হিংসুক আত্মীয়দের নজর এড়াতে ব্লক নয়, তরুণদের পছন্দ ‘সফট ব্লকিং’
বৃহস্পতিবার, ২০ অগাস্ট ২০২৬, ০১:৪৪ PM

হিংসুক আত্মীয়দের নজর এড়াতে ব্লক নয়, তরুণদের পছন্দ ‘সফট ব্লকিং’

লাইফস্টাইল ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০/০৮/২০২৬ ১১:২৩:১৯ AM

হিংসুক আত্মীয়দের নজর এড়াতে ব্লক নয়, তরুণদের পছন্দ ‘সফট ব্লকিং’


কার সঙ্গে কোথায় ঘুরতে গিয়েছিলেন, কোন রেস্তোরাঁয় কবে খেয়েছিলেন কিংবা ব্যক্তিগত জীবনে কী ঘটছে সব কিছুই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকের নজরে পড়ে। বিশেষ করে আত্মীয়স্বজন বা পরিচিতদের কেউ যদি নিয়মিত এসব খোঁজখবর নিতে থাকেন, তখন অনেকেই অস্বস্তিতে পড়েন। রাগের মাথায় একবার মনে হতে পারে, সোজা ব্লক করে দেবেন। কিন্তু সেখানেও থাকে নানা ঝামেলা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কাউকে সরাসরি ব্লক না করেও নিজের ব্যক্তিগত জীবন থেকে দূরে রাখা যায়। তরুণদের মধ্যে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এমনই এক নীরব কৌশল। এর নাম ‘সফট ব্লকিং’। সরাসরি ব্লক না করে বিভিন্ন সেটিংসের মাধ্যমে নির্দিষ্ট ব্যক্তির সঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূরত্ব তৈরি করাই মূলত সফট ব্লকিং।

সফট ব্লকিং কী?

সফট ব্লকিং হলো কাউকে সরাসরি ব্লক না করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সঙ্গে নীরবে দূরত্ব তৈরি করা। এর মাধ্যমে সম্পর্ক পুরোপুরি ছিন্ন না করেও নিজের অনলাইন পরিসরকে ব্যক্তিগত রাখা যায়। কারো পোস্ট বা স্টোরি নিজের সামনে না আসার জন্য তাকে মিউট করে রাখা যায়। আবার নিজের পোস্ট কিংবা স্টোরি নির্দিষ্ট ব্যক্তির কাছ থেকে লুকিয়ে রাখার সুযোগও রয়েছে।

এছাড়া কাউকে অনুসরণ না করা, নিজের অনুসারীর তালিকা থেকে সরিয়ে দেওয়া কিংবা তার বার্তার উত্তর দেওয়ার পরিমাণ ধীরে ধীরে কমিয়ে দেওয়াও সফট ব্লকিংয়ের কৌশল হিসেবে দেখা হয়। অর্থাৎ ব্লকের মতো স্পষ্ট কোনো পদক্ষেপ না নিয়েই অনলাইনে যোগাযোগের পরিধি ছোট করে ফেলা।

নিজের গোপনীয়তা রক্ষায়

ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি তথ্য সবার সঙ্গে ভাগ করে নিতে চান না অনেকেই। কোথায় যাচ্ছেন, কার সঙ্গে সময় কাটাচ্ছেন বা কী করছেন- এসব তথ্য নির্দিষ্ট কিছু মানুষের কাছ থেকে আড়াল রাখতেই সফট ব্লকিংয়ের আশ্রয় নেন অনেকে।

দ্বন্দ্ব এড়াতে

কাউকে সরাসরি ব্লক করলে পারিবারিক বা সামাজিক সম্পর্কে অস্বস্তি তৈরি হতে পারে। আবার বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন, তর্ক কিংবা মনোমালিন্যও হতে পারে। এসব পরিস্থিতি এড়াতে নীরবে দূরত্ব তৈরি করাকে তুলনামূলক সহজ পথ মনে করেন কেউ কেউ।

সফট ব্লকিংয়ে কষ্ট বেশি হতে পারে?

সরাসরি কাউকে ব্লক করলে বিষয়টি অনেকটাই স্পষ্ট থাকে। কিন্তু সফট ব্লকিংয়ের ক্ষেত্রে কেন এমন আচরণ করা হচ্ছে, তা অনেক সময় বোঝা যায় না। ফলে যিনি এই পরিস্থিতির মুখে পড়েন, তার মনে নানা প্রশ্ন তৈরি হতে পারে- কী ভুল হয়েছে, কেন তাকে এড়িয়ে চলা হচ্ছে কিংবা তিনি আদৌ কোনো ভুল করেছেন কি না। এই অনিশ্চয়তা অনেক সময় মানসিক অস্বস্তি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে কাছের বন্ধু, আত্মীয় বা প্রিয়জনের আচরণ হঠাৎ বদলে গেলে বিষয়টি আরও বেশি কষ্টদায়ক হতে পারে।

সফট ব্লকিং কী ভালো ফলাফল আনে

বিষয়টি পুরোপুরি নির্ভর করে উদ্দেশ্য ও পরিস্থিতির ওপর। বিচ্ছেদের পর নিজের মানসিক শান্তির জন্য প্রাক্তন সঙ্গীর কাছ থেকে দূরত্ব বজায় রাখতে এটি করা হলে, সফট ব্লকিং ব্যক্তিগত সীমারেখা রক্ষার একটি উপায় হতে পারে। তবে কাউকে ইচ্ছাকৃতভাবে অপরাধবোধে ভোগানো, বারবার নিজের কাছে ফিরে আসতে বাধ্য করা কিংবা নিজের পেছনে ছুটতে বাধ্য করার উদ্দেশ্যে এমন আচরণ করা হলে তা মানসিক নিয়ন্ত্রণের চেষ্টায় পরিণত হতে পারে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ব্যক্তিগত জীবনের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠলেও সেখানে সব তথ্য সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়ার প্রয়োজন নেই। নিজের গোপনীয়তা ও মানসিক স্বস্তির জন্য প্রয়োজন অনুযায়ী অনলাইন সীমারেখা তৈরি করা যেতে পারে। তাই দীর্ঘদিনের বন্ধু বা গুরুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভুল বোঝাবুঝি তৈরি হলে হুট করে নীরবে দূরত্ব না বাড়িয়ে প্রয়োজনে খোলাখুলি কথা বলাই ভালো। কারণ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দূরত্ব তৈরি করা সহজ হলেও, একটি সম্পর্কের ভুল বোঝাবুঝি দূর করতে কখনো কখনো সরাসরি কথোপকথনের বিকল্প নেই।

আজকের সিলেট/ জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর