জৈন্তাপুরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধার
রবিবার, ১৭ মে ২০২৬, ০৭:১১ PM

সীমান্তে নিরাপত্তা নিয়ে জনমনে উদ্বেগ

জৈন্তাপুরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধার

ইমাম উদ্দিন, জৈন্তাপুর থেকে

প্রকাশিত: ১৪/০১/২০২৬ ০৩:১৫:৪০ PM

জৈন্তাপুরে উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক উদ্ধার


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন আগামী ফেব্রুয়ারিতে। এমন গুরুত্বপূর্ণ সময়ে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিস্ফোরক দ্রব্য উদ্ধারের ঘটনায় সীমান্তে নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।

সিলেট-তামাবিল মহাসড়কের পশ্চিম পাশে জৈন্তাপুর উপজেলার কাটাগাং এলাকায় একটি পরিত্যক্ত টিনের ঘর থেকে বিপুল পরিমাণ বিস্ফোরক উদ্ধার করেছে র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)-৯। 

র‍্যাব-৯ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই স্থান থেকে ১৪টি ইন্ডিয়ান পাওয়ার জেল এবং ১৪টি নন-ইলেকট্রিক ডেটোনেটর উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত বিস্ফোরক দ্রব্যগুলোর গায়ে ভারতীয় ভাষায় “এস.বি.এল এনার্জি লিমিটেড” লেখা রয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, বিস্ফোরকগুলো ভারতের নাগপুর অথবা নাগাল্যান্ড অঞ্চল থেকে আসতে পারে।

র‍্যাব-৯-এর অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ভাস্কর সাহা জানান, গোয়েন্দা তথ্যে জানা গেছে, আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে  দেশের শীর্ষ সন্ত্রাসী কিংবা নাশকতাকারী চক্র এসব বিস্ফোরক ব্যবহার করে নাশকতা ও অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করার পরিকল্পনা করছে।

তিনি আরও বলেন, র‍্যাব-৯-এর আওতাধীন সব জেলায় অবৈধ অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে।

মঙ্গলবার সন্ধ্যা পর্যন্ত প্রায় আধা কিলোমিটার এলাকা জুড়ে অভিযান পরিচালনা করা হলেও কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে বিস্ফোরক উদ্ধারের খবরে এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।

এ ঘটনায় বেশ কিছু প্রশ্ন সামনে এসেছে- এই বিপজ্জনক বিস্ফোরকগুলো কোথা থেকে এবং কীভাবে দেশে প্রবেশ করল? জৈন্তাপুর উপজেলার কাটাগাং এলাকা সীমান্ত থেকে মাত্র ১০ থেকে ১২ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। 

স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, জৈন্তাপুরের সীমান্ত পিলার ১২৮১ থেকে ১৩০৭ পর্যন্ত এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই চোরাচালানের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে পরিচিত।

স্থানীয়দের মতে, যেভাবে সীমান্ত দিয়ে বস্তাভর্তি চোরাচালানি পণ্য দেশে প্রবেশ করে,একই ভাবে বা ভিন্ন কৌশলে দুষ্কৃতিকারীরা বিস্ফোরক দ্রব্যও দেশে ঢুকিয়ে দিতে পারে। পাশাপাশি গোয়াইনঘাট ও কানাইঘাট সীমান্ত দিয়েও ব্যাপক হারে চোরাচালানি পণ্য প্রবেশ করে,যার সঙ্গে বিস্ফোরক ঢোকার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

নির্বাচনের আগে এমন ঘটনায় জাতীয় নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।এ অবস্থায় বাংলাদেশ সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিজিবি)-এর গোয়েন্দা নজরদারি, টহল এবং সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আরও জোরদার করা সময়ের দাবি বলে মনে করছেন সচেতন মহল।

সামনে জাতীয় সংসদ নির্বাচন এই সংবেদনশীল সময়ে সীমান্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ না করলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

আজকের সিলেট/এএসআর

সিলেটজুড়ে


মহানগর