সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অবশেষে এসএমপির বহুল আলোচিত ও সমালোচিত উপ-কমিশনার ইমাম মোহাম্মদ শাদিদকে সরিয়ে রংপুর রেঞ্জ ডিআইজি অফিসে সংযুক্ত (ওএসডি) করা হয়েছে। তাকে এসমপিতে সবাই গোপালগঞ্জী ইমাম সাব বলেই জানতেন। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার নিজ জেলা গোপালগঞ্জের বাসিন্ধা হওয়ায় ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের সময়ে তিনি তার সিনিয়র অফিসারদেরকেও পাত্তা দিতেন না। এমনকি গোলাপগঞ্জী অনেক সিনিয়র কর্মকর্তার নাম ভাঙ্গীয়ে দাপটের সাথে দূর্ণীতিতে নিমজ্জিত ছিলেন।
এমনকি তার বাড়ি গোপালগঞ্জে হওয়ায় তিনি শেখ হাসিনা পরিবারের অত্যন্ত ঘনিষ্টজন পরিচয় দিয়ে সর্বক্ষেত্রে ধাপিয়ে বেড়াতেন। এমনকি বিএনপি-জামায়াত সহ তৎক্ষালিন সময়ে বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের গায়েবী মামলায় গ্রেফতারের পর রিমাণ্ডে নিয়ে পেঠানোর মূল নায়ক ছিলেন তিনি।
গত বুধবার বাংলাদেশ পুলিশের ডিআইজি, অতিরিক্ত ডিআইজি ও পুলিশ সুপার পদমর্যাদার ঊর্ধ্বতন ৬৫ কর্মকর্তাকে একযোগে বদলি এবং ও এসডি করা হয়েছে। এর মধ্যে শাদিদ রয়েছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের জননিরাপত্তা বিভাগের পুলিশ-১ শাখা থেকে পৃথক দুটি প্রজ্ঞাপনে তাদের বদলি ও ওএসডি করা হয়।
এসএমপি’র উপ-কমিশনার (সদ্য বদলিকৃত) ইমাম মোহাম্মদ শাদিদ ছিলেন সিটিএসবি’র দায়িত্বে ছিলেন। দায়িত্বে থাকাকালে পাসপোর্ট ভেরিফেকশনের সময় মানুষকে হয়রানি করার অনেক অভিযোগ রয়েছে। খোদ পুলিশ সদস্যদের আত্মীয়দের কাছ থেকেও তার নাম ভাঙ্গিয়ে ইনকোয়ারি অফিসাররা ঘুষ খেতেন বলে একাধিক অভিযোগ পাওয়া গেছে।
সিলেটের অনেক সাংবাদিকও তাদের স্বজনদেরও পাসপোর্ট ভেরিফিকেশনের সময় টাকা দিতে হয়েছে পুলিশেল সিটিএসবি সদস্যদের। সবাই ডিসি শাদিদের নাম করেই ঘুষ গ্রহণ করতেন। এছাড়াও বিগত সময়ে নারী ক্যালেঙ্কারী নিয়ে তিনি ব্যাপক সমালোচনায় পড়েন।
উল্লেখ্য, ইমাম মোহাম্মদ শাদিদ কট্টোরপন্থী আওয়ামী ঘরনার পুলিশ অফিসার হওয়ায় বিগত জুলাই-আগষ্ট বিপ্লবে সিলেট নগরীর একাধিক স্থানে তার নেতৃত্বে আন্দোলনরত ছাত্রজনতার উপর হামলার ঘটনা ঘটে। ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদের পতনের পর সিলেটে হওয়া একটি মামলারও এজাহারভুক্ত আসামিও তিনি।
তার বিরুদ্ধে আমাদের অনুসন্ধান অব্যাহত রয়েছে। সিলেটে তার কতিত চিকিৎসক স্ত্রীর বিস্তারিত জানতে চোখ রাখুন আজকের সিলেটে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
নিজস্ব প্রতিবেদক 








