পাকা সড়ক নেই, বাঁশের সাঁকোই ভরসা পেরুয়া-মধুপুরের মানুষের
বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৫ PM

পাকা সড়ক নেই, বাঁশের সাঁকোই ভরসা পেরুয়া-মধুপুরের মানুষের

আশরাফ উদ্দিন, দিরাই (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬/০৯/২০২৬ ১০:১৪:৫৮ AM

পাকা সড়ক নেই, বাঁশের সাঁকোই ভরসা পেরুয়া-মধুপুরের মানুষের


স্বাধীনতার প্রায় পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার পেরুয়া-মধুপুর এলাকার মানুষের সড়ক যোগাযোগের দুর্ভোগ কাটেনি। দীর্ঘদিন ধরে পাকা সড়ক ও টেকসই সেতুর দাবি জানিয়ে আসলেও এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো স্থায়ী সড়ক নির্মিত হয়নি। ফলে বর্ষা এলেই ঝুঁকিপূর্ণ বাঁশের সাঁকো পার হয়েই দুই গ্রামের মানুষের চলাচল করতে হচ্ছে।

স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিদিন হাজারো মানুষ জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এই সাঁকো ব্যবহার করেন। বিশেষ করে পানি বাড়ার সময় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, বয়স্ক মানুষ, গর্ভবতী নারী ও শিশুরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন।


এলাকাবাসী জানান, বছরের পর বছর ধরে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে পাকা রাস্তা ও একটি টেকসই সেতু নির্মাণের দাবি জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কার্যকর কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

সরেজমিনে দেখা যায়, স্থানীয়দের নিজেদের উদ্যোগে তৈরি বাঁশের সাঁকোটি দীর্ঘদিন ব্যবহারের কারণে বিভিন্ন স্থানে দুর্বল হয়ে পড়েছে। কোথাও কোথাও বাঁশ পচে গেছে। বৃষ্টির সময় সাঁকো পিচ্ছিল হয়ে যাওয়ায় প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, কেউ হঠাৎ গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়াও কঠিন হয়ে যায়। জরুরি প্রয়োজনে দ্রুত যাতায়াতের ক্ষেত্রেও তৈরি হয় বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা।

মধুপুর গ্রামের জুবায়ের মিয়া বলেন, রাস্তা না থাকায় বর্ষাকালে এলাকার শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা ব্যাহত হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে সাঁকো পার হতে গিয়ে অনেক সময় পা পিছলে বই-খাতা নিয়ে পানিতে পড়ে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এই দুর্ভোগ থেকে মুক্তি চান তারা।

জাহাঙ্গীর মিয়া বলেন, যোগাযোগ ব্যবস্থা ভালো না থাকায় এলাকার কৃষকরাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। উৎপাদিত কৃষিপণ্য বাজারে নিয়ে সঠিক মূল্যে বিক্রি করা যায় না। যাতায়াত খরচও অনেক বেশি পড়ে। ফলে যোগাযোগের অভাবে তারা অর্থনৈতিকভাবেও পিছিয়ে পড়ছেন।

মধুপুর সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সুজলা রানী রায় বলেন, তাঁরা ইউএনও অফিসে আবেদন করেছিলেন, তবে এখনো কোনো বরাদ্দ পাননি। তাঁর ভাষায়, ‘এইটা আজীবন ধরে সমস্যা।’ আগে নৌকা দিয়ে চলাচল করতে হতো, এখন সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।

চরনারচর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান পরিতোষ রয় বলেন, তিনি চেষ্টা করছেন। তবে সরকারের কোনো বরাদ্দ না থাকায় তাঁরা বঞ্চিত হচ্ছেন।

পেরুয়া-মধুপুর এলাকার সর্বস্তরের মানুষের দাবি, যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়নে দ্রুত একটি টেকসই সড়ক এবং প্রয়োজনীয় কালভার্ট বা সেতু নির্মাণ করা হোক। তাদের প্রত্যাশা, এই অবকাঠামো নির্মিত হলে দীর্ঘদিনের দুর্ভোগের অবসানের পাশাপাশি শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষিপণ্য পরিবহন এবং ব্যবসা-বাণিজ্যেও ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

আজকের সিলেট/প্রতিনিধি / জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর