এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে না সিলেটের কওমি মাদরাসাগুলো
সোমবার, ১১ মে ২০২৬, ০৯:২৭ PM

এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে না সিলেটের কওমি মাদরাসাগুলো

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১১/০৫/২০২৬ ০৭:৪৯:৫৬ PM

এবার কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে না সিলেটের কওমি মাদরাসাগুলো


আসন্ন ঈদুল আযহায় কোরবানির পশুর চামড়া সংগ্রহ করবে না সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো। 

সোমবার ‘সিলেট বিভাগ কওমী মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’ এক সংবাদ সম্মেলন করে এ সিদ্ধান্ত জানিয়েছে।

বিগত দুই সরকারের ষড়যন্ত্র ও অকার্যকর সিদ্ধান্ত এবং বর্তমান সরকারের উদাসীনতার অভিযোগ তুলে পরিষদ নেতৃবৃন্দ এ ‘কঠিন’ সিদ্ধান্তের পথে হাঁটলেন।

সোমবার দুপুরে সিলেট মহানগরের সোবহানীঘাটস্থ এদ্বারা ভবনে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন পরিষদের সদস্যসচিব মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন।

তিনি বলেন- প্রাচীনকাল থেকে ইসলামের হেফাজতের জন্য বিশ্বজুড়ে কওমি মাদরাসাগুলো কুরআন ও হাদিসের শিক্ষার প্রচার-প্রসার করে আসছে। মুসলিমসমাজের মুক্ত হস্তে দান-সদকাহ-এর মাধ্যমে পরিচালিত এসব মাদরাসা আদর্শ ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্র গঠনে নিরলসভাবে অসামান্য ভূমিকা রাখছে।

বছরজুড়ে সর্বসাধারণের দান, মৌসুমী চাঁদা, কুরবানির পশুর চামড়া ইত্যাদি কওমি মাদরাসা পরিচালনায় আয়ের অন্যতম উৎস। কিন্তু বিগত ফ্যাসিস্ট সরকার ২০১৩ সালে কওমি মাদরাসার এই অন্যতম আয়ের উৎস বন্ধে ষড়যন্ত্র শুরু করে। ওই সরকারের অসৎ উদ্দেশ্যে ক্রমান্বয়ে দেশের রপ্তানী শিল্পের অন্যতম এই পণ্য দেশের বাজারে দরপতনের শিকার হতে থাকে। শেষপর্যন্ত কুরবানির চামড়া প্রায় মূল্যহীন পণ্যে পরিণত হয়। বর্তমান অবস্থা এমন দাঁড়িয়েছে, কওমি মাদরাসাগুলো এলাকার মানুষের কুরবানির চামড়া সংগ্রহ করে যত টাকা পরিবহণ খরচ করে, চামড়া বিক্রি করে সেই টাকাও ফেরত পায় না।

মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকার পতনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার চামড়া শিল্প রক্ষায় উদ্যোগের কিছুটা তৎপরতা দেখালেও সুফল মেলেনি। গত বছর কুরবানির মৌসুমে ড. ইউনূস সরকার কওমি মাদরাসাগুলোকে চামড়া সংরক্ষণের জন্য কাঁচা লবণ সরবরাহ করে। কিন্তু এ উদ্যোগটি অযৌক্তিক ও অকার্যকর প্রমাণিত হয়েছে। ওই সরকারের উচিত ছিলো চামড়া শিল্পের দেশীয় বাণিজ্যিক সিন্ডিকেট ভেঙে দিয়ে চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা। বৈশ্বিক বাজারে মূল্যবান এই কাঁচামাল দেশীয় বাজারে মূল্যহীনতার দশা থেকে মুক্ত করতে ইন্টেরিম সরকার ব্যর্থ হয়েছে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর চামড়া শিল্পের সুদিন ফেরার আশায় ছিলাম আমরা। কিন্তু সরকারের ১৮০ দিনের কোনো প্রকল্পেই চামড়া শিল্প নিয়ে কোনো পরিকল্পনা নেই। অথচ এটি একটি রাষ্ট্রের বড় আয়ের খাত। আগের সেই সিন্ডিকেট ভাঙতে পারেননি এই সরকার। যা কওমি মাদরাসাগুলোর কর্তৃপক্ষকে চরমভাবে হতাশ করেছে। সার্বিক বিবেচনায় সিলেট বিভাগের কওমি মাদরাসাগুলো আগামী কুরবানীর মৌসুমে চামড়া সংগ্রহ না করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে।

তবে ভবিষ্যতে সরকার আমাদের ডেকে এ বিষয়ে কার্যকর উদ্যোগ নিলে এবং চামড়া শিল্পের উন্নতি হলে গরিব, এতিমদের ইসলামি শিক্ষার স্বার্থে পুনরায় চামড়া সংগ্রহ করতে চিন্তা করা হবে ইনশাআল্লাহ।

কুরবানির দিনে চামড়া শিল্পের মোট ৭১% কওমি মাদরাসার মাধ্যমে সংগৃহীত হয়ে থাকে উল্লেখ করে মাওলানা মুশতাক আহমদ খাঁন বলেন- দেশের দারিদ্রতা বিমোচন ও জনসংখ্যার সুবিধাবঞ্চিত বৃহৎ অংশের শিক্ষা ও লালল-পালনে কওমি মাদরাসা কর্তৃপক্ষ ভূমিকা রেখে আসছে। সুতরাং যত দ্রুত সম্ভব সিন্ডিকেট ভেঙে কুরবানির পশুর চামড়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিতকরণে সরকারের যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করার জোর দাবি জানাচ্ছে ‘সিলেট বিভাগ কওমি মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’।

সংবাদ সম্মেলনে বক্তব্য রাখেন ও উপস্থিত ছিলেন- ‘সিলেট বিভাগ কওমী মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’র আহ্বায়ক মাওলানা আব্দুল বছীর সুনামগঞ্জী, যুগ্ম-সচিব মাওলানা আহমদ কবীর আমকুনী, যুগ্ম-সচিব মাওলানা ইউসুফ আহমদ খাদিমানী (রেঙ্গা মাদরাসা), মাওলানা মঞ্জুর আহমদ (রেঙ্গা মাদরাসা), মাওলানা এনামুল হক বহরগ্রামী, মুফতি মাওলানা রশিদ আহমদ (দরগাহ মাদরাসা), মাওলানা নিয়াম উল্লাহ খাসদবিরী (দারুস সালাম মাদরাসা), মাওলানা শামীম আহমদ ও মাওলানা গোলাম কিবরিয়া।

এছাড়াও ‘সিলেট বিভাগ কওমী মাদরাসা সংরক্ষণ পরিষদ’র বিভিন্ন স্তরের নেতা এবং বিভাগের বিভিন্ন কওমি মাদরাসার মুহতামিম ও দায়িত্বশীল উপস্থিত ছিলেন।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর