হকারদের দখলে আধ্যাতিক নগরী, চলছে রমরমা চাঁদাবাজি
শনিবার, ০২ মে ২০২৬, ০৭:৫৮ AM

নগরজুড়ে অসহনীয় যানজট-জনজট

হকারদের দখলে আধ্যাতিক নগরী, চলছে রমরমা চাঁদাবাজি

আহমেদ পাবেল

প্রকাশিত: ২৩/০২/২০২৪ ০৯:৫৩:৪৭ AM

হকারদের দখলে আধ্যাতিক নগরী, চলছে রমরমা চাঁদাবাজি


বেদখল হয়ে আছে নগরের বেশির ভাগ ফুটপাত। ফুটপাতে পণ্যের পসরা নিয়ে বসেছে ভাসমান ব্যবসায়ীরা। ফুটপাত ছাপিয়ে সড়কের অনেকাংশও তাদের দখলে। ফলে পথচারীদের হাঁটাচলারও সুযোগ নেই। এ ছাড়া নগরজুড়েই লেগে থাকছে ভয়াবহ যানজট। হকারদের উপদ্রব আর যত্রতত্র গাড়ি পার্কিং- যানজট আরও বাড়িয়ে তুলছে।

নগরের জিন্দাবাজার এলাকার সিলেট সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজের দেয়ালগুলো হকারদের পণ্যের আড়ালে ঢাকা পড়েছে। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির পাঠদান শেষ হওয়ার পর প্রতিদিন বিকেল ৪টার পর থেকে স্কুলের প্রধান ফটক খুঁজে পাওয়া দুস্কর হয়ে যায়। সিঁড়ির ধাপের মতো থরে থরে উঁচু করে জুতা সাজিয়ে রাখায় আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় বিদ্যালয়ের বিশাল ফটকটি। বিষয়টি নিয়ে পথচারীদের সমালোচনা করতে দেখা গেলেও কোনো প্রতিকার নেই।

ছাত্রছাত্রীদের অভিবাবকরা বলছেন স্কুলের সামনে এ রকম হলে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা কিভাবে করবে। স্কুল থেকে বের হলেই পাচ্ছে জুতার ব্যবসা, তাদের কী কোনা অধিকার নেই। স্কুল কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব আছে।

সরকারি অগ্রগামী বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের একজন শিক্ষক বলেন, হকাররা যে যায়গা দখল করেছে তাদের কে ব্যক্তিগত ভাবে বলেছি এটা আমার স্কুলের রাস্তা, লিখাই আছে যানবাহন রাখা নিষেধ জুতার দোকান তো প্রশ্নই উঠে না। একটা যায়গায় বসে সেটা ফুটপাতে বসে উচ্ছেদের কাজ চলতেছে। সিসিক বলেছেন অতি সম্পীতি সব হকারকে উচ্ছেদ করা হবে। আপনি সাহস করে অদেরকে উঠিয়ে দেন।

নগরের কোর্ট পয়েন্টের ফুট ওভারব্রিজে দাঁড়িয়ে নিচে তাকালে মনে হবে কোনো বাজারের মাঝখান দিয়ে যানবাহন ঢুকে পড়েছে। বিশেষ করে সন্ধ্যার পর ফুটপাত আর সড়কের দুই পাশে দু-তিন সারিতে ভাসমান দোকানপাট মিলে রীতিমতো বাজারে রূপ নেয়। শুধু কোর্ট পয়েন্টই নয়, নগরের চৌহাট্টা থেকে কোর্ট পয়েন্ট হয়ে সুরমা পয়েন্ট ধরে কিনব্রিজের মুখ পর্যন্ত প্রায় একই চিত্র। এতে পথচারীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়, নগরজুড়ে সারাক্ষণ থাকে অসহনীয় যানজট।

এদিকে, ফুটপাত ঘিরে চলছে রমরমা চাঁদাবাজি। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, জেলা পরিষদের সামন থেকে দোকান প্রতি ১০০ টাকা চাঁদা তোলেন সুমনের ভাই রুমন, তার আরেক ভাই তোলেন সুরমা মার্কেটের সামনে থেকে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যন্ত ১০০ টাকা করে এবং রেজিস্ট্রারী মাঠ থেকে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে লাহিন ও কাল্লু দোকান প্রতি তোলেন লাহিন তোলেন ১০০ টাকা আর কাল্লু তোলেন ৩০ টাকা করে, কোর্ট পয়েন্টে চাঁদা তোলেন আব্দুল মোমেন।

মুক্তিযোদ্ধা গলির সামনে ফারুক তোলেন ১০০ টাকা করে , এবং চৌহাট্টা আল হামরা আশপাশে মিজান তোলেন ১০০ টাকা করে , দুর্গাকুমার স্কুলের সামনে গেদু তোলেন ১০০ টাকা ও হাসান মার্কেটের সামনে উজ্জ্বল তোলেন ১৫০ টাকা করে দাঁড়িওয়ালা একরাম তোলেন ১২০ টাকা করে এবং তাদের সহযোগী ছাব্বির লোকমান, জামাল জড়িত তাদের সাথে। বর্তমানে এসব চাঁদা যায় হকার্স লীগ ও হকার্স দলের তিন নেতার পকেটে।

নগরের সড়ক ও ফুটপাত দেখভাল করার দায়িত্ব সিসিকের। অথচ খোদ সিসিকের প্রধান ফটক থেকে শুরু নগর ভবনের সামনের অংশও রক্ষা পায়নি হকারদের দখল থেকে। দেখা গেছে, বন্ধ থাকা প্রধান ফটকের দুই পাশে সানগ্লাসের পসরা নিয়ে বসেছেন দুই হকার। তাঁদের পাশে তালা-চাবির একাধিক কারিগর বসেছেন। পশ্চিম পাশের ফটক ছাড়াও নগর ভবনের সামনের প্রায় পুরোটাই সবজি বিক্রেতাদের দখলে। কেউ টুকরি নিয়ে কেউ ঠেলায় করে সেখানে সবজি বিক্রি করছেন।

তবে গতকাল বৃহষ্পতিবার লালদিঘির পার হকার পুনর্বাসন এলাকা পরিদর্শন কালে সিসিক মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী বলেছেন, আসন্ন রমজান মাসের পূর্বেই হকার সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।

আজকের সিলেট/পিএ/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর