জৈন্তাপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে রাজবাড়ীর স্মৃতি বিজড়িত মেগালিথ ধ্বংসাবশেস পুরাকীর্তি স্হানে পুনরায় ময়লা আবর্জনা স্তুপে পরিনত হয়েছে। মাস ছয়েক পূর্বে স্থানীয় ভুক্তভোগী নাগরিকদের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে সমালোচনার সৃষ্টি হলে ময়লার স্তুপ অপসারণ করা হয়েছিলো।
কিন্তু কয়েকমাস না যেতেই পূর্বের অবস্থায় ফিরে গেছে স্হাপনার অংশটি। সরজমিনে গিয়ে দেখা যায় নিজপাট তোয়াশিহাটি প্রবেশমুখ ও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের সামনে ময়লার স্তুপ থেকে ভয়াবহ দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে চারপাশে।
সাধারণ রাতের আধারে লোকচক্ষুর অন্তরালে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় অসংখ্য ময়লা আবর্জনা কে বা কারা প্রতিদিন ফেলে দিয়ে যাচ্ছে।
এই জায়গাটি জৈন্তেশ্বরী রাজবাড়ীর পুরাকীর্তির একটি ধ্বংসাবশেষ। ১৮০০ শতাব্দীর শেষ দিকে গ্রেট ইন্ডিয়ান আর্থকোয়েক নামে ভয়াবহ একটি ভূমিকম্পে জৈন্তাপুর রাজবাড়ী ঐতিহাসিক কিছু নিদর্শন ভেঙ্গে পড়ে। এই স্হানটি তারই একটি অংশ। ভেঙ্গে পড়া এই অংশে সুড়ঙ্গের মত ছোট একটি গুহা আকৃতি ধারণ করে আছে।
এক সময় বিভিন্ন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রছাত্রীরা জৈন্তেশ্বরী রাজবাড়ী ও ইরাদেবী র পুরাকীর্তি দেখতে আসলে এই স্হানটি নিয়ে তাদের কৌতুহলের শেষ থাকতো না।
কয়েকমাস পূর্বে ইরাদেবী রাজবাড়ী পুনঃসংস্কার করা হলেও এই স্হানটি রয়ে গিয়েছে পুরো অরক্ষিত। বর্তমানে ময়লা আবর্জনার ভাগাড়ে পরিণত হওয়ায় আশপাশের স্কুল, প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বাসাবাড়ি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে অবস্থান করা জনসাধারণ রয়েছে চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকিতে।
নিজপাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ইন্তাজ আলি জানান, কয়েকবার পরিস্কার করার পরেও রাতের আধারে বাসাবাড়ি ও ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান থেকে উচ্ছিষ্ট ময়লা এনে ফেলে দেয়া হচ্ছে। এতে করে ব্যাবসায়ী ও আবাসিক এলাকার বাসিন্দারা পরস্পরকে দোষারোপ করে আসছেন। কিন্তু জনপ্রতিনিধি হিসেবে সকলের কটুকথা শুনতে হয় আমাদের।
তিনি জানান, পরিস্কার করার পর পুনরায় এই অংশে ডাষ্টবিন হিসেবে ব্যাবহার করলে পরিস্কার করে কোন লাভ নেই। জনসচেতনতা প্রয়োজন সবার আগে। তিনি বলেন দ্রূত সময়ের মধ্যে পুনরায় পরিস্কারের ব্যাবস্হা করা হবে। সেই সাথে সরকারি স্কুল কর্তৃপক্ষকে একটা সিসিটিভি লাগানোর জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি। যেন পরবর্তী সময় কে বা কারা এই অংশে আবর্জনা ফেলে তা সনাক্ত করা যায়।
জৈন্তাপুর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা শাহানা জাফরিন রোজী বলেন, এটা খুবই দুঃখজনক যে জৈন্তাপুর সদর এবং সিলেট জেলার শ্রেষ্ঠ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সামনে পরিস্কার করার সত্বেও বারবার আবর্জনার স্তুপে পরিনত করা হচ্ছে। যা স্কুলের ছাত্র ছাত্রীদের জন্য মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে ফেলছে।
তিনি জানান, চেয়ারম্যান সাহেবের সিসিটিভির ব্যাপারে স্কুল কর্তৃপক্ষ উদ্যোগ নিতে যাচ্ছে। আগামী এসএসসি পরীক্ষা শুরুর দুএকদিন পরে স্কুলের দেয়াল থেকে একটি ক্যামেরা এই অংশে লাগানো হবে।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
জৈন্তাপুর প্রতিনিধি 








