ভোটের টানে দেশে ফিরছেন প্রবাসীরা
বুধবার, ২২ এপ্রিল ২০২৬, ১১:৫৪ PM

ভোটের টানে দেশে ফিরছেন প্রবাসীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ১৬/০১/২০২৬ ০৫:২৬:২৫ PM

ভোটের টানে দেশে ফিরছেন প্রবাসীরা


ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে সিলেটে ফিরতে শুরু করেছেন বিপুলসংখ্যক প্রবাসী। দীর্ঘদিন পর প্রিয় স্বজনদের কাছে পেয়ে আবেগাপ্লুত পরিবারগুলো যেমন আনন্দে ভাসছে, তেমনি প্রবাসীদের উপস্থিতিতে সিলেটের রাজনীতি ও নির্বাচনী মাঠ পেয়েছে নতুন গতি। নির্বাচনের সময় যত ঘনিয়ে আসছে, প্রবাসী ফেরা ততই বাড়ছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ও ট্রাভেল এজেন্সি সূত্রে জানা গেছে, গত দুই মাসে মধ্যপ্রাচ্য ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক হাজার প্রবাসী সিলেটে এসেছেন। অনেকে আগেভাগেই টিকিট বুকিং দিয়ে রেখেছেন। নির্বাচনের পরপরই পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর থাকায় অনেক প্রবাসী একসঙ্গে দীর্ঘ সময় দেশে থাকার পরিকল্পনা করছেন। ফলে এবারের নির্বাচন ঘিরে সিলেটে প্রবাসীদের উপস্থিতি অতীতের যে কোনো সময়ের তুলনায় বেশি বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

মূলত ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর থেকেই প্রবাসীদের মধ্যে দেশে ফেরার আগ্রহ বাড়তে থাকে। কর্মব্যস্ততা ও সময়ের কারণে যারা তখন ফিরতে পারেননি, তারা এখন নির্বাচনী আমেজে দলে দলে দেশে ফিরছেন। নির্বাচনী প্রচারণায় প্রবাসীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ সিলেটের রাজনীতিতে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।

বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান আগামী ২২ জানুয়ারি সিলেট থেকে নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন—এমন ঘোষণার পর প্রবাসীদের মধ্যে উদ্দীপনা আরও বেড়েছে। প্রিয় নেতার আগমন ও দলীয় কর্মসূচিতে অংশ নিতে অনেকে দেশে ফিরেই নিজ নিজ এলাকায় প্রার্থীদের পক্ষে গণসংযোগে ব্যস্ত হয়ে পড়েছেন। এতে করে সিলেটের গ্রাম থেকে শহর—সবখানেই নির্বাচনী উত্তাপ ছড়িয়ে পড়েছে।

শুধু সরাসরি উপস্থিতিই নয়, পোস্টাল ব্যালটেও এগিয়ে রয়েছেন সিলেটের প্রবাসীরা। জানা গেছে, এবার প্রায় অর্ধলক্ষ প্রবাসী পোস্টাল ভোটের জন্য আবেদন করেছেন, যা প্রবাসীদের ভোটাধিকার প্রয়োগের ক্ষেত্রে একটি উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হিসেবে দেখা হচ্ছে।

দীর্ঘ ১২ বছর পর গত সোমবার লন্ডন থেকে সিলেটে ফিরেছেন জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর গ্রামের বাসিন্দা এনামুল ইসলাম। তিনি বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকেই দেশে আসার ইচ্ছে ছিল। কাজের চাপের কারণে দেরি হয়েছে। এবার নির্বাচনের সময় পেয়েছি, তাই আরও ১০ জন প্রবাসীর সঙ্গে দেশে এসেছি।” এনামুলের মতো হাজারো প্রবাসীর উপস্থিতিতে সিলেটের নির্বাচনী পরিবেশ এখন অনেকটা উৎসবমুখর।

বিয়ানীবাজারের মাথিউরা গ্রামের আনোয়ার হোসেনের গল্প আরও বেদনাবিধুর। ২০১৩ সালে মায়ের অসুস্থতার খবর পেয়ে দেশে ফিরে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন তিনি। মিথ্যা মামলার কারণে দীর্ঘ ১৩ বছর প্রবাসে কাটাতে হয়। পরিবর্তিত রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে এবার তিনি সপরিবারে দেশে ফিরেছেন। রমজান ও ঈদুল ফিতর উদযাপনের পাশাপাশি নির্বাচনী প্রচারণায় সক্রিয়ভাবে অংশ নিচ্ছেন তিনি।

ট্রাভেল এজেন্সিগুলোর তথ্যমতে, ৫ আগস্টের পর ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রবাসী আসার হিড়িক ছিল চোখে পড়ার মতো। মাঝখানে কিছুটা কমলেও নির্বাচনী উত্তাপে আবারও তা বেড়েছে। বিশেষ করে তারেক রহমানের লন্ডন থেকে সিলেট হয়ে ঢাকায় ফেরার ঘোষণার সময় লন্ডন–সিলেট রুটে টিকিটের তীব্র সংকট দেখা দেয়, যার প্রভাব এখনও রয়েছে।

আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে সিলেট থেকেই বিএনপির আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু করবেন তারেক রহমান। সিলেট-৩ আসনে যুক্তরাজ্য বিএনপির সভাপতি এম এ মালিক, সুনামগঞ্জ-৩ আসনে সাধারণ সম্পাদক এম কয়সর আহমদসহ একাধিক প্রবাসী প্রার্থী মাঠে রয়েছেন। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ থেকে আসা এসব প্রবাসী প্রার্থী সাধারণ প্রবাসীদের মধ্যেও ব্যাপক উৎসাহ সৃষ্টি করেছেন।

সব মিলিয়ে ভোটের টানে প্রবাসীদের এই ঘরে ফেরা সিলেটের রাজনীতিকে যেমন চাঙা করেছে, তেমনি এবারের জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে অঞ্চলটির পরিবেশকে পরিণত করেছে এক ভিন্ন রকম উৎসবে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর