চিত্রনায়িকা শাবনূরের পিতা হত্যা মামলায় খালাস পেলেন সিলেটের বিএনপির নেতারা
মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ১০:০৩ PM

চিত্রনায়িকা শাবনূরের পিতা হত্যা মামলায় খালাস পেলেন সিলেটের বিএনপির নেতারা

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ১২/০৫/২০২৬ ০৮:৪৪:২২ PM

চিত্রনায়িকা শাবনূরের পিতা হত্যা মামলায় খালাস পেলেন সিলেটের বিএনপির নেতারা


যাত্রীবাহী বাস পোড়ানো ও হত্যা মামলায় বিএনপির নিখোঁজ নেতা ইলিয়াস আলী সহ ৩৮ নেতাকর্মীকে খালাস দিয়েছে আদালত।

মঙ্গলবার দুপুরে এই মামলার সাক্ষ্য-প্রমাণ জেরা শেষে মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনাল, সিলেটের (জেলা ও দায়রা জজ) বিচারক মো. শরিফুল ইসলাম এই মামলার আসামিদের খালাসের রায় ঘোষণা করেন।

২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর সিলেটের দক্ষিণ সুরমার বদিকোনা এলাকায় মহাসড়কে যাত্রীবাহী বাসে অগ্নিসংযোগ ও এক যাত্রীর মৃত্যুর ঘটনায় এ মামলা দায়ের করা হয়। মামলা থেকে খালাস পেয়েছেন নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম. ইলিয়াস আলী, অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, অ্যাডভোকেট এটিএম ফয়েজ, নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনারসহ ৩৮জন আসামি।

মামলায় আসামি পক্ষের আইনজীবী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অ্যাডভোকেট হাসান রিপন পাটোয়ারী, অ্যাডভোকেট মসরুর চৌধুরী শওকত, অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ প্রমুখ।

মামলার সূত্র মতে, ২০১১ সালের ১৮ ডিসেম্বর বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দক্ষিণ সুরমার ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের বদিকোনা এলাকায় সিলেট-হবিগঞ্জ সুপার এক্সপ্রেস (ঢাকা মেট্রো-ব-০২০১৩৩) যাত্রীবাহী বাস পোড়ানো এবং একই সঙ্গে আরেকটি যাত্রীবাহী বাস (সিলেট-জ-১১-০৩৪৪) ভাঙচুর করার ঘটনা ঘটে।

এ ঘটনায় নিহত হন চিত্র নায়িকা শাবনূরের পিতা কাজী নাছির (৭০)। যার পরিচয় শনাক্ত হয়েছিল বেওয়ারিসভাবে লাশ দাফনের ১৩ দিন পর ২০১২ সালের ১, জানুয়ারি।

নিহতের দ্বিতীয় স্ত্রী পরিচয় দিয়ে এক নারী দাবি করেছেন, নিহত ব্যক্তি চিত্রনায়িকা শাবনূরের বাবা।

জ্যোৎস্না বেগম নামে ওই নারীর বক্তব্য অনুযায়ী, নিহতের নাম কাজী নাছির (৭০)। বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশা উপজেলায়। দক্ষিণ সুরমা থানায় এসে নাছিরের পরিচয় শনাক্ত করেন।

ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর বিএনপির পূর্বঘোষিত কর্মসূচি চলাকালে দক্ষিণ সুরমার চণ্ডীপুর বদিকোনা এলাকায় একটি বাসে আগুন দেওয়া হয়। এতে বাসের মধ্যেই মারা যান ওই বৃদ্ধ। দুইদিন পর ২০ ডিসেম্বর বেওয়ারিশ হিসেবে ওই ব্যক্তির লাশ নগরীর মানিকপীরের গোরস্থানে দাফন করে পুলিশ।

তৎকালীন দক্ষিণ সুরমা থানার ওসি আবু শ্যামা ইকবাল হায়াত সাংবাদিকদের জানান, সকালে নিহতের স্ত্রী জ্যোৎস্না থানায় এসে লাশটি তার স্বামীর বলে জানান। পায়ের জুতা ও মুখমণ্ডলের ছবি, হাতের ঘড়ি ও কোমরের বেল্ট দেখে স্বামীর পরিচয় শনাক্ত করেন তিনি।

গাড়িতে আগুনের ঘটনায় ওই বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাতে দক্ষিণ সুরমা থানায় দুটো মামলা হয়। এসআই মো. হারুন মজুমদার বাদি হয়ে হত্যা মামলা (৭৮৮/২০১৬) এবং পরিবহন ব্যবসায়ী শাহ নূরুর রহমান বাদি হয়ে দ্রুত বিচার আইনে আরেকটি মামলা করেন। মামলায় ১৪৩, ৩৪১, ৪৩৫, ৪২৭, ৩০২, ৩৪ দণ্ডবিধির ধারাসমূহ উল্লেখ করা হয়।

ওই মামলার আসামীদের মধ্যে অন্যতম ছিলেন বিএনপির তৎকালীন কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক এম. ইলিয়াস আলী, সহ-স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সামসুজ্জামান জামান, বিএনপি নেতা এটিএম ফয়েজ, মহানগর বিএনপির সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক আজমল বখত সাদেক, সিলেট জেলা যুবদলের বর্তমান সাধারণ সম্পাদক মকসুদ আহমদ, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক শাকিল মোর্শেদ, নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা ইফতেখার আহমদ দিনার, দক্ষিণ সুরমা উপজেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কোহিনুর আহমদ ও বিএনপি নেতা ফখরুল ইসলাম ফারুক। 

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর