অন্যান্য বছরের তুলনায় এবার বিপাকে ফুটপাত হকাররা। গেল বছরের তুলনায় ব্যবসার পরিহার কম। নেই কোনো ক্রেতারা। কান্নায় ভেংগে পড়ছেন হকার ব্যবসায়ীরা। ক্ষুদ্র পোশাক ব্যবসায়ী ও তাদের কাষ্টমারদের হইচই চলত দুপুর থেকে সেহরির সময় পর্যন্ত। এ বছর তেমনটা নেই।
হকার্সদের স্থান দেয়া হয়েছে লালদিঘিরপারে। তবে সেখানে দেখা মিলছে না ক্রেতাদের। বিক্রেতাদের চোখ মুখ শুকনো।তবে মেয়র নয়, এ অবস্থার জন্য তারা দায়ী করছেন পর্যাপ্ত প্রচারণার অভাবকে।
এবার হকাররা সেখানে অবস্থান নিয়েছেন। যে সুযোগ সুবিধা তাদের দেয়া হয়েছে, তা আরও বাড়ানো হচ্ছে। কাজও চলছে। তবে এবার ঈদে লালদিঘিরপার ক্রেতাশূণ্য থাকায় চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে হকারদের মধ্যে। তারা দায়ী করছেন প্রচারনার অভাবকে। প্রতিদিন নগরীর রাজপথে মাইকিং করে সাধারণ মানুষকে লালদিঘিরপারে হকারদের অবস্থানের কথা জানালে জমে উঠতো পোশাকের দোকানগুলো। হকারদের মুখেও হাসি ফুটতো।
এক হকার ব্যবসায়ী জানিয়েছেন, আমরা সারা বছর হকার্স সমিতিগুলোকে চাঁদা দেই। বিভিন্নভাবে বিভিন্ন উপলক্ষে চাঁদা দেয়ার পরেও এবার ঈদুল ফিতরে কেবল প্রচারণার অভাবে আমাদের ব্যবসা লাঠে উঠেছে। এমনও অবস্থা চলছে যে, কোনো কোনোদিন বনিও করতে পারছিনা।
বিষয়টি নিয়ে ফোন আলাপকালে সিলেট মহানগর হকার্স ঐক্যকল্যাণ পরিষদের সভাপতি রকিব আলী আজকের সিলেটকে বলেন, সবজি ব্যবসায়ীরা কিছু ব্যবসা করতে পারছে, কিন্তু কাপড় ব্যবসায়ীরা একেবারে খারাপ। কাপড় ব্যবসায়ীরা স্টাফ খরচ চালাতে পারছে না। প্রতিদিন মাইকিং করা যেতো। কিন্তু টাকা পয়সার অভাবে তা হয়ে উঠেনি। তবে আমরা চেষ্টা করছি, দু’একদিনের মধ্যে প্রচারণা শুরু হবে।
হকার্সদের চাঁদার টাকা নিয়ে আলাপকালে রকিব আলী আরও বলেন, এক বছর আগে ফাণ্ডের টাকাগুলো হকার্সদের হাতে তুলে দেয়া হয়েছে। এখন ফাণ্ডে কোনো টাকা নেই। তবে আমরা প্রচারণার চেষ্টা করছি এবং তা অচিরেই শুরু হবে।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের ফুটপাত থেকে রাজপথ পর্যন্ত একসময় হকারদের দখলে ছিল। ছিল তাদের জমজমাট ব্যবসা। এ বছর তাদের পুনর্বাসনের দিকে তাকাচ্ছে না। এ নিয়ে অনেক কিছু ঘটে গেছে। রাজপথে মিছিল সভা সমাবেশ যেমন হয়েছে, তেমিন আদালতের নির্দেশনাও ছিল। কিন্তু তবু হকার্সমুক্ত হচ্ছিলনা আধ্যাত্মিক এ নগরী। আর তাই গত নির্বাচনে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে পরিণত হয়েছিল। আওয়ামী লীগ মনোনীত মেয়র প্রার্থী হিসাবে আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর প্রধান নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি ছিল, নগরীর ফুটপাত হকার মুক্ত রাখা।
তিনি তার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী কাজও করছেন। হকারদের জায়গা দিয়েছেন লালদিঘিরপারে। সেখানে তাদের জন্য সুযোগ সুবিধাও বাড়িয়েছেন কয়েকগুণ। অবশ্য এ উদ্যোগ আগের মেয়রের সময়ের হলেও তিনি সেখানে হকারদের নিয়ে যেতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। কারণ সুযোগ সুবিধার অভাব ছিলো।
আজকের সিলেট/পিএ/এসটি
আহমেদ পাবেল 








