দিরাই-শাল্লায় বিএনপির প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশা, বাড়ছে বিভক্তি
বুধবার, ২১ জানুয়ারী ২০২৬, ০৭:২৬ PM

দিরাই-শাল্লায় বিএনপির প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশা, বাড়ছে বিভক্তি

দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১০/০১/২০২৬ ১১:১৭:১১ AM

দিরাই-শাল্লায় বিএনপির প্রার্থী নিয়ে ধোঁয়াশা, বাড়ছে বিভক্তি


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সুনামগঞ্জ-২ (দিরাই-শাল্লা) আসনে বিএনপির মনোনয়ন নিয়ে স্থানীয় রাজনীতিতে নতুন উত্তাপ ও টানাপড়েন তৈরি হয়েছে। আর ভোটারদের মধ্যে দেখা দিয়েছে ধোঁয়াশা।

এ আসনে প্রথমে সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দিন চৌধুরীকে ও পরে জেলা বিএনপির সাবেক উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেলকে মনোনয়ন প্রদান করে বিএনপি। দুইজনই নির্বাচন কমিশনে মনোনয়নপত্র দাখিল করেছেন। একই আসনে দুই দলীয় প্রার্থী থাকা তৃণমূল নেতাকর্মী ও দায়িত্বশীল মহলে বিভ্রান্তি এবং প্রশ্ন তৈরি করেছে কাকে চূড়ান্ত করবে দল।

দলীয় সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্রীয় পর্যায়ের সিদ্ধান্ত স্পষ্ট না হওয়ায় মাঠপর্যায়ে কার্যত দুইটি বলয় সক্রিয় রয়েছে। এর ফলে একদিকে যেমন সংগঠনের ঐক্য প্রশ্নের মুখে পড়েছে, অন্যদিকে তৃণমূলের কর্মীরা কোন নেতৃত্বের অধীনে কাজ করবেন সে বিষয়ে নিশ্চিত হতে পারছেন না। অনেক নেতাকর্মীর অভিমত, নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, সিদ্ধান্তহীনতা ততই বিএনপির জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।

অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ নাছির উদ্দিন চৌধুরীর এলাকায় ব্যক্তি ইমেজ রয়েছে। তার নিজস্ব ভোটব্যাংকও আছে। তবে তিনি রোগে আক্রান্ত। একারণে দীর্ঘদিন রাজনীতিতেও নিষ্ক্রিয় ছিলেন। ফলে ভোটের মাঠে নাছির চৌধুরী কতোটা সক্রিয় হতে পারবেন এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

অপরদিকে, তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল অপেক্ষাকৃত তরুণ। দলের তরুণ অংশের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা রয়েছে। অতীতে বিভিন্ন দুর্যোগেও তৃণমূলের পাশে ছিলেন পাভেল। ফলে স্থানীয় রাজনীতিতে নিজস্ব একটি অবস্থান তৈরি করতে সক্ষম হয়েছেন তিনি।

শাল্লা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক সিরাজুল ইসলাম সিরাজ বলেন, দলের প্রতিকূল সময়ে যাদের দেখা যায় তারা-ই সংগঠনের শক্তি।

নাছির চৌধুরী বলয়ের নেতা হিসেবে পরিচিত ভাটিপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি সৈদুর রহমান তালুকদার বলেন, দল যদি দ্রুত চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে না পৌঁছায়, তাহলে মাঠের কর্মীরা দিকনির্দেশনা হারাবে এবং এর সুবিধা নেবে প্রতিপক্ষ।

অন্যদিকে, পাবেল চৌধুরী বলয়ের নেতা শাল্লা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক আব্দুল করিম মাস্টার বলেন, করোনা ও বন্যায় মানুষের পাশে থাকার কারণে পাবেল চৌধুরীর রাজনৈতিক গ্রহণযোগ্যতা বেড়েছে। নেতাকর্মী ও ভোটারদের সাথে সরাসরি সংযোগ আছে।

দিরাই উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ও মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল কাইয়ূম বলেন, এই আসনে জামায়াতের অ্যাডভোকেট শিশির মনির শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছে। তাকে মোকাবিলা করতে হলে সক্ষম ও মাঠপর্যায়ে সক্রিয় প্রার্থী দরকার।

দিরাই পৌর বিএনপির আহ্বায়ক মিজানুর রহমান মিজান বলেন, নেতা শুধু নির্বাচনের দিনে নয়, দুর্দিনে রাজপথে পাওয়া যায়। এমন নেতাকেই আমরা চাই।

দিরাই-শাল্লা আসনে জামায়াতে ইসলামের প্রার্থী এডভোকেট শিশির মনির মাঠ কাজ শুরু করেছেন আগেই।

এ ব্যাপারে তাহির রায়হান চৌধুরী পাবেল বলেন, আমি বিশ্বাস করি দল আমাকেই চূড়ান্ত মনোনয়ন দেবে। প্রথমে দিরাই-শাল্লা আসন স্থগিত ছিল, পরে নাছির চৌধুরীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়। মনোনয়ন দাখিলের একদিন আগে দল আমাকে নমিনেশন দেয়। আমি জমা দিয়েছি। এখন দেখা যাক দল কী সিদ্ধান্ত নেয়।

নাছির উদ্দিন চৌধুরী সম্পর্কে তিনি বলেন, আমার চাচা নাছির উদ্দিন চৌধুরী অত্যন্ত অসুস্থ। বয়সের ভারও রয়েছে। এই বাস্তবতায় দলই চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।

তিনি বলেন, দিরাই-শাল্লার নির্বাচন হচ্ছে স্বাধীনতার পক্ষে ও বিপক্ষের নির্বাচন। দিরাই-শাল্লার ৯৫% মানুষ স্বাধীনতার পক্ষে। আমি মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে বিশ্বাস করি, এই জনগণ আমাকেই ভোট দেবে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর