সিলেট জেলা স্টেডিয়ামে শিশু-কিশোরদের উচ্ছ্বাসে মুখর পরিবেশে দীর্ঘ ১৯ বছর পর শুরু হলো ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে দীর্ঘ বক্তৃতার পরিবর্তে শিশুদের সঙ্গে প্রাণবন্ত আলাপে মেতে ওঠেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার বিকেলে আয়োজিত অনুষ্ঠানে গ্যালারিভর্তি শিশু-কিশোরদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আজকের অনুষ্ঠানের চিফ গেস্ট কারা জানো? তোমরা, যারা এখানে বসে আছো। তোমরাই আজকের প্রধান অতিথি। তোমরাই বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ।
প্রধানমন্ত্রী জানান, প্রায় সাড়ে চার বছর আগে লন্ডনের একটি রেস্টুরেন্টে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হকের সঙ্গে আলোচনার সময় ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’-এর ধারণার জন্ম হয়। সেই স্বপ্নই আজ বাস্তবে রূপ নিয়েছে।
শিশুদের উদ্দেশে তারেক রহমান বলেন, তোমরা খেলাধুলার মাধ্যমে সারা বাংলাদেশকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরবে। তোমরা প্রত্যেকে বাংলাদেশের একজন অ্যাম্বাসেডর।
তিনি পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলার গুরুত্ব তুলে ধরে বলেন, পড়াশোনার কোনো বিকল্প নেই। তবে একই সঙ্গে খেলাধুলাও করতে হবে। যে খেলোয়াড় হতে চায়, তাকে খেলোয়াড় হতে হবে। যে গায়ক হতে চায়, তাকে গায়ক হতে হবে। রাষ্ট্র সেই পথ তৈরি করে দেবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, তোমাদের মধ্য থেকেই আন্তর্জাতিক মানের খেলোয়াড়, ডাক্তার, আইনজীবী, প্রকৌশলী ও স্থপতি তৈরি হবে। তোমাদের মধ্য থেকেই একদিন এমপি, মন্ত্রী, প্রধানমন্ত্রী, এমনকি প্রেসিডেন্টও হবে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্টের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, এই দেশের ছাত্রজনতা দেশকে নতুন পথ দেখিয়েছে। এখন সেই পথে এগিয়ে যাওয়ার দায়িত্ব তোমাদের।”
প্রধানমন্ত্রী শিশুদের সঙ্গে এক আবেগঘন শপথে অংশ নেন। তিনি বলেন, এই বাংলাদেশ তোমার। এই বাংলাদেশকে গড়ে তুলবে তুমি। বিশ্বের বুকে পরিচিত করবে তুমি।
অনুষ্ঠানে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানান, ক্রিকেট, ফুটবল, কাবাডি, অ্যাথলেটিক্স, দাবা, ব্যাডমিন্টন, সাঁতার এবং মার্শাল আর্ট-এই আটটি ইভেন্টে সারাদেশে প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি বলেন, ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের দক্ষ খেলোয়াড় গড়ে তোলার একটি যুগান্তকারী উদ্যোগ এবং শক্তিশালী প্ল্যাটফর্ম।
শিশু-কিশোরদের স্বপ্ন, প্রতিভা ও সম্ভাবনাকে বিকশিত করার লক্ষ্যেই ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ নতুন করে যাত্রা শুরু করল। এই আয়োজন দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে বলে সংশ্লিষ্টদের প্রত্যাশা।
আজকের সিলেট/এপি
নিজস্ব প্রতিবেদক 








