ঋতুরাজ বসন্তের প্রারম্ভেই গ্রাম বাংলার প্রকৃতিকে রাঙিয়ে ফুটছে শিমুল ফুল। নানা ছন্দে কবি সাহিত্যিকদের লেখার খোরাক যোগায় রক্ত লাল এই শিমুল ফুল। মাঘ মাস শেষ হতে না হতেই প্রকৃতিতে বইছে ফাল্গুনের হাওয়া। আগমন ঘটেছে ঋতুরাজ বসন্তের। বছর ঘুরে প্রকৃতি তার নানা পরিবর্তন পেরিয়ে আবার সেজেছে নতুন রূপে। বসন্তের সাজ সাজ রব শীতের জীর্ণতা কাটিয়ে ফুলে ফুলে সজ্জিত প্রকৃতি জানান দিচ্ছে বসন্তের আগমনী বার্তা।
সুনামগঞ্জের দোয়ারাবাজার উপজেলার সুরমা ইউনিয়নের শিমুলতলা গ্রামের বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বাড়ির রাস্তার পাশে দেখা গেলো কয়েকটি শিমুল গাছ। সে গাছে ফুটেছে লাল রংগের শিমুল ফুল। পাখিরা ফুলের ফাঁকে-ফাঁকে উড়া-উড়ি করছে। শিমুলের ডালে বসে কোকিল মনের আনন্দে গান করছে। কোকিলের সু-মধুর গান কারণা ভাল লাগে।
তখন বীরমুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমান আজকের সিলেটকে বলেন, আমার গ্রামের নামই শিমুলতলা। যখন দেশ স্বাধীনের জন্য যুদ্ধ করেছিলম। তখন এ গ্রামে প্রায় দুই থেকে তিনশটি শিমুল গাছ ছিল। এখন আর তা নাই! যতদিন যাচ্ছে শিমুল গাছের কদর কমতেছে। এখন সারা গ্রাম খুজলে দশটি শিমুলের গাছ পাওয়া অসম্ভব হবে। তবে আমার যে কয়েকটি শিমুল গাছ আছে সে গাছগুলি রাখতেছি স্বযতনে। বসন্ত এলে সমস্ত গ্রাম শিমুলের ফুলে লাল হয়ে যায়।
শিমুলতলা গ্রামের মাওলানা জমির উদ্দীন আজকের সিলেটকে বলেন, শিমুলের নাম অনুযায়ী আমাদের গ্রামের নাম রাখা হয়েছে শিমুলতলা। গ্রামের আনাচে-কানাচে, রাস্তায়, পতিত ভিটায় প্রচুর শিমুল গাছ দেখা যেত। ছোট বেলা দেখেছি বসন্তকাল এলে সকাল বেলা আমাদের গ্রামের রাস্তা ঘাট লাল হয়ে যতো শিমুলের ফুলে। এখন আর আগের মতো শিমুলের গাছ নাই। ফুল আসবে কোথায় থেকে।
শিমুলতলা গ্রামের বীর মুক্তিযোদ্ধা আঞ্জির আলী আজকের সিলেটকে বলেন, এক সময় বাড়ির আনাচে-কানাচে, রাস্তায়, পতিত ভিটায় প্রচুর শিমুল গাছ দেখা যেত। কোকিল শিমুল গাছের ডালে বসে মধুর সুরে গান করতো। বসন্ত এলে শিমুল গাছগুলো সাজতো বাহারি রঙের ফুলে। কিন্তু কালের বিবর্তনে আধুনিকতার ছোঁয়ায়। আগের মতো তেমন চোখে পড়ে না শিমুল গাছ। প্রতিনিয়ত বিলুপ্ত হচ্ছে মূল্যবান শিমুল গাছ।
দোয়ারাবাজারের স্থানীয় তুলা ব্যবসায়ী ফারুক মিয়া আজকের সিলেটকে বলেন, একটি বড় ধরনের শিমুল গাছ থেকে তুলা বিক্রি করে ১০-১৫ হাজার টাকা আয় করা সম্ভব। আগের তুলনায় এখন শিমুলের তুলার দাম অনেক বেশি। এর পরও এই গাছ নিধন হচ্ছে প্রতিনিয়ত। তাছাড়া শিমুল গাছ রক্ষায় এখনই ব্যবস্থা না নিলে এক সময় উপকারী গাছের তালিকা থেকে এ গাছটি হারিয়ে যাবে। ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হয়তো জানতেও পারবে না বাংলার মাটিতে শিমুল নামের কোন গাছ ছিল।
আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/এসটি
শাহ্ মাশুক নাঈম, দোয়ারাবাজার (সুনামগঞ্জ) থেকে 








