সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়াম থেকে : এবারের বিপিএলের বরাবর মতো বিভিন্ন সমালোচনা নিয়ে শুরু হয়। ছিলো দর্শকহীন। আশা ছিলো সিলেট পর্বে দেখা মিলবে দর্শকদের। প্রাণ ফিরবে সিলেটে। ফিরলো তবে সহসাই নয়। প্রাণ ফিরলো এবারের বিপিএলের অষ্টম দিন, সিলেট পর্বের চতুর্থ দিন অথাৎ ১৬তম ম্যাচে।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের গ্যালারি ঘুরে দেখা যায়, সিলেটের ম্যাচ শুরু হবার আগেই দর্শকরা লাইন ধরে মাঠে ঢুকছেন। প্রবেশ পথে লম্বা লাইন। হাতে সিলেট স্ট্রাইকার্স এর ব্যানার। গালে শরীরে রঙ-তুলির আচঁড়ে 'শুভ কামনা সিলেট' এমন শুভ কামনা জানিয়ে সমর্থকদের ভীড়, ভিআইপি গ্যারারির কিছু অংশ বাদে তিল পরিমাণ জায়গা নেই।
আজকের টস জিতে সিলেটের অধিনায়ক মাশরাফি বোলিং করার সিদ্ধান্ত নেন। মাঠে খেলোয়াড়রা ডুকতেই দর্শকদের হৈ-হুল্লোরে মাতিয়ে তুলে স্টেডিয়াম। প্রতি বলে বলে সমর্থকদের প্রাণান্ত উচ্ছাসে যেন স্টেডিয়াম প্রাণ ফিরে পেয়েছে, প্রাণ ফিরে পেয়েছে ক্রিকেট।
এর আগে কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ানস ও রংপুর রাইডারস ম্যাচে ৮ রানের জয় পেয়ে যায় রংপুর রাইডার্স। এই জয়ের ভিত অবশ্য গড়ে দেন আজমতউল্লাহ ওমরজাই।
রংপুরের এই আফগানিস্তান অলরাউন্ডার ব্যাট হাতে ২০ বলে অপরাজিত ৩৬ রানের ইনিংস খেলার পর বল হাতে নেন ২ উইকেট।
সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে দিনের প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাটিং করে ২০ ওভারে ৫ উইকেট হারিয়ে ১৬৫ করে রংপুর। রান তাড়ায় ৬ উইকেটে ১৫৭ রান তোলে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। কুমিল্লার বিপক্ষে এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের তিনে উঠে এল রংপুর।
এদিন ইনিংসের শুরুটা অবশ্য ভালো হয়নি রংপুরের। ১২ বলে ১৪ রান করে ফেরেন ওপেনার ব্র্যান্ডন কিং। এরপর ফজলে মাহমুদ রাব্বিকে নিয়ে ইনিংস টানেন বাবর আজম। কিন্তু অর্ধশতকের পথে হাঁটা এই পাকিস্তানি ৩৬ বলে ৩৭ রান করে আউট হন।
একপ্রান্ত আগলে রেখে দারুণ খেলেন ফজলে, কিন্তু মুস্তাফিজুর রহমানের বলে ২১ বলে ৩০ রান করে ফিরতে হয় তাঁকে।
শেষদিকে আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের ২০ বলে অপরাজিত ৩৬ রানের ঝড়ের সঙ্গে নুরুল হাসানের ৬ বলে অপরাজিত ১৫ রানের সুবাদে চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ পায় রংপুর।
রান তাড়ায় শুরুতে কোনো রান না করে আউট হন কুমিল্লার অধিনায়ক লিটন দাস। এরপর ওয়ানডে স্টাইলে ব্যাটিং করেন মাহিদুল ইসলাম অংকন ও মোহাম্মদ রিজওয়ান। দ্বিতীয় উইকেট জুটিতে ৫৬ বলে ৫৯ রান করেন দুজন।
রিজওয়ান ১৭ রান করে আউট হলে ভাঙে এই জুটি। একপ্রান্ত আগলে খেলে ফিফটি তুলে নেন মাহিদুল। তবে চাহিদা মেনে ব্যাট করতে পারেননি তিনি। ৫৫ বলে ৬৩ করেন আউট হন মাহিদুল।
শেষ দিকে চেষ্টা করেছিলেন তাওহিদ হৃদয় ও খুশদিল শাহ, তবে লাভ হয়নি। ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠার আগে খুশদিলকে নিজের দ্বিতীয় শিকার বানান ওমরজাই। এতে কাজে আসেনি তাওহিদের ২৮ বলে ৩৯ রানের ইনিংস।
আজকের সিলেট/এমএম/এসটি
মিজান মোহাম্মদ 








