মধ্যনগরে সরিষার বাম্পার ফলন
শুক্রবার, ১৫ মে ২০২৬, ০৯:০৪ PM

মধ্যনগরে সরিষার বাম্পার ফলন

মধ্যনগর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি

প্রকাশিত: ১৬/০২/২০২৪ ১১:০২:২০ AM

মধ্যনগরে সরিষার বাম্পার ফলন


গত কয়েকদিন ধরে সরিষা বিক্রির চেষ্টা করেও বারবার পিছপা হয়েছেন কৃষক আবুল কাশেম। কাক্সিক্ষত মূল্য না পেয়ে হাটে তুলেও সরিষা নিয়ে বাড়ি ফিরে এসেছেন। এখন লোকসানের হিসাব কষে চিন্তিত তিনি। এই কৃষক বলেন, যতখানি আশা ভরসা নিয়ে আবাদ করি ওই মূল্য পাই না। খরচাপাতি বেশি অথচ দাম নেই। সরিষার মণ চার হাজার টাকা হলে আমরা লাভবান হতাম। দাম না বাড়লে সরিষার চাষ করে পুষিয়ে উঠা সম্ভব হচ্ছে না।

মধ্যনগরে এবার সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। কিন্তু কৃষকেরা প্রকৃত দাম পাচ্ছেন না। ক্রেতার সংখ্যা কম হওয়ায় কৃষকেরা কম দামেই বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন।

মধ্যনগর উপজেলার নিশ্চিন্তপুর গ্রামের আবদুল মান্নান বলেন, এবারে ১১ বিঘা জমিতে সরিষা বপন করেছি। ফলন ভালো হয়েছে। বোরো ধানের খরচ পুষিয়ে নিতে প্রতিবছর এই আবাদ করে থাকি। এই আবাদটি কৃষকদের জন্য আশীর্বাদস্বরূপ। তবে আমরা প্রকৃত দামে সরিষা বিক্রি করতে পারছি না। বাইরের বড় বড় মহাজনেরা এখনো এলাকায় সরিষা কিনতে আসেননি। গত বছর ভেজা সরিষাই নিম্নে দুই হাজার টাকা মণ দরে বিক্রয় করেছিলাম। এবার প্রতি মণ এক হাজার টাকা থেকে ১২শত টাকা দরে বিক্রি করতে হচ্ছে।

কৃষক ও কৃষি সম্প্রসারণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, অনুকূল আবহাওয়া আর কৃষি উপকরণের সরবরাহ ঠিক থাকায় এবার মধ্যনগর উপজেলায় সরিষার বাম্পার ফলন হয়েছে। এ উপজেলায় সরিষার আবাদ লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণর অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য মতে, মধ্যনগর উপজেলায় চলতি বছরে ৬৯০ হেক্টর জমিতে সরিষার চাষ হয়েছে। সবচেয়ে বেশি চাষ হয় বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে। বিনামূল্যে উন্নত জাতের সরিষা বীজ ও সার সহায়তা দেয়ার কারণে গত বছরের তুলনায় এবছর ওই ইউনিয়নে সরিষা চাষ বেড়েছে ৪২ শতাংশ। পতিত জমিতেও সরিষার চাষ করেছেন চাষিরা। বংশীকুন্ডা দক্ষিণ ইউনিয়নে গত বছর সরিষা চাষ করা হয়েছিল ৩৫০ হেক্টর জমিতে। এ বছর চাষ করা হয়েছে ৪৯০ হেক্টর জমিতে। প্রতি বিঘায় পাঁচ থেকে ছয় মণ সরিষার ফলন পাওয়া যাচ্ছে। তবে ক্রেতার সংখ্যা কম থাকায় কৃষকেরা ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না।

জানা যায়, এবার কৃষকেরা কৃষি কর্মকর্তাদের পরামর্শ অনুযায়ী দেশীয় জাতের ওপর নির্ভরশীল না থেকে উচ্চফলনশীল জাত ব্যবহার করায় এবং অন্যান্য উপকরণ সঠিক মাত্রায় ব্যবহার করায় উৎপাদন ভালো হয়েছে। ইতোমধ্যেই জমি থেকে সরিষা তোলা শেষ হয়েছে।

উপজেলার বংশীকুন্ডা বাজারের সরিষার খুচরা ক্রেতাদের মধ্যে হাদিস মিয়া ও গিয়াস উদ্দীন বলেন, গত বছর সরিষা মজুত করে লাভ হয়নি। এ কারণে জোরালোভাবে কেনা হচ্ছে না। ভৈরব থেকে এখন পর্যন্ত বড় বড় মহাজনেরা আসছেন না। আবার বড় বড় কোম্পানির মালিকেরাও সরিষা কেনা শুরু করেননি। যে কারণে বাজার মন্দা যাচ্ছে।

মাঠপর্যায়ে কর্মরত উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা আকমল হোসেন বলেন, এ এলাকার সরিষা সাধারনত মধ্যনগর বাজার হয়ে কিশোরগঞ্জ জেলার ভৈরব বাজারে রপ্তানি করা হয়। এবছর ভৈরবের বড়বড় ব্যবসায়ীরা সরিষা ক্রয়ে অনাগ্রহী হবার কারণে স্থানীয় বাজারে সরিষার ন্যায্যমূল্য মিলছে না।

অনেকের মতে, বাজারে আমদানিকৃত ভোজ্য তেলের আমদানি ও বাজারদর ঠিক রাখতে কৃত্রিম এ সংকট তৈরি করে সরিষার নাষ্যমূল্য থেকে কৃষকদের বঞ্চিত করা হচ্ছে। এ অবস্থা চলতে থাকলে আগামীতে কৃষকরা সরিষা চাষে আগ্রহ হারবেন।

কৃষি বিভাগের উপপরিচালক বিমল চন্দ্র সোম জানান, লক্ষ্যমাত্রার বেশি সরিষার আবাদ হয়েছে। এবার রোগবালাই দেখা যায়নি। মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের তীক্ষè দৃষ্টি রাখায় এবার ভালো ফলন হয়েছে। এই ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে এই মুহূর্তে বাজারে সরিষার ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাচ্ছে না এটা সত্যি।

কৃষকদের একটু ধৈর্য ধরার পরামর্শ দিয়ে এই কর্মকর্তা বলেন, এই মুহূর্তে সরিষা ভাঙিয়ে ভোজ্য তেল হিসেবে ব্যবহার করা যায়, আর কিছুদিনের মধ্যেই এই সংকট কেটে যাবে।

আজকের সিলেট/ডি/এসটি

সিলেটজুড়ে


মহানগর