টানা দুই সপ্তাহের আন্দোলন, শাটডাউন ও অচলাবস্থার পর আবারও সচল হয়েছে সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজ। রোববার দুপুরে প্রশাসনিক ভবনের তালা খোলার মধ্য দিয়ে কলেজটির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম পুনরায় শুরু হয়েছে।
সিলেট মহানগর বিএনপির সভাপতি নাসিম হোসাইনের মাধ্যমে প্রশাসনিক ভবনের তালা খোলা হয়। এ সময় শিক্ষার্থীরা হাততালি দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। পরে কলেজের নবনিযুক্ত অধ্যক্ষ ড. মো. সাহিদ ইকবাল ও নাসিম হোসাইনকে ফুল দিয়ে বরণ করে নেন সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
তালা খোলার পর শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে নাসিম হোসাইন বলেন, দীর্ঘ আন্দোলনের পর শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো সমাধানের একটি পথ তৈরি হয়েছে। এখন আন্দোলন নয়, পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়ার সময়।
তিনি বলেন, “আমরা চাই, এই কলেজের শিক্ষার্থীরা নিজেদের সুপ্ত প্রতিভার বিকাশ ঘটিয়ে দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখবে। তোমরা পড়াশোনায় মনোযোগী হবে।”
নাসিম হোসাইন আরও বলেন, বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আন্তরিক। কলেজটিকে কারিগরি শিক্ষা ব্যবস্থার বাইরে এনে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়ার বিষয়ে তিনি উদ্যোগ নেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।
নাসিম হোসাইন বলেন, “বাণিজ্যমন্ত্রী যা বলেন, তা পালন করেন। আমরা তাঁর ওপর আস্থা রাখতে চাই।”
কলেজের সংকট নিরসনে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও কাজ করছেন বলে জানান তিনি।
সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের বিষয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন নাসিম হোসাইন। তাঁর ভাষ্য, দীর্ঘদিনের এই দাবি বাস্তবায়নে উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রতিষ্ঠানটি নতুন উচ্চতায় পৌঁছাবে।
এ সময় সাবেক অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী এম সাইফুর রহমানের স্মৃতিচারণ করে তিনি বলেন, চারদলীয় জোট সরকারের আমলে তাঁর হাত ধরেই কলেজটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছিল। তখনই প্রতিষ্ঠানটিকে বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরের স্বপ্ন দেখানো হয়।
নাসিম হোসাইন বলেন, “আমরা আশা করি, শিগগিরই এটিকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা হবে। হয়তো তৃতীয় ও চতুর্থ বর্ষের যারা আছো, তাদের কেউ কেউ বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম ব্যাচের শিক্ষার্থী হওয়ার সুযোগ পেতে পারো।”
এর আগে শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সন্ধ্যায় সিলেট সার্কিট হাউসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। বৈঠকে কলেজটিকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের অধীনে নেওয়ার বিষয়ে উদ্যোগ গ্রহণের আশ্বাস দেওয়া হয়।
মন্ত্রীর আশ্বাসে সন্তুষ্ট হয়ে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা কর্মসূচি প্রত্যাহার এবং রোববার থেকে শ্রেণিকক্ষে ফেরার ঘোষণা দেন।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের কারণে প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে কলেজটির প্রশাসনিক ও একাডেমিক কার্যক্রম বন্ধ ছিল। এ সময় প্রশাসনিক ভবনে শিক্ষকদের অবরুদ্ধ রেখেও কর্মসূচি পালন করেন আন্দোলনকারীরা।
শিক্ষার্থীদের প্রধান দাবিগুলোর মধ্যে ছিল কলেজটিকে কারিগরি শিক্ষা অধিদপ্তরের আওতামুক্ত করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীনে নেওয়া, শিক্ষকসংকট নিরসন এবং প্রতিষ্ঠানটিকে পূর্ণাঙ্গ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তর করা।
এর আগে প্রবাসী কল্যাণ ও কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীও শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে আশ্বাস দিয়েছিলেন। জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশনের পক্ষ থেকেও কয়েক দফা সমঝোতা বৈঠক হয়। তবে এসব উদ্যোগের পরও শিক্ষার্থীরা আন্দোলন চালিয়ে যান। শেষ পর্যন্ত বাণিজ্যমন্ত্রীর আশ্বাসের পর তাঁরা কর্মসূচি প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেন।
২০০৭ সালে প্রতিষ্ঠিত সিলেট ইঞ্জিনিয়ারিং কলেজে তড়িৎ ও ইলেকট্রনিক প্রকৌশল, পুরকৌশল এবং কম্পিউটার বিজ্ঞান ও প্রকৌশল বিভাগে শিক্ষার্থীরা পড়াশোনা করছেন।
আজকের সিলেট/ জেকেএস









