সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ ও বিয়ানীবাজার) আসনে ত্রয়োদশ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ভোটের হিসাব-নিকাশ পাল্টেছে। এই দুই উপজেলার প্রবাসীরা ভোটের মাঠে নানভাবে সক্রিয় হচ্ছেন। অনেকে ইতোমধ্যে দেশে এসে পছন্দের প্রার্থী পক্ষে গণসংযোগ চালাচ্ছেন। কেউ কেউ দেশে আসার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। সম্প্রতি দুই উপজেলার ভোটারদের সাথে কথা বলে এমন তথ্য জানা গেছে।
আলাপকালে তারা জানায়, এ আসনে ভোটের হিসাব-নিকাশ দিন দিন পাল্টাচ্ছে। এখন বিএনপির প্রার্থী এমরান আহমদ চৌধুরীর নাম সবার মুখেমুখে। প্রবাসীরাও তার পক্ষে একাট্টা হয়ে সামাজিক মাধ্যমসহ নানাভাবে প্রাচরাণায় অংশ নিচ্ছেন। প্রবাসী অধ্যুষিত এই আসনটিতে বিএনপি, জামায়াত, জাতীয় পার্টি সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করায় নির্বাচন জমে উঠেছে। কর্মী-সমর্থকদের সক্রিয় উপস্থিতি ও নিয়মিত গণসংযোগে নির্বাচনী উত্তাপ আরো বেড়েছে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে প্রার্থীদের ব্যক্তিগত গ্রহণযোগ্যতা, সাংগঠনিক শক্তি এবং উন্নয়ন পরিকল্পনাই শেষ পর্যন্ত ভোটারদের সিদ্ধান্তে প্রভাব ফেলবে। ভোটারদের প্রত্যাশা শান্তিপূর্ণ পরিবেশে তারা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
এই আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী। মনোনয়ন পাওয়ার পর তিনি পুরোদমে গণসংযোগ শুরু করেছেন। গোলাপগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা এমরান আহমদ চৌধুরী দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় রাজনৈতিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকায় নিজ উপজেলায় তাঁর সাংগঠনিক অবস্থান তুলনামূলকভাবে শক্ত বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতারা।
অন্যদিকে বিএনপির বিকল্প প্রার্থী ফয়সল আহমদ চৌধুরীও এলাকায় গণসংযোগ করেছেন। তিনি বিয়ানীবাজার উপজেলার বাসিন্দা। রাজনীতির পাশাপাশি তিনি একজন সফল ব্যবসায়ী। সামাজিক নানা কর্মকান্ডের সাথে যুক্ত তিনি। দুই উপজেলার তাঁরও একটি নিজস্ব ভোটব্যাংক রয়েছে।
এদিকে, বিয়ানীবাজার উপজেলায় জামায়েতে ইসলামী সহ একাধিক দলের শক্ত প্রার্থী থাকায় সেখানে ভোট বিভাজনের সম্ভাবনা রয়েছে, এমন আলোচনা শোনা যাচ্ছে। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে এমন বাস্তবতায় ফয়সল আহমদ চৌধুরীর চেয়ে এমরান আহমদ চৌধুরী সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছেন।
বিশেষ করে সিলেট-৬ আসনের দুই উপজেলার মধ্যে গোলাপগঞ্জে ভোটার সংখ্যা বিয়ানীবাজারের চেয়ে বেশি। ফলে এই উপজেলার ভোট জয়-পরাজয় নির্ধারণে নিয়ামক ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এমরান আহমদ চৌধুরী নিজ উপজেলা ছাড়াও শুরু থেকেই বিয়ানীবাজারে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ায় সেখানে তিনি একটি গ্রহণযোগ্য অবস্থান তৈরি করেছেন।
এই আসনে জামায়াত থেকে দলের কেন্দ্রীয় সদস্য মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, জাতীয় পার্টি থেকে আব্দুন নুর, গণ অধিকার পরিষদ থেকে জাহিদুর রহমান ও জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতা হাফিজ ফখরুল ইসলাম নির্বাচনী মাঠে সক্রিয় রয়েছেন।
নির্বাচন কমিশনের খসড়া তালিকা অনুযায়ী, সিলেট-৬ আসনে মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৯০ হাজার। এর মধ্যে গোলাপগঞ্জ উপজেলায় ২ লাখ ৬০ হাজার। অপরদিকে বিয়ানীবাজার ২ লাখ ৩০ হাজার ভোটার রয়েছেন।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
নিউজ ডেস্ক 








