বিগত আওয়ামীলীগের রেজিমের সময়েই দেশের মানুষ গুম নাম শব্দের সাথে বেশ পরিচিত হয়ে উঠেন। ১৯৭১ সালে স্বাধিনতার পর থেকে সব চেয়ে বেশী গুম হয়েছ হাসিনার রেজিমের সময়ে। তেমনই একজন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সহ সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনার। দীর্ঘ চোদ্দ বছর চোখে পানি ছেড়ে অবশেষে নিজ সন্তনের মুখ না দেখেই পৃথিবী ছেড়ে চলে গেছেন দিনারের পিতা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক পরিচালক ডা. মঈন উদ্দিন। আর এখনো সন্তানের পথ চেয়ে বসে আছেন দিনারের গর্ভধারিণী মা।
২০২৪ সালের জুলাই বিপ্লবের ছাত্রজনতার তোপেরমূখে শেখ হাসিনা দেশ ছেড়ে পালিয়ে যাওয়ার পর অনেকেই গুম নামক আয়ন ঘর থেকে ফিরে আসলেও ফিরে আসেন নি দিনার। সন্তানকে ফিরে পেতে বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে চিঠি দিয়েছেন দিনারের মা।
শনিবার রাজধানী ঢাকায় গুম হওয়া পরিবারের সাথে মতবিনিময় সভায় বক্তব্য দেয়া শেষে তারেক রহমানের কাছে সেই চিঠি হস্তান্তর করেন দিনারের বোন ও সিলেট জেলা মহিলা দলের সভাপতি (ভারপ্রাপ্ত) তাহসিন শারমিন তামান্না।
তবে চিঠিতে কি লেখা রয়েছে তা জানা সম্ভব হয়নি। চিঠির বিষয়ে জানতে চাইলে দিনারের ভগ্নিপতি ও সিলেট জেলা বিএনপি নির্বাচিত সাংগঠনিক সম্পাদক মো. শামীম আহমদ বলেন, মা চিঠিটি যেভাবে দিয়েছিলেন সেভাবেই চেয়ারম্যান সাহেবকে দেয়া হয়েছে। চিঠিতে কি লেখা আমরা খুলে দেখিনি। তবে চেয়ারম্যান সাহেব চিঠিটি পড়েছেন। এতে কি লেখা আছে তা শুধু মা আর চেয়ারম্যান সাহেবই জানেন।
উল্লেখ্য, সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনার গুম হওয়ার চোদ্দ বছর পার হয়ে গেলেও তার কোনো হদিস মেলেনি। ২০১২ সালের ৩ এপ্রিল ঢাকা থেকে নিখোঁজ হন সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ইফতেখার আহমদ দিনার ও তার বন্ধু ছাত্রদল নেতা জুনেদ আহমদ। দীর্ঘ এই সময়ে সন্তানের খোঁজে ব্যাকুল মা একটি চিঠি লিখেছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে।
ইফতেখার আহমদ দিনার সিলেট জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহ-সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। তিনি তেরো বছর আগে গুম হন এবং তারপর থেকে তার পরিবার তার সন্ধান পাচ্ছে না। এই তের বছরে কত কিছু ঘটে গেছে বাবাকে হারিয়েছেন। কিন্তু হতবাগা বাবা মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সন্তানের আক্ষেপ কাঠেনি।
দীর্ঘ চোদ্দ বছর ধরে অপেক্ষায় থাকা পরিবার এখনও আশা হারায়নি। মায়ের এই চিঠি হয়তো দিনারের খোঁজে নতুন উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে লেখা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। গুম হওয়া মানুষদের পরিবারের সদস্যরা বছরের পর বছর ধরে তাদের প্রিয়জনদের ফিরে পাওয়ার আশায় দিন গুনছেন।
আজকের সিলেট/এপি
নিজস্ব প্রতিবেদক 








