শহীদ মিনারে আসলেও হৃদয়ে নেই ভাষা শহীদদের প্রতি ‘শ্রদ্ধা’!
বুধবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৪, ১০:১৪

শহীদ মিনারে আসলেও হৃদয়ে নেই ভাষা শহীদদের প্রতি ‘শ্রদ্ধা’!

নিজস্ব প্রতিবেদক

প্রকাশিত: ২১/০২/২০২৪ ০৭:২৫:৩৫

শহীদ মিনারে আসলেও হৃদয়ে নেই ভাষা শহীদদের প্রতি ‘শ্রদ্ধা’!



আমি বাংলায় কথা কই, আমি বাংলার কথা কই, আমি বাংলায় ভাসি, বাংলায় হাসি, বাংলায় জেগে রই। মায়ের ভাষা বাংলা রক্ষার জন্য ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রাজপথে আন্দোলনে নামে বাংলার দামাল ছেলেরা। পাকিস্তানি বাহিনীর গুলিতে প্রাণ হারান সালাম-বরকত-রফিক-শফিক-জব্বার আরও কত নাম না-জানা কত শহীদ। তাদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে আমরা ফিরে পাই আমাদের প্রাণের ভাষা, মায়ের মুখের বুলি, মধুর ভাষা বাংলা। ভাষা-একটি জাতির যোগাযোগের প্রধান মাধ্যম। এটি শুধু চিন্তা-চেতনা, মনন ও মনের ভাব প্রকাশের কেবল মাধ্যমই নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে দেশ ও জাতির আত্মপরিচয়। হাজার বছর ধরে বাংলা ভাষা প্রকাশ করে যাচ্ছে বাঙালি জাতির অস্তিত্ব ও স্বকীয়তা।  

সেই থেকে জাতির এই সূর্যসন্তানদের প্রতি একুশে ফেব্রুয়ারিতে নানাভাবে স্মরণ করা হয় অনিঃশেষ শোক-শ্রদ্ধায়। ব্যতিক্রম নয় আজও। সিলেটসহ সারা দেশে এবং বিশ্বের নানা স্থানে ছড়িয়ে থাকা বাঙালিরা শহীদদের স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে স্মরণ করছেন অনন্য মহিমায় ভাস্বর দিনটি। কিন্তু এমন দিনেই সিলেটে এক কিশোর অকপটে জানালো-  ভাষাশহিদদের প্রতি তার নেই কোনো শ্রদ্ধা! শ্রদ্ধা আসে না মন থেকে!

মহান একুশের প্রথম প্রহর থেকে মহানগরের চৌহাট্টাস্থ সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণের মধ্যদিয়ে বাংলা ভাষাশহিদদের প্রতি শোক ও শ্রদ্ধা জানাচ্ছেন সকল শ্রেণি-পেশার মানুষ। রাত থেকেই বিভিন্ন প্রশাসন ও সংগঠন ধারাবাহিকভাবে শ্রদ্ধা নিবেদন করছে। নিবেদিত পুষ্পশ্রদ্ধায় ছেয়ে গেছে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারবেদি। কিন্তু এরই মাঝে চরম আপত্তিকর মন্তব্য করে বসলো ইতালি প্রবাসী বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত মা-বাবার এক কিশোর সন্তান।

বুধবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সিলেট কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারে ভাষাশহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে আসা লোকজনের অনুভূতি জানতে চান এ প্রতিবেদক। এক পর্যায়ে ১৬-১৭ বছরের এক কিশোরের কাছে অনুভূতি জানতে চাইলে সে করে বসে চরম আপত্তিজনক ও ভাষার জন্য প্রাণ দেওয়া সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার ও শফিউরের প্রতি অশ্রদ্ধাজনক মন্তব্য।

নাম-ঠিকানা প্রকাশে অনিচ্ছুক এ কিশোর বলে- ‘তাদের প্রতি (ভাষাশহিদ) শ্রদ্ধা মন থেকে আসতেছে না আসলে। আমি ইতালিতে থাকি। আমার জন্মও সেখানে। তবে মা-বাবার জন্ম সিলেটে। বাংলা যেটুকু বলতে পারি- তাদের কাছ থেকেই শিখেছি।’

এক প্রশ্নের জবাবে ওই কিশোর বলে- ‘কয়েক দিনের জন্য দেশে এসেছি। আবার চলে যাবো। আজ শহিদ মিনার দেখতে আসলাম। তবে শ্রদ্ধা জানানো উচিৎ কি উচিৎ না বুঝতে পারছি না। হয়তো উচিৎ, হয়তো উচিৎ না।’

তার এমন মন্তব্য শুনে অবাক হয়ে যান আশপাশে থাকা মানুষজন। তারা আক্ষেপ করে বলেন- এই কিশোরের এমন মানসিকতার জন্য দায়ী ওর মা-বাবা। বিদেশে থাকলেও দেশের জন্য ভালোবাসা তৈরি করে দেওয়ার দায়িত্ব ওর অভিভাবকেরই।

আজকের সিলেট/জেকেএস

সিলেটজুড়ে


মহানগর