ভোটের মাঠে নারী প্রতিদ্বন্দ্বী ৩.৮৯ শতাংশ, স্বতন্ত্র বেশি
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ১২:৩৯ AM

ভোটের মাঠে নারী প্রতিদ্বন্দ্বী ৩.৮৯ শতাংশ, স্বতন্ত্র বেশি

আজকের সিলেট ডেস্ক

প্রকাশিত: ২৩/০১/২০২৬ ১০:২৩:৪৮ AM

ভোটের মাঠে নারী প্রতিদ্বন্দ্বী ৩.৮৯ শতাংশ, স্বতন্ত্র বেশি


গত ৩০ বছরের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী সংখ্যা সর্বোচ্চ হলেও নারী প্রার্থীর সংখ্যা গতবারের চেয়ে কমেছে। এবার একজন হিজড়াসহ ৭৭ জন নারী প্রার্থী ভোটের মাঠে টিকলেন, যা দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ছিল ৯৪ জন। মোট প্রার্থীর তুলনায় এবার নারী প্রতিদ্বন্দ্বীর হার ৩ দশমিক ৮৯ শতাংশ।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) প্রকাশিত প্রার্থী তালিকা বিশ্লেষণে যে তথ্য পাওয়া গেছে, এতে ভোটের লড়াইয়ে থাকা ৫১টি দলের মধ্যে ২০টি দলের নারী প্রার্থী রয়েছে। ৭৭ জন প্রার্থীর মধ্যে ১৬ জন স্বতন্ত্র, বাকিরা দলগুলোর। দলগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রার্থী দিয়েছে বিএনপি ও বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদী, দুই দলেরই ১০ জন করে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে। তবে দলগুলোর প্রার্থীর সংখ্যার তুলনায় নারীর অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি রয়েছে বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদী (১০ জন)। এই দলের মোট প্রার্থীর তুলনায় নারী প্রার্থীর হার ৩৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী, রাজনৈতিক দলগুলোর সর্বস্তরের কমিটিতে ৩৩ শতাংশ নারী সদস্যপূরণের কথা বলা হয়েছে। এছাড়া নারী সদস্যের নির্বাচনের রাখার দাবী রয়েছে নির্বাচন বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টদের। তবে এবারের চিত্র আরো হাতাশার বলছেন অনেকে।

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র ও দলগুলোর মিলিয়েছে মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী রয়েছে ১৯৮১ জন। এর মধ্যে ৭৭ জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে, যা মোট প্রার্থীর ৩.৮৯ শতাংশ।

৫ শতাংশ নারী প্রার্থী দেওয়ার বিষয়ে একমত হয়ে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করা  বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী একযুগ পরে এসে ভোটে অংশ নিলেও দলটির কোনো নারী প্রার্থী নেই। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশসহ ৩০টি দলের নারী প্রার্থী নেই।

জাতীয় পার্টি (৬ জন)
সরকারে ও বিরোধী দলে থাকা এই দলটি নারী প্রতিদ্বন্দ্বীরা হলেন, ঠাকারগাঁও-২ আসনে নুরুন নাহার বেগম, ঝিনাইদহ-১ আসনে মনিকা আলম, খুলনা-৫ আসনে শামীম আরা পারভীন, ঢাকা-১০ আসনে বহ্নি বেপারী, নরসিংদী-৫ আসনে মেহেরুন নেসা খান হেনা ও খাগড়াছড়ি আসনে মিথিলা রোয়াজা। দলটির ভোটে প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে ১৯৬ জন। সে হিসেবে নারী প্রার্থী ৩ দশমিক ০৬ শতাংশ।

গণফোরাম (দু’জন)
ঝিনাইদহ-৪ আসনে খুনিয়া খানম ও ঢাকা-৯ আসনে নাজমা আক্তার গণফোরামের নারী প্রতিদ্বন্দ্বী। এই দলটির প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে ১৯ জন, নারীর হার এই দলে ১০ দশমকি ৫৩ শতাংশ।

বাংলাদেশ মুসলিম লীগ (একজন)
দিনাজপুর-৩ আসনে লায়লাতুল রীমাই দলটির একমাত্র নারী প্রতিদ্বন্দ্বী।

বাংলাদেশের সমাজতান্ত্রিক দল-মার্কসবাদী (১০ জন)
এই দলের রংপুর-৩ আসনের প্রগতি বর্মন তমা, গাইবান্ধা-৫ আসনে মোছা. রাহেলা খাতুন, জয়পুরহাট-১ আসনে তৌফিকা দেওয়ান, ঢাকা-৫ আসনে শাহীনুর আক্তার সুমী, ঢাকা-৭ আসনে সীমা দত্ত, গাজীপুর-১ আসনে তাসলিমা আক্তার, নোয়াখালী-৫ আসনে মুনতাহার বেগম, চট্টগ্রাম-১০ আসনে আসমা আক্তার, চট্টগ্রাম-১১ আসনে দীপা মজুমদার ও মৌলভীবাজার-২ আসনে সাদিয়া নওশীন তাসনিম চৌধুরী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। মার্কবাসী দলের প্রতিদ্বন্দ্বী মধ্যে নারী হার ৩৪ দশমিক ৪৮ শতাংশ।

বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল-বাসদ (৪ জন)
বগুড়া-৬ আসনে দিলরুবা, মাগুরা-১ আসনে শম্পা বসু, বরিশাল-৫ মনীষা চক্রবর্তী ও কুমিল্লা-৬ আসনে কামরুন নাহার সাথী বাসদের নারী প্রতিদ্বন্দ্বী। এই দলের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে নারীর হার ১০ দশমকি ২৫ শতাংশ।

বিএনপি (১০ জন)
বেশ কয়েকবার ক্ষমতায় ও বিরোধী দলে থাকা বিএনপির নারী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন, নাটোর-১ আসনে ফারজানা শারমীন, যশোর-২ আসনে মোছা. সাবিরা সুলতানা, ঝালকাঠি-২ ইশরাত জাহান ইলেন ভুট্টো, মাদারীপুর ১ নাদিরা আক্তার, মানিকগঞ্জ-৩ আফরোজা খানম, ঢাকা-১৪ আসনে সানজিদা ইসলাম, শেরপুর-১ আসনে সানসিলা জেবরীন, সিলেট-২ আসনে মহসীনা রুশদী, ফরিদপুর-৩ আসনে চৌধুরী নায়াব ইউসুফ ও ফরিদপুর-২ আসনে শামা ওয়াবেদ। এই দলের প্রতিদ্বন্দ্বীদের মধ্যে নারীর হার ৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ।

ন্যাশনাল পিপলস পার্টি (১জন)
ঢাকা-১৮ আসনে ছাবিনা জাবেদ এনপিপি’র একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী।

ইনসানিয়া বিপ্লব বাংলাদেশ (৪ জন)
ইনসানিয়াত বিল্পবের নারী প্রার্থীরা হলেন- মুন্সিগঞ্জ-১ আসনে রোকেয়া আক্তার, ঢাকা-১৩ আসনে ফাতেমা আক্তার মুন্নি, গাজীপুর-২ আসনে সরকার তাসলিমা আফরোজও  নরসিংদী-৫ আসনে তাহমিনা আক্তার। এই দলের নারী প্রতিদ্বন্দ্বীর হার ৯ দশমিক ৫২ শতাংশ।

এনসিপি (দু’জন)
কোটা বিরোধী আন্দোলনে সকলের সমান অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণঅভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়ার এই দলটির নারী প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে দু’জন। ঢাকা-১৯ আসনে দিলশানা পারভীন ও ঢাকা-২০ আসনে নাবিলা তাসনিদ। এই দলের নারী প্রতিদ্বন্দ্বীর হার ৬ দশমিক ২৫ শতাংশ।

গণসংহতি আন্দোলন (তিন জন)
এই দলের নাটোর-২ আসনে তাহমিদা ইসলাম তানিয়া, টাঙ্গাইল-৫ আসনে ফাতেমা আক্তার ও ব্রাহ্মবাড়িয়া-৫ আসনে নাহিদা জাহান প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। দলের নারী প্রতিদ্বন্দ্বীর হার ১৭ দশমকি ৬৫ শতাংশ।

গণঅধিকার পরিষদ-জিওপি (তিন জন)
সিরাজগঞ্জ-১ আসনে মোছা. মল্লিকা খাতুন, ঢাকা-৮ আসনে মেঘনা আলম ও নরসিংদী-১ আসনে শিরীন আক্তার জিওপি-এর নারী প্রতিদ্বন্দ্বী। এই দলের নারী প্রতিদ্বন্দ্বীর হার ৩ দশমিক ৩৩ শতাংশ।

জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি (৬ জন)
জেএসডির নারী প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছে- সিরাজগঞ্জ-৬ আসনে ইলোরা খাতুন, ফরিদপুর-৩ আরিফা আক্তার বেবী, ঢাকা-৭ আসনে শাহানা সেলিম, কুমিল্লা-৫ আসনে শিরিন আক্তার, নোয়াখালী-১ আসনে রেহেনা বেগম ও লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে তানিয়া রব। এই দলের নারী প্রতিদ্বন্দ্বীর হার ২৩ দশমিক ০৭ শতাংশ।

নাগরিক ঐক্য (একজন)
পাবনা-৪ আসনে শাহানাজ হক একমাত্র প্রতিদ্বন্দ্বী নাগরিক ঐক্যের।

বাংলাদেশের রিপাবলিকান পার্টি (একজন)
এই দলের কুষ্টিয়া-৩ আসনে একমাত্র নারী প্রতিদ্বন্দ্বী রুম্পা খাতুন।

এবি পার্টি (একজন)
ঢাকা-১০ আসনে নাসরিন সুলতানা একমাত্র নারী প্রতিদ্বন্দ্বী এবি পার্টির।

বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি (দু’জন)
এই দলের দু’জন প্রার্থী নারী, নেত্রকোণা-৪ আসনে চম্পা রানী সরকার ও রাঙ্গামাটি আসনে জুঁই চাকমা।

বাংলাদেশের কমিউনিস্ট পার্টি (সিপিবি) (একজন)
সিপিবি’র একজন নারী প্রতিদ্বন্দ্বী রয়েছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে। নেত্রকোণা-৪ আসনে জলী তালুকদার।

আম জনতার দল (একজন)
আম জনতার দলের নারী প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে শরিফা আক্তার।

ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশ (একজন)
এই দলের নারী প্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনে আয়েশা আক্তার।

স্বতন্ত্র (১৬ জন, একজন হিজড়াসহ)
এবারে নির্বাচনে স্বতন্ত্র থেকে ১৬ জন নারী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এদের মধ্যে রয়েছেন, ঠাকুরগাঁও-৩ আসনে আশা মনি, রংপুর-৩ আসনে রীতা রহমান, রংপুর-৬ আসনে তাকিয়া জাহান চৌধুরী, গাইবান্ধা-১ আসনে মোছা. ছালমা আক্তার, জয়পুরহাট-১ আসনে সাবেকুন্নাহার, ঢাকা-১ আসনে অন্তরা সেলিমা হুদা, ঢাকা-৯ আসনে তাসনিম জারা, টাঙ্গাইল-৩ আসনে আইরিন নাহার, ময়নসিংহ-৬ আসনে আক্তার সুলতানা, ময়মনসিংহ-৯ আসনে হাসিনা খান চৌধুরী, কিশোরগঞ্জ-৪ আসনে রেহা কবির, ব্রাহ্মবাড়িয়া-২ আসনে রুমিন ফারহানা, কুমিল্লা-৯ আসনে সামিরা আজিম, চট্টগ্রাম-২ আসনে জিন্নাত আক্তার, খাগড়াছড়িতে জিরুনা ত্রিপুরা ও রংপুর-৩ আসনে স্বতন্ত্র আনোয়ারা ইসলাম রানী (হিজড়া)।

বাংলাদেশ লেবার পার্টি (একজন)
এই দলের নারী প্রতিদ্বন্দ্বী চাঁদপুর-২ আসনে নাসিমা নাজনিন সরকার।

নির্বাচন কমিশনের সাবেক অতিরিক্ত সচিব ও নির্বাচন বিষয়ক সংস্কার কমিশনের সাবেক সদস্য জেসমিন টুলী বলেন, নারী প্রতিনিধি বাড়ানো নিয়ে এতো এতো কথা বলেছি, যে আর বলতেও ভালো লাগে না। কেননা, গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশে বিষয়টির উল্লেখ থাকলেও তা বাস্তবায়নে দলগুলো এগিয়ে আসছে না।

সংসদ নির্বাচনে দলগুলো ১৭৩২ জন প্রার্থী আর স্বতন্ত্র ২৪৯ জন মিলে এবার মোট প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী থাকল ১৯৮১ জন। এর মধ্যে ধানের শীষ ২৮৮ জন, দাঁড়িপাল্লা ২২৪ আর হাতপাখার ২৫৩ প্রার্থী রয়েছে।ইতিমধ্যে প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীরা নির্বাচনি প্রচারেও নেমেছেন। আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা পর‌্যন্ত প্রচার চলবে। আর ভোটগ্রহণ হবে ১২ ফেব্রুয়ারি সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকেল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর