হবিগঞ্জ-১ (নবীগঞ্জ-বাহুবল) আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী অর্থনীতিবিদ রেজা কিবরিয়া ও দলের বিদ্রোহী প্রার্থী, সাবেক সংসদ সদস্য শেখ সুজাত মিয়ার মধ্যে অর্থসম্পদে বড় ব্যবধান দেখা গেছে। হলফনামা অনুযায়ী, রেজা কিবরিয়ার বার্ষিক আয় সুজাতের তুলনায় প্রায় ছয়গুণ এবং স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ প্রায় দ্বিগুণ।
রেজা কিবরিয়া ও তার তিন নির্ভরশীলের বাৎসরিক আয় ৩১ লাখ ১ হাজার ৬৪৬ টাকা। নিজের নামে অস্থাবর সম্পদ ৩ কোটি ৫১ লাখ ১৫ হাজার ৮৩৬ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৪ কোটি ১৫ হাজার টাকা রয়েছে।
ধানমন্ডিতে তার একটি ফ্ল্যাট রয়েছে। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩ কোটি ২৩ লাখ ৩৪ হাজার ৬২৩ টাকার স্থাবর সম্পদ, ২ কোটি ১৬ লাখ ২০ হাজার টাকার অন্যান্য সম্পদ এবং ১২৫ ভরি স্বর্ণালঙ্কার। সব মিলিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মোট সম্পদ ১৫ কোটি ৪০ লাখ ৮৫ হাজার ৪৫৯ টাকা। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য নেই। তিনি অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শনশাস্ত্রে ডক্টরেট ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
অন্যদিকে, শেখ সুজাত মিয়া কৃষি, বাড়িভাড়া ও অন্যান্য খাত থেকে বছরে ৬ লাখ ৫০ হাজার টাকা আয় দেখিয়েছেন। তার অস্থাবর সম্পদ ৯৮ লাখ ৪ হাজার ৫২৯ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ৫ কোটি ৭৩ লাখ ৭৯ হাজার টাকা। সব মিলিয়ে মোট সম্পদ ৬ কোটি ৭১ লাখ ৮৩ হাজার ৫২৯ টাকা।
কিছু যৌথ সম্পদের উল্লেখ থাকলেও স্ত্রী বা নির্ভরশীলদের নামে কোনো সম্পদ দেখাননি। পেশা হিসেবে তিনি ব্যবসা উল্লেখ করেছেন। তিনি পাঁচটি মামলার আসামি ছিলেন। এর মধ্যে চারটি মামলায় অব্যাহতি এবং একটি মামলা নিষ্পত্তি হয়েছে। যুক্তরাজ্য থেকে জেনারেল সার্টিফিকেট অব সেকেন্ডারি এডুকেশন অর্জন করেছেন।
জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী মো. শাহজাহান আলী বছরে ৮ লাখ ২০ হাজার ৮৮৫ টাকা আয় দেখিয়েছেন। তার অস্থাবর সম্পদ ২২ লাখ ৩০ হাজার ৬৬১ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ ১ লাখ ৭৩ হাজার ৯৭৪ টাকা। স্ত্রীর নামে রয়েছে ৩ লাখ টাকার স্বর্ণ। তার বিরুদ্ধে থাকা ৩৭টি মামলার মধ্যে ১৪টি থেকে খালাস, ১৯টি থেকে অব্যাহতি এবং একটি মামলা বিচারাধীন। তিনি স্নাতকোত্তর ডিগ্রিধারী ও পেশায় শিক্ষক।
খেলাফত মজলিসের প্রার্থী মাওলানা সিরাজুল ইসলাম দাওরায়ে হাদিস পাস। তার বাৎসরিক আয় ৭ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। অস্থাবর সম্পদ প্রায় ১৩ লাখ টাকা এবং স্থাবর সম্পদ প্রায় দুই কোটি টাকা। তবে তার ২৯ লাখ টাকা ঋণ রয়েছে। পেশা হিসেবে শিক্ষকতা উল্লেখ করেছেন।
বাসদের প্রার্থী কাজী তোফায়েল আহমেদ নিজেকে সাংবাদিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন। তার নিজের ও নির্ভরশীলদের বাৎসরিক আয় প্রায় ১৫ লাখ টাকা। নিজের নামে ৪২ লাখ এবং স্ত্রীর নামে ৫৭ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদ রয়েছে। তার স্থাবর সম্পদ রয়েছে প্রায় দেড় লাখ টাকার।
কামিল পাস প্রার্থী বদরুর রেজা বাৎসরিক আয় ৩ লাখ ৭৮ হাজার ৮৪৩ টাকা দেখিয়েছেন। তার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ প্রায় এক লাখ টাকা। তার বিরুদ্ধে কোনো মামলার তথ্য নেই।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি 








