সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতির পদ নিয়ে ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে। কেই বলছেন নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইনকে পুনরায় সভাপতির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে, আর কেউ বলছেন নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি পদে বহাল রয়েছেন সাবেক প্যানেল মেয়র (১) রেজাউল হাসান কয়েস লোদী। দলের সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর স্বাক্ষর করা দুটি পৃথক চিঠি নিয়ে এই ধুম্রজালের সৃষ্টি হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা যায়, মহানগর বিএনপির কাউন্সিলের নাসিম হোসাইন সভাপতি, ইমদাদ হোসেন চৌধুরী সাধারণ সম্পাদক ও সৈয়দ সাফেক মাহবুব সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হন। এর পর ২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লব চলাকালিন সময়ে আওয়ামীলীগের পতনের চুড়ান্ত আন্দোলন চলাকালে দেশ ছেড়ে নিরবে বিদেশে পাড়ি দেন নাসিম হোসাইন। দলের সেই দুঃসময়ে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির বর্তমান সহ সাংগঠনিক সম্পাদক মিফতাহ্ সিদ্দিকীকে মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব প্রদান করা হয়। ছাত্রজনতার গণঅভ্যূত্থানের পর রেজাউল হাসান কয়েস লোদীকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি করে মহানগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদন করেন দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সেই কমিটিতে সভাপতি হিসেবে নাসিম হোসাইনের নাম ছিলনা, এমনকি সভাপতির পদও ছিলনা।
দীর্ঘ প্রায় ১৪ মাস পর গতকাল বুধবার রাতে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- '(২) দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ এবং দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কার্যকলাপের জন্য সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাছিম হোসেইন এর দলের প্রাথমিক সদস্যসহ সকল পর্যায়ের পদ স্থগিত করা হয়েছিল। আবেদনের প্রেক্ষিতে দলীয় সিদ্ধান্ত মোতাবেক আজ ২৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ তার পদের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছে।'
এই সংবাত বিজ্ঞপ্তির পর গতকাল রাত থেকে নাসিম হোসাইনের শুভাকাঙ্খীরা তার বাসায় গিয়ে গিয়ে শুভেচ্ছা বিনিময় করা শুরু করেন। এমনকি তিনি নিজেও আজ থেকে নগর বিএনপির সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন বলে গণমাধ্যমকে জানান।
কিন্তু বৃহষ্পতিবার সন্ধ্যা থেকে প্রেক্ষাপট পরিবর্তন হয়ে যায়। বিকেলে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়- 'ভুলবশত: গতকাল ২৬ নভেম্বর ২০২৫ তারিখ সিলেট মহানগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাছিম হোসেইন এর স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার করা হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, মূলত: পূর্বে নাছিম হোসেইন এর দলীয় পদ স্থগিত ছিলোনা।'
দলীয় একাধিক সূত্রের সাথে কথা বলে জানা যায়, বৃহষ্পতিবার গণমাধ্যমে পাঠানো সর্বশেষ সংবাদ বিজ্ঞপ্তিটি সঠিক। কারন এই বিজ্ঞপ্তিতে নাসিম হোসাইনকে নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। আর অনুমোদিত কমিটিতে যেহেতু নাসিম হোসাইনের নামই ছিলনা তাই পদ স্থগিত থাকার সুযোগ নেই। সুতরাং রেজাউল হাসান কয়েস লোদীই ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন।
বিএনপির বেশ কয়েকটি সূত্র বলছে, আন্দোলনের মুখে দলের কর্মীদের রেখে নাসিম হোসাইন বিদেশে চলে যাওয়ার পর মিফতাহ্ সিদ্দিকী নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন। নগর বিএনপির পূর্ণাঙ্গ কমিটি অনুমোদনের পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষ থেকে নগর বিএনপির হাল ধরায় মিফতাহ্ সিদ্দিকীকে ধন্যবাদপত্রও পাঠানো হয়। নাসিম হোসাইনকে যদি স্বপদে বহাল করা হতো তাহলে দলের সভাই বিষয়টি জানতেন।
বিষয়টি নিয়ে জানতে নগর বিএনপির সাবেক সভাপতি নাসিম হোসাইনের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল দেয়া হলেও তিনি রিসিভ করেননি।
বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে নগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী বলেন, আমি দলের পক্ষ থেকে এরকম কোন নির্দেশনা পাইনি। তাই ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবেই সাংগঠনিক দায়িত্ব পালন করছি।
সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক (সিলেট বিভাগ) জিকে গউস বলেন, দলের সাংগঠনিক দায়িত্বপ্রাপ্ত হিসেবে নাসিম হোসাইনকে নগর বিএনপির সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করার কোন নির্দেশনা আমার কাছে আসেনি। একমন নির্দেশনা দেয়া হলে অবশ্যই আমার কাছেও আসবে।
আজকের সিলেট/এসটি
নিজস্ব প্রতিবেদক 








