সিলেট বিভাগজুড়ে তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন স্থবির হয়ে পড়েছে। শহর এলাকায় ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট এবং গ্রামাঞ্চলে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিংয়ের ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ মানুষ।
এই সংকট নিরসনে এবং জনদুর্ভোগ লাঘবে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেটের কর্মকর্তাদের সঙ্গে জরুরি বৈঠক করেছেন বিএনপির কেন্দ্রীয় সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকী।
বুধবার দুপুরে তিনি বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলীর কার্যালয়ে যান। এ সময় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড পিডিবি সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে লোডশেডিংয়ের কারণ, বিদ্যুৎ ঘাটতির পরিমাণ এবং এর সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
মিফতাহ্ সিদ্দিকী বলেন, বর্তমানে সিলেটের সব এলাকায় ১০-১৫ মিনিট পরপর বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে, আবার অনেক এলাকায় এক থেকে দুই ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ থাকে না। এতে জনজীবনে চরম ভোগান্তি নেমে এসেছে। বিশেষ করে চলমান এসএসসি পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় মারাত্মক ব্যাঘাত ঘটছে। পাশাপাশি ব্যবসায়ীরাও আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। তিনি লোডশেডিংকে একটি নির্দিষ্ট শৃঙ্খলার মধ্যে আনার ওপর জোর দিয়ে বলেন, আগে থেকেই সময়সূচি জানিয়ে দিলে মানুষ ও ব্যবসায়ীরা প্রস্তুতি নিতে পারবেন।
তিনি আরও বলেন, সন্ধ্যার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে বিশেষ করে বিকেল ৫টা থেকে রাত ৭টার মধ্যে লোডশেডিং না রাখার বিষয়টি বিবেচনায় নেওয়া উচিত, যাতে ব্যবসায়ীরা নির্বিঘ্নে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারেন।
এ সময় বিদ্যুৎ বিভাগ দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আশ্বাস দিয়েছেন বলে জানান তিনি। একই সঙ্গে বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সিলেটবাসীকে ধৈর্য ধারণ করে সম্মিলিতভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলার আহ্বান জানান মিফতাহ্ সিদ্দিকী।
সিলেটেই শুধু নয় বিভাগের বিভিন্ন উপজেলায় তীব্র লোডশেডিংয়ে জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। শহরে কিছু সময় পরপর বিদ্যুৎ এলেও গ্রামাঞ্চলে পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। সিলেট, সুনামগঞ্জ, হবিগঞ্জ ও মৌলভীবাজারের বিভিন্ন এলাকায় দিনে-রাতে মিলিয়ে ১০ থেকে ১১ ঘণ্টারও বেশি সময় বিদ্যুৎ না থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন মানুষ। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে এসএসসি পরীক্ষার্থীরা। ঘনঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে তাদের পড়াশোনা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তীব্র গরমে শিশু ও বৃদ্ধদের দুর্ভোগও বেড়েছে কয়েকগুণ।
সিলেটে ঘনঘন লোডশেডিংয়ের বিষয়ে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী ইমাম হোসেন কালবেলাকে বলেন, প্রয়োজনের তুলনায় কম বিদ্যুৎ আমরা পাচ্ছি। তীব্র গরমের কারণে চাহিদাও বেড়ে গেছে। এরমধ্যে প্রতিদিন ঝড়বৃষ্টি হচ্ছে। বাধ্য হয়ে বিদুৎ সরবরাহ বন্ধ রাখতে হয়।
তিনি বলেন, গ্রাহকরা যতটুকু প্রয়োজন ততটুকু যেন ব্যবহার করেন। দেখা যায় অপ্রয়োজনীয় লাইট ফ্যান ব্যবহার করেন। এ কাজটা করা যাবে না। অনেকে বলেন, বিদ্যুৎ বিল আমি দিই যা ইচ্ছা তাই ব্যবহার করব। এ মানসিকতা পরিহার করতে হবে। সিলেটে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে পারলে মানসিক শান্তি পেতেন বলে তিনি জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) সিলেট বিভাগের প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ ইমাম হোসেন, সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও সিলেট ব্যবসায়ী সমিতির সহ-সভাপতি আব্দুল আজিজসহ বিভিন্ন প্রকৌশলীরা।
আজকের সিলেট/এপি
নিউজ ডেস্ক 








