সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (সিকৃবি) কমিটি দিয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি মো. রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাসির উদ্দীন নাসির ৪৫ সদস্যের এই আহবায়ক কমিটি অনুমোদন দেন। ক্যাম্পাসে কমিটি দেওয়ায় শিক্ষার্থীদের একটি ক্ষুদ্র অংশের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। এনিয়ে ওই রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ে বিক্ষোভ কর্মসূচি করেছেন শিক্ষার্থীদের এই অংশটি।
কমিটিতে ভেটেরিনারি অনুষদের ২০১২ -১৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী মো. সানাউল হোসেন সনি আহবায়ক ও কৃষি অর্থনীতি ও ব্যবসায়িক শিক্ষা অনুষদের ২০১২-১৩ শিক্ষাবর্ষের সোহান তালুকদারকে সদস্য সচিব করা হয়েছে।
এর আগে গত বছরের ১৫ আগস্ট বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অফিস আদেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে সবধরনের রাজনীতি নিষিদ্ধের কথা জানানো হয়।
অফিস আদেশে বলা হয়, ‘গত ১৪ আগষ্ট অনুষ্ঠিত ডিন কাউন্সিলের জরুরি সভার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী বিশ্ববিদ্যালয়ে সকল রাজনৈতিক সংগঠন এবং এর কার্যক্রমকে নিষিদ্ধ করা হলো। কোন শিক্ষার্থী ও শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারী কোন ধরনের রাজনৈতিক সংগঠন ও এর কার্যক্রমের সাথে সম্পৃক্ততা থাকলে তার বিরুদ্ধে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
রাজনীতি নিষিদ্ধ ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের কমিটি দেওয়ায় ক্ষোভ জানিয়ে ভেটেরিনারি অনুষদের শিক্ষার্থী মো. ইমাম হোসেন বলেন, বিগত বছরগুলোতে আমরা ছাত্র রাজনীতির কুফল দেখতে পেয়েছি। এর বিরুদ্ধে সবাইকে নিজ জায়গা থেকে এগিয়ে আসতে হবে। ছাত্রদলের তরফ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে যে পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করার নির্দেশ দেয়া হয়েছে এটি যেন বাতিল করা হয় এবং প্রশাসন যেন এটার উপর যথাযথ নজরদারি রাখে এবং উপযুক্ত ব্যবস্থা নেয়।
কৃষি অনুষদের মো. সানোয়ার হোসেন বলেন, ক্যাম্পাসে রাজনীতি আমরা দেড় মাস ধরে আন্দোলন করে নিষিদ্ধ করিয়েছি। তবুও ছাত্রদল কমিটি দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রুলস ভেঙ্গেছে।
সিকৃবি ছাত্রদলের নতুন আহবায়ক মো. সানাউল হোসেন সনি বলেন, আমরা আগেও কার্যক্রম বাহিরে করেছি। আর এখনও বাইরে করবো যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের অভ্যন্তরে সকলধরনের রাজনীতি, সভা, সমাবেশ নিষিদ্ধ। কিন্তু, গতকাল রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভেতরে গুপ্ত সংগঠনের কর্মীরা কয়েকজন জুনিয়র ছাত্রদের নিয়ে বিক্ষোভ করেছে। এটা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইনে নিষিদ্ধ। আমরা এটা প্রশাসনকে জানিয়েছি। তারা দেখি কি ব্যবস্থা নেয়।
সিকৃবি প্রক্টর প্রফেসর ড. জসিম উদ্দিন আহামেদ জানান, ক্যাম্পাসের ভেতরে সকলধরনের প্রকাশ্য ও গোপন রাজনীতি নিষিদ্ধ রয়েছে। শুনেছি ছাত্রদল কেন্দ্র থেকে কমিটি দিয়েছে। কিন্তু প্রশাসন এবিষয়ে কিছু জানে না। আমরা আজ প্রশাসনিক মিটিংয়ে বসেছিলাম, সেখানে এটা নিয়ে কথা হয়েছে। যেহেতু আমাদের সিন্ডিকেট কর্তৃক ক্যাম্পাসে প্রকাশ্য রাজনীতি করা নিষিদ্ধ, ওইটাতে আমরা বলবৎ আছি এবং আবারো এই নোটিশ আমরা দিয়ে দিবো। আর কেউ যদি কোনো রাজনৈতিক কার্যক্রম ক্যাম্পাসে করে, তাহলে সেটার বিরুদ্ধে আমরা ব্যবস্থা নিবো।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
সিকৃবি প্রতিনিধি 








