সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান স্পোর্টওয়ার্কজ এর চ্যানেল হ্যাকিংয়ের শিকার হলে আজ খেলা দেখায় সাফের ইউটিউব চ্যানেল। নির্ধারিত সময়ে খেলা সরাসরি সম্প্রচার করতে পারেনি তারা। ২৪ মিনিটের পর লাইভ দেখা যায় বাংলাদেশ ও নেপাল ম্যাচ। খেলা দেখায় সমর্থকদের জন্য কিছুটা সমস্যা তৈরি হলেও কাঙ্ক্ষিত জয় ঠিকই পেয়েছে বাংলাদেশের মেয়েরা।
সুরভী আকন্দ প্রীতির দুর্দান্ত হ্যাটট্রিকে সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে ফিরতে দেখায় নেপালকে ৪-১ গোলে বিধ্বস্ত করেছে বাংলাদেশ। সুরভীর হ্যাটট্রিক ছাড়াও গোল পেয়েছেন থুইনুইয়ে মারমা। প্রতিযোগিতায় প্রথম দেখায় নেপালকে ৩-০ ব্যবধানে হারিয়েছিল কোচ মাহবুবুর রহমান লিটুর দল।
আজ ভুটানের থিম্পুর চাংলিনিথাং স্টেডিয়ামে ম্যাচের শুরু থেকেই বল নিয়ন্ত্রণে রেখে নেপালের রক্ষণে বার বার হানা দিতে থাকে বাংলাদেশ। তবে সাফল্য পেতে অপেক্ষা করতে হয় ৩৯ মিনিট পর্যন্ত।
৩২ মিনিটে প্রীতির রক্ষণছেঁড়া পাস, নেপালের গোলরক্ষক লাক্সমি ওলি এগিয়ে আসার আগে বলের নাগাল পাননি আলপি। তিন মিনিট পর আলপির ক্রসে এবার গোলমুখের সামনে বলে পা ছোঁয়াতে পারেননি প্রীতি।
৩৭ মিনিটে মাঝ মাঠ থেকে প্রতিপক্ষের কয়েকজনকে কাটিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন প্রীতি। এই ফরোয়ার্ডের কাছ থেকে বল পেয়ে অবশ্য নেপালের গোলরক্ষকের শরীর বরারবর মারেন আলপি। তবে পরের মিনিটে আর ভুল করেননি থুইনুইয়ে। কয়েকজনের বাধা পেরিয়ে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে সোজা নিচু শটে নেন, লাক্সমির পায়ের নিচ নিয়ে বল জড়ায় জাল। খেলায় ১-০ গোলে লিড নেয় বাংলাদেশ।
৪০ মিনিটে বাংলাদেশের রক্ষণ ফাঁকি দিয়ে বল নিয়ে এগিয়ে যান নেপালের ইয়াম কুমারি, সামনে গোলরক্ষক ইয়ারজান বেগম। তবে বিপজ্জনক হওয়ার আগেই পেছন থেকে দৌড়ে দারুণ ট্যাকল করেন অর্পিতা। বিরতির আগেমুহূর্তে লিড দ্বিগুণ করেন প্রীতি। ৪৫ মিনিটে নেপালের দুই ডিফেন্ডার সামঝানা চান্দ ও মায়া শ্রেষ্ঠকে বোকা বানিয়ে প্রীতির পায়ে বল তুলে দেন মামনি চাকমা। বাম প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢুকে চিপ শটে গোলরক্ষকের মাথার উপর দেয়ে জালে বল জড়ান প্রীতি।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের দুই মিনিটের মাথায় ডিফেন্ডারদের ভুলে গোল হজম করে বাংলাদেশ। ববিতা কার্কির কর্নার থেকে বল পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন আলপি। বক্সের সামনে বল পেয়ে সোজা গোলে শট নেন নেপালের ফরোয়ার্ড রাবিনা। সেটি সহজেই আটকান মমিতা খাতুন। তবে বল তখনও নিজেদের বক্সে, সেখান থেকে বল ক্লিয়ার করবেন এ নিয়ে দ্বিধা দেখা যায় বাংলাদেশের তিন ডিফেন্ডার সুরভী রানী, ক্রানুচিং মারমা ও অর্পিতার মধ্যে। সেই সময় দৌড়ে এসে গতিময় শটে লক্ষ্যভেদ করেন নেপালের অধিনায়ক ভূমিকা বুদাথোকি। শেষ পর্যন্ত ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় টিটুর দল।
৫০ মিনিটে সমতায় ফেরার সুযোগ হাতছাড়া করেন নেপালের অধিনায়ক। সামনে ছিলেন কেবল বাংলাদেশের গোলরক্ষক ইয়ারজান, তবে ভূমিকা বল মারেন পোস্টের বাইরে দিয়ে। ৫৫ মিনিটে নেপালের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে প্রতিপক্ষের বিপদসীমায় ঢুকে পড়েন পূর্ণিমা মারমা, যদিও তার নেওয়া শট বাইরে দিয়ে যায়।
৬৭ মিনিটে আলপিকে তুলে কোচ রিয়াকে বদলি হিসেবে নামান কোচ টিটু। পরের মিনিটে গোলরক্ষককে পরাস্ত করতে পারলেই গোল পেতে পারতেন পূর্ণিমা। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় প্রীতিও পড়েন নেপালি ডিফেন্ডারদের বাধার মুখে।
এ সময় একের পর এক আক্রমণ শানায় বাংলাদেশ। টানা তিনটি কর্নারও আদায় করে নেয় দল। সবশেষটি থেকে গোলও আদায় করেন প্রীতি। ৭০ মিনিটে মামনি চাকমার কর্নার থেকে গোলমুখের সামনে আলতো টোকায় বল জালে জড়ান প্রীতি। নেপালের বিপক্ষে আগের ম্যাচেও গোল পেয়েছিলেন এই ফরোয়ার্ড।
৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর গোলের ক্ষুধা যেন বাংলাদেশকে আরও পেয়ে বসে। নেপালের ডিফেন্ডারদের ব্যস্ত সময় উপহার দেন বাংলাদেশের মেয়েরা। চাপ ধরে রেখে ৮৬ মিনিটের মাথায় ব্যবধান আরও বাড়ান প্রীতি। সেই সঙ্গে ম্যাচে নিজের হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন তিনি। ডানপ্রান্ত দিয়ে ঢুকে নেপালের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে প্রীতির কাছে পাস দেন পূর্ণিমা। গোলমুখের সামনে থেকে সহজেই জাল কাঁপান প্রীতি। এই নিয়ে টুর্নামেন্টে ৫ গোল হলো তার। শেষ পর্যন্ত ৪-১ গোলের দারুণ জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশের মেয়েরা।
এই জয়ে চার ম্যাচে বাংলাদেশের পয়েন্ট ৯, টেবিলের দুইয়ে তারা। এক ম্যাচ কম খেলে শীর্ষে থাকা ভারতের অর্জন সমান ৯ পয়েন্ট। সন্ধ্যা ৬টায় তাদের মোকাবিলা করবে ভুটান। চার ম্যাচ শেষে তিন হার এবং এক জয়ে পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের তিনে নেপালের। এখন পর্যন্ত কোনো পয়েন্ট পায়নি স্বাগতিক ভুটান।
প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের পরের ম্যাচ আগামী পরশু, প্রতিপক্ষ ভুটান। যাদেরকে প্রথম দেখায় ৩-১ গোলে হারিয়েছিল বাংলাদেশ।
আজকের সিলেট/এপি
ক্রীড়া ডেস্ক 








