গোয়াইনঘাটে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে কর্মবিরতিতে বাল্কহেড শ্রমিকরা
শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ০৩:৫৯ PM

গোয়াইনঘাটে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে কর্মবিরতিতে বাল্কহেড শ্রমিকরা

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩১/০৭/২০২৬ ০৩:২১:৫২ PM

গোয়াইনঘাটে চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে কর্মবিরতিতে বাল্কহেড শ্রমিকরা


গোয়াইনঘাটে পুলিশ ও চাঁদাবাজ চক্রের চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ হয়ে চার দিন থেকে বন্ধ রয়েছে বাল্কহেড (বালুবাহী নৌকা)। এতে করে বিপাকে পড়েছেন এসব নৌকার সাথে সংশ্লিষ্ট নৌশ্রমিকরা। নৌপথে চাঁদাবাজি বন্ধে ইতিমধ্যে সিলেটের বিভাগীয় কমিশনারের কাছে লিখিত অভিযোগও দায়ের করেছেন বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন। তার পরও এক অদৃশ্য শক্তির বলে কোনভাবেই এই চাঁদাবাজি বন্ধ করা সম্ভব হচ্ছে না।

বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন সূত্রে জানা যায়, সালুটিকর (গোয়াইন নদী), ছাতক (সুরমা নদী) এবং তাহিরপুরের পাটলাই ও রক্তি নদীতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ-পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ)-এর নাম ব্যবহারকারী কথিত ইজারাদার এবং ছাতক পৌরসভার কথিত ইজারাদার কর্তৃক চলন্ত বাল্কহেড ও নৌযান থেকে দুই থেকে তিন দফায় অতিরিক্ত টোল/ট্যাক্সের নামে অর্থ আদায় করা হচ্ছে। এছাড়াও গোয়াইনঘাট এলাকায় পুলিশের নাম ব্যবহার করে প্রতিটি নৌযান থেকে ৫,০০০ (পাঁচ হাজার) টাকা করে অবৈধ চাঁদা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে। স্থানীয় আলিম উদ্দিন নামে এক ব্যাক্তি নিজস্ব জনবল দিয়ে পুলিশ ও চাঁদাবাজ চক্রের এই টাকা উত্তোলন করছেন।

এসব চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করলে শ্রমিকদের ওপর হয়রানি, নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে। বিষয়টি নিয়ে ইতিমেধ্য জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, নৌ পুলিশ (সিলেট অঞ্চল), উপজেলা নির্বাহী অফিসার (গোয়াইনঘাট), অফিসার ইনচার্জ, গোয়াইনঘাট থানা এবং অফিসার ইনচার্জ, নৌ পুলিশ, ছাতক (সুনামগঞ্জ)-এর নিকট একাধিক লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হলেও কোন প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এর পর চাঁদাবাজি বন্দের দাবিতে মনববন্ধনও করেন নৌশ্রমিকরা।

এতকিছুর পরও কিছুতেই চাঁদাবাজি বন্ধ না হওয়ায় অনেকটা বাধ্য হয়েই গত চার দিন থেকে কর্মবিরতি পালন করেছেন নৌশ্রমিকরা।ফলে সিলেট ও সুনামগঞ্জ অঞ্চলের নৌপথে পণ্য পরিবহন ও ব্যবসা-বাণিজ্য মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। বাল্কহেড ও

নৌযানের মালিক-শ্রমিকরা চরম আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন এবং সাধারণ ব্যবসায়ীরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

বাংলাদেশ জাহাজী শ্রমিক ফেডারেশন গোয়াইনঘাট, সিলেট ও ছাতক নদীবন্দর সুনামগঞ্জ শাখার সভাপতি মোঃ আজমল হোসেন জানিয়েছেন, বাল্কহেড মালিক ও শ্রমিকরা সরকার কর্তৃক আইনানুগভাবে নির্ধারিত টোল, ট্যাক্স ও রাজস্ব পরিশোধে সম্পূর্ণ সম্মত। তবে কোনো প্রকার অতিরিক্ত, বেআইনি ও অননুমোদিত অর্থ আদায় তারা মেনে নিতে রাজি নন। তারা অবিলম্বে এসব চাঁদাবাজি বন্ধ করে স্বাভাবিক নৌ চলাচল পুনরুদ্ধার এবং চলমান কর্মবিরতির অবসান ঘটিয়ে শ্রমিকদের কর্মস্থলে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানিয়েছেন।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর