অমিতের কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া কে এই নারী ?
সোমবার, ০৪ মে ২০২৬, ০৪:০২ AM

অমিতের কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া কে এই নারী ?

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ৩০/০৪/২০২৪ ০৭:০৭:২৪ AM

অমিতের কিলিং মিশনে অংশ নেওয়া কে এই নারী ?


সিলেটের স্থানীয় পত্রিকা দৈনিক উত্তরপূর্ব’র কম্পিউটার ইনচার্জ  অমিত দাস শিবুর (৩৬) হত্যাকাণ্ডে অংশ নিয়েছিল ৮ খুনী। এদের মধ্যে এক লেডি কিলারও ছিল। পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে এমন তথ্য বেরিয়ে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের এ মামলায় সন্দিগ্ধ আসামী হিসেবে ফয়সল আহমদ (৩২) নামে একজনকে গ্রেফতার করে পুলিশ। শনিবার দিবাগত মধ্যরাতে শাহী ঈদগাহ এলাকা থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। গ্রেফতারকৃত ফয়সল শাহী ঈদগাহ এলাকার হাজারীবাগের ৪৮ নং বাসার মৃত আব্দুল মুকিতের পুত্র।

এর আগে গত বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে সিলেট মহানগরের এয়ারপোর্ট থানাধীন শাহী ঈদগাহ এলাকার হাজারিবাগ দলদলি চা-বাগানসংলগ্ন মাঠ থেকে অমিত দাস শিবুর লাশ  উদ্ধার করে পুলিশ। পরদিন শুক্রবার বিকেলে ময়না তদন্ত শেষে মহানগরের চালিবন্দর মহাশশ্মানে তাঁর মরদেহ দাহ করা হয়।

নিহত  অমিত সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার এলেংজুড়ি গ্রামের মৃত গৌর চাঁদ দাসের ছেলে। তিনি দুই সন্তানের জনক। সপরিবারে নগরের কানিশাইল এলাকায় বসবাস করছিলেন। তিনি দৈনিক উত্তরপূর্ব ছাড়াও পার্টটাইম দৈনিক সোনালী সিলেট এবং সর্বশেষ দৈনিক যুগভেরীতে ডিজাইনারের কাত করতেন। বৃহস্পতিবার দৈনিক যুগভেরীতে কাজ না থাকায় তিনি উত্তরপূর্বর কাজ শেষ করেই রাত ৯ টায় উত্তরপূর্ব অফিস থেকে বেরিয়ে পড়েন।

ঘটনার দুইদিনের মাথায় শনিবার দুপুরে অমিত দাসের বড় ভাই অনুকূল দাস বাদী হয়ে এসএমপির এয়ারপোর্ট থানায় অজ্ঞাতনামা আসামি করে একটি হত্যা মামলা করেন। ওই দিন রাতেই অভিযান চালিয়ে ফয়সল আহমদকে গ্রেফতার করে এয়ারপোর্ট থানাপুলিশ।

এসএমপি’র মিডিয়া অফিসার মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম জানান, প্রাথমিক তদন্ত ও পুলিশের কাছে গ্রেফতারকৃত ফয়সল আহমদের দেওয়া  তথ্যে জানা গেছে- তার সহযোগী আরো কয়েকজন  ঘটনার রাত আনুমানিক সাড়ে ৯টা থেকে সাড়ে ১০টার মধ্যে অমিতের মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে এলোপাথাড়ি কিল, ঘুষি, লাথি মারে এবং আসামিদের একজন অমিতের ব্যবহৃত হেলমেট দিয়ে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে। মারপিটের এক পর্যায়ে অমিত অচেতন হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। আসামিরা তার মৃত্যু নিশ্চিত করে ঘটনাস্থল ত্যাগ করে।

এদিকে, পুলিশের অপর একটি সূত্র গণমাধ্যমকে জানিয়েছে- প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে, অমিত হত্যাকাণ্ডে ৮ জন হত্যাকারী অংশগ্রহণ করে। এর মধ্যে একজন লেডি কিলারও ছিলো। তবে কী কারণে হত্যা করা হয়েছে সে রহস্য এখনও  উদঘাটন করা যায়নি।

গ্রেফতারকৃত ফয়সল পুলিশকে তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করছে না। ফলে গ্রেফতারের পর ফয়সলকে আদালতে প্রেরণ করে ৭ দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করেছে পুলিশ। তাকে রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করে হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করা হবে। এছাড়া এ ঘটনায় জড়িত অন্য আসামিদের গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেফতারকৃত ফয়সল একজন দুর্ধর্ষ সন্ত্রাসী। তার বিরুদ্ধে চুরি, ছিনতাই, ডাকাতিসহ অনেক ৪টি মামলা রয়েছে সিলেট কোতোয়ালি এবং এয়ারপোর্ট থানায়।

আজকের সিলেট/কে.আর

সিলেটজুড়ে


মহানগর