সাইবার বুলিংয়ের শিকার নারী শিক্ষার্থীরা
বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬, ০১:৩৫ AM

সাইবার বুলিংয়ের শিকার নারী শিক্ষার্থীরা

শাবি প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ২২/০৬/২০২৫ ০৪:৫০:৫৯ PM

সাইবার বুলিংয়ের শিকার নারী শিক্ষার্থীরা


শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ ওঠার পর এ ঘটনার বিচার দাবিতে সোচ্ছার হয়েছেন অনেক শিক্ষার্থী। তবে কেউ কেউ আবার ছাত্রীদেরই সমালোচনা করছেন। বিশেষত সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন ছাত্রীরা। কিছু ফেসবুক গ্রুপ থেকে তাদের বুলিং করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

শাবির সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের এক ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার গভীর রাতে অভিযান চালিয়ে শান্ত তারা আদনান (২৩) ও স্বাগত দাস পার্থ (২২) নামে একই বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ছাত্রকে গ্রেপ্তার করে পুিুলশ। তারা দু'জনই শাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর অভিযোগ এবং বিশ্ববিদ্যালের শৃঙ্খলা-বডি সূত্রে জানা যায়- গত ২ মে সন্ধ্যারাতে সহপাঠী শান্ত তারা আদনান এবং স্বাগত দাস পার্থের সঙ্গে শহরের কনসার্টে যাচ্ছিলেন ওই ছাত্রী। কনসার্টে যাওয়ার পূর্বে তারা ওই ছাত্রীকে সুরমা এলাকার একটি মেসে নিয়ে যান। এ সময় ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে অচেতন করে ধর্ষণ করেন আদনান এবং পার্থ। একইসাথে এই ঘটনার ভিডিও এবং মেয়েটির নগ্ন ছবি ধারণ করেন। পরে ওইসকল ভিডিও ও নগ্ন ছবি দেখিয়ে আদনান এবং পার্থ ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীকে নিয়মিত ব্ল্যাকমেইল করছিলেন এবং ঘটনা জানাজানি করলে ভিডিও ও ছবি অনলাইনে ছেড়ে দেওয়ার হুমকিও দেন।

এ ঘটনা প্রকাশের পর থেকেই অনলাইনে বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন ছাত্রীরা। ফেসবুকে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের নারী শিক্ষার্থীরা ধারাবাহিকভাবে সাইবার বুলিংয়ের শিকার হচ্ছেন।

রোববার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এমন অভিযোগ করেন সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞপ্তি সূত্রে জানা যায়, কিছু ব্যক্তি বিভিন্ন পেইজ ও ফেইক আইডি খুলে সমাজবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশ নেওয়া বিভিন্ন অনুষ্ঠান, উৎসব ও ভ্রমণের সময়ের ধর্ষণ মামলার আসামি ও নারী শিক্ষার্থীসহ অন্যদের একই ফ্রেমের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে অপতথ্য প্রচার করছেন।

এছাড়া নারী শিক্ষার্থীদের ফেসবুক আইডির মেসেঞ্জারে ও অন্যান্য মাধ্যমে অশ্লীল ভাষায় গালাগালিসহ বিভিন্ন ধরণের হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়- গুজব ও বিদ্বেষ ছড়ানো পেইজ ও আইডির মধ্যে উল্লেখযোগ্য কয়েকটি হচ্ছে- ‘প্রটেক্ট মুসলিম সিস্টার্স(বেক-আপ)’, ‘নুসাইবা বিনতে কাব’, ‘সেইভ বিডি মুসলিম গার্লস’, ‘প্রিয় ক্যাম্পাস সাস্ট’, ‘ফাইট এগেইন্স্ট্ হিন্দুত্বভাদ’- প্রভৃতি।

শাবির সমাজবিজ্ঞান বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী জাহিদ হোসেন বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি ধর্ষণের ঘটনার পর থেকে বিভিন্ন জায়গায় আসামি ও নারী শিক্ষার্থীসহ অন্যদের একই ফ্রেমের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে  প্রচার করছে একদল অসাধু। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। গুজব ছড়ানো ব্যাক্তিদের বলতে চাই, আপনারা এসব থেকে বিরত থাকুন। অন্যথায় আমরা আইনের আশ্রয় নিতে বাধ্য হব। 

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর