কোম্পানীগঞ্জে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জনে কাজ করছেন আসাদ
সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:০৬ PM

কোম্পানীগঞ্জে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জনে কাজ করছেন আসাদ

নিউজ ডেস্ক

প্রকাশিত: ২১/০৯/২০২৬ ০১:৩৭:০৮ PM

কোম্পানীগঞ্জে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মানুষের আস্থা অর্জনে কাজ করছেন আসাদ


সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনকে সামনে রেখে চেয়ারম্যান প্রার্থী হিসেবে মানুষের কাছে নিজের নির্বাচনী বার্তা তুলে ধরছেন তরুণ সমাজসেবক ও রাজনৈতিক কর্মী মোঃ আসাদুল হক আসাদ। শিক্ষা, ক্রীড়া, স্বাস্থ্য সচেতনতা, মাদকবিরোধী প্রচার এবং মানুষের মৌলিক দাবি আদায়ে ভূমিকার মাধ্যমে তিনি স্থানীয় পর্যায়ে পরিচিতি পেয়েছেন বলে দাবি করেছেন তার সমর্থকেরা।

সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় থেকে ১৯৯৭ সালে এসএসসি পাস করা আসাদ ছাত্রজীবন থেকেই সামাজিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত। পাশাপাশি রাজনৈতিক অঙ্গনেও তিনি পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তি নিয়ে কাজ করে আসছেন বলে তার অনুসারীদের দাবি। তিনি সিলেট মহানগর ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এবং মহানগর বিএনপির আহবায়ক কমিটিতে দাফতরিক দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে তিনি সিলেট জেলা বিএনপিতে সক্রিয় রয়েছেন।

উচ্চশিক্ষায় শিক্ষিত লায়ন আসাদ ক্রীড়াসহ মানুষের কল্যাণে বিভিন্ন সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে যুক্ত রয়েছেন। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে তিনি বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছে গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছেন বলে তার সমর্থকদের ভাষ্য।

কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার ৩নং তেলিখাল ইউনিয়নের ৫নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা আসাদ একটি সম্ভ্রান্ত পরিবারের সন্তান। তার বাবা মোঃ সুলেমান আলী সৎ ও সহজ-সরল জীবনযাপনের জন্য পরিচিত বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। তার দাদা মরহুম হাজী আতাউর রহমান (আতাই হাজী) কোম্পানীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকায় সম্মানিত ও প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং জনপ্রতিনিধি হিসেবে মানুষের কল্যাণে কাজ করেছেন। পরিবারের ভাষ্য, মরহুম হাজী হায়াত উল্লাহ ও মরহুম হাজী খলিলুর রহমানও মানুষের কাছে ভালো মানুষ হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। তাদের দাবি, বৃটিশ আমল থেকেই পরিবারের পূর্বসূরিরা মানুষের কল্যাণে কাজ করে আসছেন।

পরিবারের সেই ধারাবাহিকতায় শহরের আধুনিক জীবন ছেড়ে কোম্পানীগঞ্জের অবহেলিত ও বঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান লায়ন আসাদ। স্থানীয় শিক্ষা ও ক্রীড়াক্ষেত্রে ভূমিকা, স্বাস্থ্য সচেতনতা বাড়ানো এবং মাদকের ক্ষতিকর দিক নিয়ে প্রচার-প্রচারণায় সম্পৃক্ততার কারণে তিনি পরিচিতি পেয়েছেন বলে তার সমর্থকদের দাবি। অবৈধভাবে বালু-পাথর লুটপাটের সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধেও সোচ্চার থাকার কথা জানিয়েছেন তারা।

স্থানীয় মুরব্বি, সচেতন মহল ও তরুণদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগের মাধ্যমে নিজের অবস্থান তুলে ধরছেন আসাদ। এভাবেই তিনি স্থানীয় পর্যায়ে নিজের সমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছেন।

উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে আসাদ বলেন, আসন্ন উপজেলা পরিষদ নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী হিসেবে তিনি মানুষের কাছে নিজের নির্বাচনী বার্তা পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টা করছেন।

দলীয় সমর্থনের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী থাকা স্বাভাবিক। তবে দলের সবুজ সংকেত পাওয়ার ক্ষেত্রে বিভিন্ন মানদণ্ড নির্ধারিত রয়েছে। বিশেষ করে দলের দুঃসময়ে যারা দলের নির্দেশনা অমান্য করে দলের বিপক্ষে কাজ করেছেন এবং জনগণের কাছে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয় এমন কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন, তাদের বিষয়ে দল সর্বোচ্চ সতর্ক থাকবে বলে তিনি মনে করেন।

টাকা-পয়সার লেনদেনের মাধ্যমে কোনো প্রার্থীর সবুজ সংকেত পাওয়ার সুযোগ নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

কোম্পানীগঞ্জের ভোটার ও স্থানীয় সমস্যার কথা তুলে ধরে আসাদ বলেন, উপজেলার ছয়টি ইউনিয়নে পুরুষ ও নারী ভোটারের সংখ্যা প্রায় সমান। শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থার দুরবস্থা স্পষ্ট। ফলে এবারের নির্বাচনে যারা প্রার্থী হবেন, তাদের প্রত্যেককেই কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে মানুষের আস্থা অর্জন করতে হবে।

তার ভাষায়, এবারের স্থানীয় নির্বাচন ইতিহাসের সেরা নির্বাচন হবে। নির্বাচনে প্রার্থীর সম্পদ নয়, পরিবর্তনের বাংলাদেশে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার সক্ষমতা এবং ব্যক্তিত্বসম্পন্ন নেতৃত্ব গুরুত্বপূর্ণ। নতুন প্রজন্ম এমন নেতৃত্বকে দেখে নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে স্বপ্ন দেখবে এবং নিজেদের গড়ে তুলতে উৎসাহিত হবে বলে মনে করেন তিনি।

কোম্পানীগঞ্জের সম্ভাবনা সম্পর্কে আসাদ বলেন, প্রাকৃতিক সম্পদে সমৃদ্ধ এই ঐতিহ্যবাহী জনপদে সম্পদের সঠিক ব্যবহার, মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি, পরিকল্পিত আবাসন, জীবনমানের উন্নয়ন এবং সুশাসন নিশ্চিত করাই একজন জনপ্রতিনিধির বড় চ্যালেঞ্জ।

নির্বাচনের আগের রাতে অর্থের বিনিময়ে ভোটের চিত্র যাতে পরিবর্তিত না হয়, তা নিশ্চিত করা প্রশাসনের প্রধান দায়িত্ব বলেও মন্তব্য করেন তিনি। এটি নিশ্চিত করা গেলে প্রার্থীর শ্রম, মেধা ও যোগ্যতার মূল্যায়ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আসাদ।

তিনি বলেন, মানুষের কাছ থেকে এবং মানুষের পাশে থেকে নিজের লক্ষ্য অর্জনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন। নির্বাচনে বিজয়ী হওয়ার বিষয়ে তার দৃঢ় আশাবাদ ও বিশ্বাস রয়েছে।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর