সিলেটে শিশু ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যা মামলার প্রধান আসামি জাকির হোসেনকে আদালতে হাজির করার সময় উত্তেজনার সৃষ্টি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে সিলেট নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে নেওয়ার সময় তার ওপর হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেছেন প্রত্যক্ষদর্শীরা।
তবে পুলিশ বলছে, ‘এটি হামলা নয়’; আদালত প্রাঙ্গণে কেবল ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছে।
সিলেট মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার (গণমাধ্যম) মো. মনজুরুল আলম বলছেন, সকালে আসামিকে পর্যাপ্ত পুলিশি নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে নেওয়া হয়েছে।
তার ভাষ্য, জাকিরকে আদালতে নেওয়ার সময় কিছু ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটেছিল, তবে এটিকে হামলা বলা যাবে না। পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে ধাক্কাধাক্কিতে জড়িত ব্যক্তিদের সরিয়ে দিয়ে তাকে আদালতে নিয়ে যায়।
তবে ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীদের দাবি, সকালে প্রিজন ভ্যানে করে সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে জাকিরকে আদালতে আনা হয়। এ সময় আদালত চত্বরে আগে থেকেই নিহত শিশুটির স্বজন ও এলাকার কয়েকজন বাসিন্দা অবস্থান করছিলেন।
প্রিজন ভ্যান থেকে তাকে আদালত ভবনের দিকে নেওয়ার সময় তারা জাকিরকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়ে মারধর করেন। পরে দায়িত্বরত পুলিশ সদস্যরা লাঠিচার্জ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে তাকে আদালতের ভেতরে নিয়ে যান।
তবে হামলায় সম্পৃক্ততার অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শিশুটির এক চাচা। তিনি বলেন, তারা রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর ভূমিকা নিয়ে ক্ষুব্ধ।
তার অভিযোগ, রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আসামিপক্ষের ‘অনুকূলে’ অবস্থান নিচ্ছেন। এতে ন্যায়বিচার পাওয়া নিয়ে তাদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
চলতি বছরের ১১ মে রাতে চার বছরের শিশুটিকে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগে তার প্রতিবেশী জাকির হোসেনকে (৩০) গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর থেকে তিনি সিলেট কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন।
ঘটনার এক মাস পাঁচ দিন পর পুলিশ মামলার অভিযোগপত্র আদালতে জমা দেয়। অভিযোগপত্রে প্রধান আসামি হিসেবে জাকির হোসেনের বিরুদ্ধে ধর্ষণচেষ্টা ও হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।
এ ছাড়া তার দুই ভাই জয়নাল আহমদ ও আবুল কালামের বিরুদ্ধে লাশ গুমে সহযোগিতার অভিযোগ আনা হয়েছে।
পুলিশ জানায়, জাকির প্রথমে মরদেহটি ডোবায় ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে সেটি পানিতে না ডোবায় ডোবার পাশেই ফেলে রেখে যান। পরে স্থানীয়দের খবরে পুলিশ মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়।
গ্রেপ্তারের পর জাকির প্রথমে পুলিশের কাছে এবং পরে আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দেন।
১২ মে জাকিরকে গ্রেপ্তারের পর এক সংবাদ সম্মেলনে সিলেট মহানগর পুলিশের উপ-কমিশনার (উত্তর) মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম বলেন, ৬ মে সকালে মেয়েটিকে একটি দোকান থেকে সিগারেট এনে দিতে পাঠানো হয়।
শিশুটি সিগারেট এনে দেওয়ার পর জাকির তাকে নিজের ঘরে ডেকে নেন। সে সময় তার স্ত্রী বাড়িতে ছিলেন না। ঘরের দরজা বন্ধ করে শিশুটিকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে জিজ্ঞাসাবাদে আসামি জানিয়েছেন।
তবে ধর্ষণ সংঘটিত হয়েছিল কি না, তা স্বাস্থ্য পরীক্ষার প্রতিবেদন পাওয়ার পর নিশ্চিত হওয়া যাবে বলেও পুলিশ জানিয়েছিল।
আজকের সিলেট/এপি









