ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ আরও কঠোর হওয়ায় তেহরানের ধৈর্য ফুরিয়ে আসছে বলে মন্তব্য করেছেন দেশটির সাবেক কূটনীতিক ও তেহরানে আন্তর্জাতিক সম্পর্কের অধ্যাপক আব্বাস খামায়ার।
খামায়ার বলেন, ইরানের সাম্প্রতিক সামরিক নেতৃত্বে পরিবর্তন এবং বিভিন্ন রুদ্ধদ্বার বৈঠক ইঙ্গিত দিচ্ছে যে দেশটির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে ‘কিছু একটা প্রস্তুত হচ্ছে’। তার ভাষায়, এটি একটি ‘অপ্রত্যাশিত চমক’ হতে পারে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইরানের সাধারণ মানুষের মধ্যেও এ বিষয়টি ব্যাপকভাবে আলোচিত হচ্ছে। ইরানিরা আর খুব বেশি সময় ধৈর্য ধরে পরিস্থিতি সহ্য করবে বলে তিনি মনে করেন না।
তিনি সতর্ক করে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ অব্যাহত থাকলে অথবা দুই দেশের মধ্যে চলমান ‘যুদ্ধও নয়, শান্তিও নয়’ ধরনের অচলাবস্থা আরও দীর্ঘ হলে বড় ধরনের সংঘাতের আশঙ্কা রয়েছে।
তার মতে, ওয়াশিংটন যদি সমঝোতা স্মারকসংক্রান্ত বিদ্যমান বোঝাপড়াগুলোতে আবারও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ না হয়, তাহলে পরিস্থিতির অবনতি শুধু ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকবে না।
আঞ্চলিক সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা
সাবেক এই কূটনীতিক বলেন, পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হলে বড় ধরনের সংঘাত শুরু হতে পারে। এর ফলে নতুন নতুন যুদ্ধক্ষেত্র বা সংঘাতের ফ্রন্ট খুলে যেতে পারে এবং এতে মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য অঞ্চলও জড়িয়ে পড়তে পারে।
তিনি বলেন, এমন সংঘাতের প্রভাব শেষ পর্যন্ত শুধু আঞ্চলিক পর্যায়ে সীমাবদ্ধ না থেকে বৈশ্বিক পর্যায়েও পৌঁছাতে পারে।
খামায়ারের মন্তব্য এমন এক সময়ে এলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাঁর মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের ধৈর্যের সীমা ক্রমেই সংকুচিত হয়ে আসছে এবং যেকোনো ভুল পদক্ষেপ বড় ধরনের সংঘাতের সূত্রপাত করতে পারে।
আজকের সিলেট / জেকেএস
আন্তর্জাতিক ডেস্ক 








