টানা বর্ষণ ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেটের নদ-নদীর পানি বেড়েই চলেছে। এতে সিলেট ও সুনামগঞ্জে বোরো ফসলের ক্ষয়ক্ষতি আরও বৃদ্ধির পাশাপাশি বন্যার শঙ্কা রয়েছে। তবে প্রাক-বর্ষাকালে এখন পর্যন্ত কোনো নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেনি।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, সিলেটের ছয়টি পাহাড়ি নদী সুরমা, কুশিয়ারা, পিয়াইন ও সারিগোয়াইন, লোভাছড়া, ধলাই’ র ১১টি পয়েন্টে ১০টিতে ঘণ্টায় ঘণ্টায় পানিবৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে এখনই বন্যার আশঙ্কা করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস।
পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, বৃহস্পতিবার দুপুর ১২টায় সিলেটের সুরমা নদীর কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমা নীচে থাকলেও ৭ দশমিক ৩ সেন্টিমিটার থেকে বেড়ে ৭ দশমিক ০৭ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল।
একই সময়ে সুরমা সিলেট পয়েন্টেও পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও ৩ সেন্টিমিটার বেড়ে ৫ দশমিক ৮৮ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হয়। কুশিয়ারা নদীতে বিয়ানীবাজার শেওলা পয়েন্টে ৭ দশমিক ৮৪ সেন্টিমিটার, ফেঞ্চুগঞ্জে ৬ দশমিক ৯১ সেন্টিমিটার, শেরপুরে ৬ দশমিক ২০ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। এছাড়া সারিগোয়াইন সারিঘাটে ৫ দশমিক ৪৫ সেন্টিমিটার ও গোয়াইনঘাটে ৫ দশমিক ১৩ সেন্টিমিটার, পিয়াইন জাফলং পয়েন্টে ৫ দশমিক ১১ সেন্টিমিটার, লোভাছড়া কানাইঘাটে ৭ দশমিক ৫৭ সেন্টিমিটার এবং কোম্পানীগঞ্জের ইসলামপুর ধলাই নদী ৫ দশমিক ৪৯ সেন্টিমিটার দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর সিলেটের তথ্যমতে, গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেটে ২৮ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত হয়েছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, বৃহস্পতিবার সিলেটে বৃষ্টিপাত না হলেও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে সিলেট ও সুনামগঞ্জের নিম্নাঞ্চলে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত আছে। এভাবে পানি বাড়তে থাকলে বিশেষ করে সুনামগঞ্জ হাওর বাওরে বোরো ধানের ক্ষতি আরো বৃদ্ধি পাবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সিলেট অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক ড. মো. মোশাররফ হোসেন বলেন, বৃষ্টির কারণে সিলেট বিভাগে প্রায় ২০ হাজার হেক্টর বোরো পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। শুধু সুনামগঞ্জেই পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে ১৩ হাজার ৪৮৭ হেক্টর বোরো ফসল। পানি বাড়লে ক্ষতির পরিমাণ আরো বাড়বে। বিশেষ করে প্রান্তিক কৃষকরা বেশি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন। দ্রুত ধান কাটতে না পারলে ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। তবে আরও একটি সপ্তাহ সময় পেলে কৃষকরা পাকা ধান গোলায় তুলতে পারতেন।
সিলেট পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী দীপক রঞ্জন দাস বলেন, প্রাক-বর্ষা মৌসুমে বৃষ্টিপাত ও উজানের ঢলের কারণে নদীর পানি ধীরে ধীরে বাড়া স্বাভাবিক। বর্তমানে সব নদীর পানি বিপৎসীমার নিচে থাকলেও উজানে বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকায় পানি আরও বাড়তে পারে। তবে এখনই বন্যার আশঙ্কা করা যাচ্ছে না।
এদিকে, আবহাওয়ার পূর্বাভাস থাকলেও বুধবার দিবাগত রাত থেকে সিলেট ও সুনামগঞ্জে তেমন বৃষ্টিপাত হয়নি। ৫ দিন পর বৃহস্পতিবার দিনভর রৌদ্রোজ্জ্বল থাকায় কৃষককূলে কিছুটা হলেও স্বস্তি ফিরেছে। রোদ উঠায় অনেকে কেটে রাখা ধান শুকানো, মাড়াই-ঝাড়াইয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সুনামগঞ্জে ইব্রাহিমপুর এলাকার বাসিন্দা মো. ইকবাল বলেন, কয়েকদিন ধরে বৃষ্টির কারণে ধান কাটা ব্যাহত হচ্ছে। নদীর পানি বাড়তে থাকায় দুশ্চিন্তা আরও বাড়ছে।
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, সুনামগঞ্জের কচড়ার হাওর, শনির হাওর, দেখার হাওর, কালিয়াকুটা, বরাম হাওর, চাপতি হাওর, উদগল হাওর, হুরমন্দিরা, টাংনি, দাভাঙা, বাদালিয়া, ছায়া হাওর ও কাইছমা হাওরে হাজার হাজার হেক্টর ধান পানিতে নিমজ্জিত হয়েছে। এতে হাজার হাজার কৃষক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
নিউজ ডেস্ক 








