নগরীর হকার সমস্যাকে চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের (সিসিক) সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী । গত ২০২১ সালে নগরীর লালদিঘী অস্থায়ী মর্কেটে প্রথমবারের মত হকার পুনর্বাসন করেছিলেন তিনি। সেই মার্কেটে বসানো হয়েছিল ১ হাজার ৭০ জন হকার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ভেস্তে যায় কোটি টাকার এ পুনর্বাসন প্রকল্প।পুনর্বাসিত হকাররা ক্রমশ ফিরে আসরেত শুরু করেন বন্দর বাজারের রাস্তায়। বিশেষ করে গত সিটি নির্বাচনের পর থেকে সম্পূর্ণ বেপরোয়া হয়ে ও্রঠে হকাররা।
গত সিসিক নির্বাচনে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী মেয়র পদে নির্বাচিত হয়ে তিনিও হকার সমস্যাকে চ্যালেঞ্জ চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করেছেন। সেই হিসেবে হকারদের জন্য পূর্বনির্ধারিত অস্থায়ী মার্কেটে নিওি আবার পুনবার্সন কার্যক্রম শুরু করছেন।
রোববার সকাল ১০ টায় দ্বিতীয়বারের মত এ পুনর্বাসন কর্মসূচির উদ্বোধন করবেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের বর্তমান মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন ব্যারিস্টার সৈয়দ সায়েদুল হক সুমন এমপি।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের জনসংযোগ কর্মকর্তা সাজলু লস্কর বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আসন্ন পবিত্র রমজানের পূর্বেই সিলেট নগরীর ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের (হকার) অস্থায়ী মার্কেটে পুনবার্সন করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী। সে লক্ষ্যে দ্রুত অস্থায়ী মার্কেট প্রস্তুত করার জন্য ১০টি ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কাজ বণ্ঠন করে দেয়া হয়। কাজ শেষে রোববার ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করা হবে এবং পর্যায়ক্রমে নগরীতে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সকল ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের (হকার) পূর্বনির্ধারিত স্থানে পুনর্বাসন করা হবে।
এরই অংশ হিসেবে ইতোমধ্যে মহানগর পুলিশ কমিশনার, হকারদের প্রতিনিধি সহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সাথে কয়েক দফায় তিনি আলোচনা করে করেছেন। সকলের পরামর্শে হকার সমস্যার একটি স্থায়ী সমাধানের দিকেই এগুচ্ছেন মেয়র মো. আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরী।
নগরভবন লাগোয়া লালদিঘির পাড়ের মাঠে অস্থায়ী মার্কেটে ভ্রাম্যমাণ ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের ফলে কিছুদিনের মধ্যে হকার সমস্যার সমাধান হবে বলে মনে করছে সিসিক সূত্র।
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের জানুয়ারিতে লালদিঘীর পাড়ে সিসিকের মালিকানাধীন জরাজীর্ণ লালদিঘী হকারমার্কেট ভেঙে ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ী হকারদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছিল। মহানগর পুলিশের সহযোগিতায় প্রাথমিকভাবে লটারির মাধ্যমে ১ হাজার ৭০ জন হকারকে পুনর্বাসন করা হয় সেখানে। প্রত্যেক হকারের জন্য ৭ ফুট/৩ ফুট জায়গা বরাদ্ধ দেয়া হয়েছিল। সিসিকের পক্ষ থেকে নির্ধারিত স্থানে সবার জন্য বাঁশ ও টিন দিয়ে অস্থায়ী মার্কেটও নির্মাণ করে দেয়া হয়। ক্রেতাদের সুবিধার্থে মাঠে মাছ ও শুঁটকি, সবজি, তৈজসপত্র এবং বিবিধ নামে সাইনবোর্ড টাঙিয়ে পৃথক লেন করে দেয়া হয়েছে সেখানে। এছাড়া নগরের প্রতিটি ফুটপাতে ‘মানুষের চলাচলের জন্য, হকারদের বসা নিষেধ’ লেখা সম্বলিত সাইনবোর্ড টাঙানো হয়েছিল।
জনদুর্ভোগ লাঘবে ২০২১ সালে ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেয় সিলেট সিটি করপোরেশন (সিসিক)। ওই বছরের জানুয়ারিতে নগরভবন-লাগোয়া লালদিঘীর পাড়ের খোলা মাঠে ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের জন্য অস্থায়ী মার্কেট নির্মাণ করে দেয় সিসিক। প্রাথমিক অবস্থায় নগরের বিভিন্ন এলাকা থেকে ১ হাজার ৭০ জন ভ্রাম্যমান ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসন করা হয় ওই মার্কেটে। তবে ভেস্তে যায় পুনর্বাসনের এ উদ্যোগ। সিসিক নির্মিত অস্থায়ী মার্কেটে আর বসেন না হকাররা। উল্টো নগরের ফুটপাত ছাপিয়ে সড়কেরও বহুলাংশও দখল করে রেখেছেন তারা। ফলে দিনভর নগরে লেগে থাকে যানজট। তবে মাঝেমধ্যে অভিযান চালাতেন মেয়র আরিফ। সিসিক নিরর্বাচনের পর মেয়র আরিফ প্রশাসনিক ক্সমতা হারিয়ে ফেলায় নবনির্বাচিত মেয়র দায়িত্ব গ্রহন পূর্ব পর্যন্ত দর্ঘি কয়েকমাস হকার বিরোধী অভিযান বন্ধ থাকে। এতে করে সম্পূর্ণ বেপরোয়া হয়ে ওঠে হকার , তৎপর হযে ওঠে চাঁদাবাজ লাইনম্যানরা।
তাই বর্তমান মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীও হকার সমস্যার সমাধানকে পুনরায় চ্যালেঞ্জ হিসেবে গ্রহণ করে পুনর্বাসন কর্মসূচিতে হাত দিয়েছেন। দেখা যাক এ চ্যালেঞ্জে তিনি কতটুকু সফল হতে পারেন।
আজকের সিলেট /ডি/কেআর
খলিলুর রহমান 








