ওয়ানডে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত ৮টি ম্যাচ খেলেছে বাংলাদেশ। এর ৩টিতেই হেরে গেছে তারা। ২০২৩ সালের ওয়ানডে বিশ্বকাপে ডাচদের কাছে পরাজয় ছিল বাংলাদেশের জন্য অনেক বড় ব্যর্থতা।
এবার প্রথমবারের মতো ঘরের মাঠে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি খেলবে বাংলাদেশ টিম। এই ফরম্যাটে ডাচদের বিপক্ষে বাংলাদেশের রেকর্ড ভালো, পাঁচ ম্যাচে জয় চারটিতে। তাই বলে নেদারল্যান্ডসকে হালকাভাবে নিতে চান না লিটন।
বৃহস্পতিবারের সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামে সংবাদ সম্মেলনে লিটন বলেছেন, সামনের সিরিজে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে হারলে হারতেও পারেন তারা। তবে সব ম্যাচে জেতার জন্যই নামবেন তারা।
দীর্ঘ সংবাদ সম্মেলনে লিটনের প্রশ্নোত্তর পর্ব দেখে নেওয়া একনজরে
পাওয়ার হিটিং নিয়ে দলের ভাবনা
লিটন: দেখেন, কেউ আসলে তো দুই-তিন দিনে পুরোপুরি বদলে দিতে পারবে না। তবে তার (জুলিয়ান উড) কিছু থট প্রসেস ছিল প্র্যাকটিসের, যেগুলো নতুন মনে হয়েছে আমাদের কাছে। আমরা কাজ করেছি। দেখা যাক, বাদ বাকিটা এখন... এখনও তো ম্যাচ খেলিনি সে আসার পরে। আমাদের একটা ম্যাচও হয়নি। নেদারল্যান্ডসের সিরিজ দিয়েই দেখা যাবে যে বাংলাদেশ টিম এখান থেকে কতখানি ডেভেলপ করেছে।
লিটন: এই জার্নিটা খুবই ভালো ছিল। পাকিস্তান সিরিজের সময়ও বলেছিলাম যে আমাদের একটা ব্রেক থাকবে এবং ফিটনেস অনেক বড় এখনকার ক্রিকেটে, যেটা আমরা করেছি। ফিটনেসের প্রতি ফোকাস ছিল আমাদের সবার।
ফিটনেসের পর আমরা আমাদের স্কিলেরও ডেভেলপ করার চেষ্টা করেছি। ওভারঅল আমি যদি দেখি আমাদের প্রিপারেশন ভেরি গুড। আপনি এত ভালো ফ্যাসিলিটি সহকারে প্রিপারেশন খুব কমই পাওয়া যায়। আমার মনে হয় বাংলাদেশ টিম লাস্ট যে ব্রেক ছিল, ব্রেকের পর থেকে খুব ভালো প্রিপারেশনে আছে।
নেদারল্যান্ডস সিরিজে এক্সপেরিমেন্টের সুযোগ
লিটন: না! দেখেন যেকোনো ইন্টারন্যাশনাল ম্যাচই আপনার জন্য চ্যালেঞ্জিং হবে। নেদারল্যান্ডও ভালো টিম। হয়তোবা তারা এই কন্ডিশনে খুব একটা খেলে না। তবে যদি ভালো উইকেটে ক্রিকেট হয়, তারা ভালো উইকেটে ক্রিকেট খেলে অভ্যস্ত। তাই দুই সাইডেই চ্যালেঞ্জ থাকবে... আর অবশ্যই যদি এশিয়া কাপের আগে আমাদের হাতে ওই সুযোগ থাকে কিছু ক্রিকেটার দেখার, আমরা দেখব। তবে এটা ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট। আপনাকে জেতার জন্যই যেতে হবে।
এই সিরিজ ভালো করলে এশিয়া কাপের রিয়েলিটি চেক
দেখেন, আপনি এশিয়া কাপে যখন খেলবেন, ভিন্ন দল থাকবে। সেই দল আমরা এখানে আনতে পারব না। তবে প্রায় একই কন্ডিশন থাকবে আমার মনে হয়। আমরা সবাই জানি আবুধাবি ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি উইকেট হয়। সিলেটও অনেকটাই ব্যাটিং ফ্রেন্ডলি উইকেট।
তো মিল যদি আমি দেখতে চাই, ওইদিক দিয়ে থাকবে। আর আপনি যে কথাটা বললেন যে ২০০-২৫০ রান করাটা, এটা একটা অভ্যাসেরও বিষয়। আমরা যদি করতে পারি খুবই ভালো। না করতে পারলেও আমরা ওই ধারাবাহিকতা চেষ্টা করব যে ওইখানে কীভাবে পৌঁছানো যায়।
এশিয়া কাপের আগে এই সিরিজ হেরে গেলে সমালোচনার ঝড়ে পড়ার ঝুঁকি
লিটন: না, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেটে এমন কোনো দল নেই যে ছোট দল। তো আমরা... আমরা সবসময় খেলি জেতার জন্য এবং আগে বা ভবিষ্যতেও যতগুলো ম্যাচ খেলব সব জেতার জন্যই যাব।
বাংলাদেশ এর আগেও অনেক দলের কাছে হেরেছে, নতুন কিছু না। যদি হেরে যাই, হেরে যেতেই পারি। দুইটা দলই খেলতে এসেছে, একটা দল জিতবে, একটা দল হারবে। আমরা কতটা ভালো ক্রিকেট খেলতে পারতেছি, এটা হচ্ছে মূল।
ফ্লাডলাইট নিয়ে কনসার্ন?
লিটন: ফ্লাডলাইট কেমন? না, কয়েকদিন প্র্যাকটিস করলাম ভালো। আরেকটু লাইট যদি বাড়ানো যায় তাহলে অবশ্যই আরও ভালো। তবে মিরপুরের চেয়ে এখানে ভালো।
ব্যাটিং কোচের সঙ্গে কাজের ফল তাড়াতাড়ি পাওয়া যাবে নাকি আরও সময় প্রয়োজন?
লিটন: এক-দুই দিন বা সেশনে আপনি আসলে খুব একটা ডেভেলপ করতে পারবেন না। আমরা যারা ক্রিকেট এখানে খেলি, অলমোস্ট সাত-আট বছর ধরে হয়ে গেছে, কারো কারো ১০ বছর হয়ে গেছে। তো সবার একটা প্যাটার্ন তো থাকে। যে যার প্যাটার্নে ক্রিকেট খেলতেছে। তার ভেতরে চেষ্টা করতেছে যে ভিন্ন কিছু আনার জন্য। বাট এটা দেখা যাবে আপনার একটু সময় দিতে হবে। কোনো কিছু তো এক-দুইদিনে চেঞ্জ হয়ে যায় না। যদি একটু সময় কন্টিনিউ আমরা ওই ফোকাসে থাকতে পারি, হয়তোবা অদূর ভবিষ্যতে চেঞ্জ হবে।
লিটন: দল তো দিয়ে দিয়েছে, এটা আপনারাও জানেন। পারভেজ ইমনের বিষয়টা এখনও আমি নিশ্চিত নই। ম্যানেজমেন্ট বা ফিজিওর তরফ থেকে আমার কাছে কোনো ইনফরমেশন আসেনি। আর সৌম্য তো আমাদের ব্যাকআপ অপশনেই আছে। সো যদি কখনো প্লেয়ার ইনজুরড হয়, যে পজিশনের কথা বললেন, তাহলে অবশ্যই সে আসবে।
এশিয়া কাপের প্রস্তুতিটা কীভাবে নিচ্ছেন?
লিটন: আগেও বললাম যে এখানকার কন্ডিশনের মতো ওখানেও হওয়ার চান্স আছে । তো কয়েকদিন ধরে প্র্যাকটিস করেছি। একটা ম্যাচও খেলেছি আমরা। আর আমরা জানি এখানকার কন্ডিশন কী হতে পারে এবং আমাদের প্লেয়াররাও সব জানে যে ওখানে কন্ডিশন কী হতে পারে। চেষ্টা করব কন্ডিশনটা কাজে লাগিয়ে যেন ম্যাচের রেজাল্ট বের করতে পারি।
লিটন: আমি তো খুব খুশি যে আমার দলে দুজন ক্রিকেটার যুক্ত হয়েছেন। এমন না যে, যারা এখান থেকে দলে নেই, তারা খারাপ প্লেয়ার। তারাও বাংলাদেশের জন্য অনেক... অনেক কিছু করেছে এবং অদূর ভবিষ্যতেও আবারও তারা হয়তোবা আবার কামব্যাক করবে। সোহান এবং সাইফ লাস্ট বিগত অনেকগুলো বছর ধরেই তারা ভালো ক্রিকেট খেলছে। স্পেশালি সোহান ভাই তো অনেকদিন ধরেই মোটামুটি ভালো ক্রিকেট খেলছে।
সাইফের যে জিনিসটা, সাইফের লাস্ট বিপিএল ও গ্লোবাল সুপার লিগ। আবার একটা গেম খেলে এলো অস্ট্রেলিয়াতে। তার যে খেলার যে প্যাটার্নটা ছিল, আমার কাছে মনে হয় আমাদের এমন একটা প্লেয়ার দরকার ছিল যে কিনা একটু অ্যাগ্রেসিভ মাইন্ডে ক্রিকেট খেলতে পারবে মিডল অর্ডারে এবং এক-দুই ওভার যার কাছ থেকে বোলিং পাওয়া যায়। ওই জন্যই কিন্তু সাইফকে নেওয়া।
চেষ্টা করব যে সাইফ তার যে ক্যালিবারটা আছে, যেটা সে ন্যাশনাল টিমের বাইরে যে গ্রেড ক্রিকেটগুলো ছিল ওখানে খেলেছে, সেগুলো এখানেও খেলার চেষ্টা করবে। যদি তারা সুযোগ পায়, আমি চেষ্টা করব... আমি চাইবো তারা যেন তাদের সেরা ক্রিকেটটা খেলতে পারে বাংলাদেশের জন্য।
এক-দুই ম্যাচ পরে যে তারা বাদ পড়ে যাবে, জিনিসটা এমন না। টি-টোয়েন্টি ফরম্যাট, যেকোনো সময় আপনার অ্যাগ্রেসিভ ক্রিকেট খেলার জন্য আপনি আউট হয়েই যেতে পারেন। এটা টিম ম্যানেজমেন্ট বুঝব যে প্লেয়ারটা কী রকম খেলার চেষ্টা করছে। যদি বুঝি যে না, সে টিমের জন্য সবকিছু দিতে প্রস্তুত, অবশ্যই টিম ম্যানেজমেন্ট ব্যাক করবে।
আজকের সিলেট/এপি
ক্রীড়া ডেস্ক 








