দেশে বালু উত্তোলনে কঠোর আইন থাকলেও হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় তা যেন কেবল কাগজেই সীমাবদ্ধ। পাহাড়ি ছড়া ও খাল থেকে রাতের আঁধারে অবাধে বালু উত্তোলন চললেও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর কার্যকর কোনো তৎপরতা চোখে পড়ছে না। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের নীরবতা ও সংশ্লিষ্টদের গোপন প্রশ্রয়েই পাহাড়ি ছড়া ও খালের বালু রাতারাতি হাওয়া হয়ে যাচ্ছে।
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, মাধবপুর উপজেলার নোয়াপাড়া, শাহপুর, হরিতলা, জগদীশপুরসহ একাধিক এলাকায় প্রতিরাতে সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় থাকে। রাত নামলেই পাহাড়ি ছড়া ও খাল থেকে বেলচাসহ বিভিন্ন যন্ত্রপাতির সাহায্যে বালু তুলে ট্রাক ও ট্রাক্টরের মাধ্যমে দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়। ভোরের আলো ফোটার আগেই বালুবাহী যানবাহন এলাকা ছেড়ে চলে যাওয়ায় দিনের বেলায় এসব কর্মকা-ের কোনো দৃশ্যমান চিহ্ন পাওয়া যায় না।
স্থানীয়দের মতে, এই অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে পাহাড়ের স্বাভাবিক গঠন ধ্বংস হচ্ছে। ছড়া ও খালের পানিপ্রবাহ ব্যাহত হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢল, হঠাৎ বন্যা ও কৃষিজমি প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে। পরিবেশবিদদের মতে, এভাবে চলতে থাকলে মাধবপুরের পাহাড়ি পরিবেশ ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন, ২০১০-এর ৪ ও ৫ ধারায় সরকার নির্ধারিত বালুমহাল ছাড়া বালু উত্তোলন সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। একই আইনের ১৫ ধারা অনুযায়ী অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের দায়ে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদ- অথবা অর্থদ- বা উভয় দ-ের বিধান রয়েছে। এছাড়া পরিবেশ সংরক্ষণ আইন অনুসারে পাহাড়, ছড়া ও বনাঞ্চলে এ ধরনের কার্যক্রম শাস্তিযোগ্য অপরাধ।
স্থানীয়রা ক্ষোভের সঙ্গে বলেন, আইন থাকলেও এর প্রয়োগ কোথায়? রাত হলেই বালু তোলা হয়, সবাই জানে। প্রশাসন চুপ থাকায় বালুখেকোরা আরও শক্তিশালী হয়ে উঠছে।
সচেতন মহলের মতে, অবিলম্বে নিয়মিত রাতের টহল, বন বিভাগ-প্রশাসনের যৌথ অভিযান এবং আইন অনুযায়ী দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত না হলে মাধবপুরের পাহাড়, বন ও পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব হবে না। তারা দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
মাধবপুর উপজেলার সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. মুজিবুল ইসলাম জানান, আমরা বিষয়টি অবহেলা করছি না। রাতের অন্ধকারে চলমান অবৈধ বালু উত্তোলন রোধে আমরা অভিযান জোরদার করেছি। যেকোনো ব্যক্তি বা চক্রের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে স্থানীয়রা আমাদের সহায়তা ও তথ্য দিলে কার্যক্রম আরও ফলপ্রসূ হবে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
মাধবপুর (হবিগঞ্জ) প্রতিনিধি 








