ব্যাটালিয়ন ৪৮ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. নাজমুল হক বলেন, সীমান্ত এলাকায় সার্ভে নিয়ে বিএসএফ ও স্থানীয় এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছিল। বিজিবি গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।
এই মুহূর্তে সীমান্ত এলাকায় অতিরিক্ত বিজিবি মোতায়েন রয়েছে এবং দুই দেশের সীমান্ত রক্ষীদের মধ্যে পতাকা বৈঠকের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে।
আজকে সিলেট/ডি/এপি
নিউজ ডেস্ক 










