সুনামগঞ্জের ইতিহাস আর ঐতিহ্যের সঙ্গে জড়িয়ে আছে জামালগঞ্জ উপজেলার নবীন চন্দ্র উচ্চ বিদ্যালয়ের নাম। প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই বিদ্যালয় পেরিয়ে গিয়েছে আপন শৈশব আর কৈশোরের স্মৃতি নিয়ে। ২০০৭ থেকে ২০২৫ পর্যন্ত সেই স্কুলের সাবেক শিক্ষার্থীরা এবার এক হলো ব্যতিক্রমী এক আয়োজনে।
স্থানটা ছিল সিলেটের মনের মতো চা-বাগানে পরিবেষ্টিত গুয়াবাড়ি ইনডোর মাঠ। চারপাশে সবুজে ঢাকা মনোরম পরিবেশ চা-বাগানের মাঝখানে মাঠটাকে দেখে মনে হচ্ছিল স্বপ্নের মতো। সেই মনোরম পরিবেশের বুক চিরে বেজে উঠলো হুইসেলের শব্দ, শুরু হলো ফুটবল ম্যাচ।
এই খেলাটা শুধু শরীরচর্চা নয় — ছিল স্মৃতি খোঁজার একটা উপলক্ষ। ছোটবেলার সেই খেলা, সেই স্যারের বকুনি, সেই দৌড়ঝাঁপের কথা মনে পড়ে যাচ্ছিল। অনুষ্ঠানে অংশ নেয় বিভিন্ন পেশায় প্রতিষ্ঠিত একঝাঁক সাবেক শিক্ষার্থী। কেউ ব্যবসায়ী, কেউ শিক্ষক, কেউ আবার দেশের বাইরে থাকলেও এই আয়োজন ঘিরে সবার মধ্যে ছিল প্রাণের টান। অনেকেই সরাসরি উপস্থিত হতে না পারলেও মুঠোফোন আর অনলাইনে শুভেচ্ছা জানিয়ে এই উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
ফুটবল মাঠের গ্যালারি থেকে কেউ চিৎকার করছিল, কেউ আবার পুরনো বন্ধুকে দেখে কাঁধে হাত রেখে বলছিল, "কেমন আছিস রে!" কেউ গোল দিয়ে উদযাপন করছিল, কেউ গোল মিস করে হাসিতে গড়াগড়ি খাচ্ছিল।
এই আয়োজন প্রমাণ করল — সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জের নবীন চন্দ্র উচ্চ-বিদ্যালয় শুধু বিদ্যার পাঠশালা নয়, স্মৃতি আর বন্ধুত্বের এক মহা ঐতিহ্য। আর সেই ঐতিহ্য এবার জায়গা করে নিল সিলেটের মনুরম চা-বাগানের সবুজ আচ্ছাদিত মাঠে।
দিনশেষে সবাই মিলে ছবি তোলা, পুরনো দিনের গল্প আর ভবিষ্যতে আরও বড় আয়োজনের স্বপ্ন। সবার মুখে একই কথা— "এই সম্পর্ক, এই ঐতিহ্য যুগ যুগ ধরে বেঁচে থাক।"
আজকের সিলেট/এসসিজে
শিপন চন্দ জয় 








