জুলাইয়ে হতাহতের বাড়িতে মৌসুমি ফল দিয়ে ফেরার পথে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরে (মাদারীপুর-গোপালগঞ্জ সীমান্তবর্তী স্থান) হামলার শিকার হয়েছেন মাদারীপুর জেলা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের ৫ নেতা। গুরুতর অবস্থায় তাদের ভর্তি করা হয়েছে হাসপাতালে। ইভটিজিং-এর প্রতিবাদ করায় এই হামলা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে দোষীদের বিচার দাবি করেছেন আহতরা। এরইমধ্যে সিসিটিভি দেখে একজনকে আটক করেছে পুলিশ।
মঙ্গলবার রাতে গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার টেকেরহাট উত্তরপাড়ে এ হামলার ঘটনা ঘটে।
জানা গেছে, জুলাই অভ্যুত্থানে হতাহতের বাড়িতে মৌসুমি ফল পৌঁছে দিয়ে মাদারীপুর জেলার রাজৈর উপজেলার কাশিমপুর থেকে শহরে ফিরছিলেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের নেতাকর্মীরা। রাত ৮ টার দিকে চা-নাস্তা খাওয়ার জন্য টেকেরহাট উত্তরপাড়ে ‘বরিশাল গেট চাইনিজ ও বাংলা রেস্টুরেন্ট’-এ যান তারা। এ সময় রেস্টুরেন্টের সামনে পার্কিং করা মিজান পরিবহনের স্টাফরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-আন্দোলনের নারী সদস্যদের ইভটিজিং করে বলে অভিযোগ তোলা হয়। এর প্রতিবাদ করায় বাসের শ্রমিক ও ছাত্রদের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে তাদের ওপর হামলা চালায় বাসের শ্রমিক ও তাদের লোকজন।
এতে আহত হয় সংগঠনের মুখ্য সংগঠক আশিকুর রহমান হৃদয়, যুগ্ম সদস্য সচিব আশিকুর তামিম আশিক, যুগ্ম আহ্বায়ক মিথিলা ফারজানা নীলা, কিরণ আক্তারসহ ৫ জন।
খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে পুলিশ ও সেনাবাহিনী। পরে আহতদের উদ্ধার করে ভর্তি করা হয়ে মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালে। পরিকল্পিতভাবে এই হামলা চালানো হয়েছে উল্লেখ করে এই ঘটনায় জড়িতদের বিচার দাবি করেছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা। এই ঘটনায় মিজান পরিবহনের সংশ্লিষ্ট কারো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
আহত কিরণ আক্তার বলেন, ‘মেয়েদের ওপর এভাবে হামলা চালাবে এটা বুঝতেও পারিনি। ইভটিজিং-এর প্রতিবাদ করায় এই ঘটনা ঘটেছে। এর উপযুক্ত বিচার চাই। ’
মাদারীপুর ২৫০ শয্যা জেলা হাসপাতালের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক ডা. অখিল সরকার বলেন, ‘মারামারির অভিযোগ নিয়ে ৫ জন ছাত্র হাসপাতালে এসেছেন। তাদের মধ্যে দুইজনকে ভর্তি করা হয়েছে। বাকি তিনজনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ’
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের মাদারীপুর জেলার সদস্য সচিব মাসুম বিল্লাহ বলেন, ‘পূর্ব পরিকল্পিতভাবে আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এই ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করছি। যারা এই হামলা ঘটিয়েছে তাদের চিহ্নিত করা হয়েছে। সিসিটিভিতে তার প্রমাণ রয়েছে। তাদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর থানার ওসি গোলাম মোস্তফা জানান, ঘটনাস্থল থেকে একজনকে আটক করা হয়েছে। বাকিদের ধরতে অভিযান চলছে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
আজকের সিলেট ডেস্ক 








