সিলেটে দিনে দিনে বাড়ছে তরমুজ আবাদ। সবচেয়ে বেশি আবাদ হয়েছে পর্যটন খ্যাত পর্যটনের নগরী সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায়।
অনাবাদি জমি আবাদের আওতায় আনতে চলতি মৌসুমে সবচেয়ে বেশি আগাম জাতের তরমুজ চাষ হয়েছে উপজেলার পূর্ব জাফলং, পূর্ব আলীরগাঁও ও পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নে। উপজেলার অনাবাদি জমিগুলো এখন উচ্চমূল্যের ফসল তরমুজে ভরপুর। হাওর, বিলের পার নদীর তীর ও ধান আবাদী জমিতেও তরমুজ চাষ হয়েছে। আনারকলি শান্তি সহ বিভিন্ন ধরনের হাইব্রিড তরমুজের আবাদে ভালো ফলনের পাশাপাশি বাজারে ভালো দামে বিক্রি করছেন তরমুজ চাষিরা।
উৎপাদিত তরমুজ স্থানীয়ভাবে চাহিদা মিটিয়ে যাচ্ছে দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায়। মাটি ও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় এবছর উপজেলায় তরমুজের বাম্পার ফলন হয়। তরমুজ আবাদে বিগত বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে এমনটাই জানিয়েছে উপজেলা কৃষি অফিস। রোগ ও পোকা-মাকড়ের আক্রমণ না থাকায় ফলনের কোনো বিপর্যয় হয়নি। এতে কৃষকদের মুখে হাসি ফুটেছে।
কাঙ্ক্ষিত পরিমাণ ফলন পেয়ে উৎপাদন খরচ পুষিয়ে ঘুরে দাঁড়াতে পারবেন বলে মনে করছেন তরমুজ চাষিরা। স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে উৎপাদিত তরমুজ চলে যায় বাইরের জেলায়। উপজেলার বিস্তীর্ণ ফসলের ক্ষেতে তরমুজের সমারোহ। এখন চলছে শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি। কেউ ক্ষেত পরিচর্যা, সার-ওষুধ প্রয়োগ, আগাছা দমন আর কেউ বা ক্ষেত থেকে তরমুজ তোলা নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন। ফলনও হয়েছে ভালো। তাই সন্তুষ্ট তরমুজ চাষীরা।
সরেজমিনে দেখা যায়, উপজেলার বিভিন্ন হাট বাজারে দেদারছে তরমুজ বিক্রি হচ্ছে। তরমুজের গুনাগুন সাইজ আকার দেখে বিভিন্ন দামে ক্রয় করছেন ক্রেতারা। প্রতি পিস ৭০, ৮০ থেকে শুরু করে ১০০ ও ১২০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি হচ্ছে। বিক্রেতারা জানান, তারা স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন মালিকের কাছ থেকে তরমুজের বাগান ক্রয় করে সেখান থেকে প্রতিদিন বাছাই করে বিক্রির চাহিদা অনুযায়ী তরমুজ এনে বাজারে বিক্রি করছেন। এছাড়াও ডি আই পিক আপের মাধ্যমে বিভিন্ন জেলা থেকে পাইকাররা এসে তরমুজের বিভিন্ন বাগানের মালিকের কাছ থেকে তরমুজ পাইকারি হারে ক্রয় করে নিয়ে যেতে দেখা যায়।
উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা যায়, গোয়াইনঘাট উপজেলার মাটি ও আবহাওয়া তরমুজ চাষের উপযোগী হওয়ায় এই উপজেলার পূর্ব জাফলং, পূর্ব আলীরগাঁও,পশ্চিম আলীরগাঁও ইউনিয়নে আগাম তরমুজ চাষ হয়ে থাকে। যা স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে তরমুজ চলে যায় দেশের বিভিন্ন জেলায়। আর তাই দিন দিন জনপ্রিয় হয়ে উঠছে তরমুজের আবাদ।তরমুজ চাষে কৃষকদের আগ্রহ বাড়ায় এ বছর উপজেলায় দ্বিগুণ হারে তরমুজের আবাদ হয়েছে। গত বছর ১৪৫ হেক্টর জমিতে তরমুজ আবাদ হয়েছিল এ বছর তা ছাড়িয়ে ২৩৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। আগামীতে তরমুজ আবাদ আরও বাড়বে বলেও মনে করছে উপজেলা কৃষি বিভাগ।
হুদপুর গ্রামের কৃষক নজরুল ইসলাম ও মস্তাক আহমদ জানান,তারা ৬ বিঘা জমিতে তরমুজ চাষ করে এ পর্যন্ত ৭ লক্ষ টাকার তরমুজ বিক্রি করেছেন।
উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মন্তজুর আলম বলেন,আমার ব্লকে তুরমুজ আবাদ হয়েছে ১০৫ হেক্টর। যাহা গতবছরের তুলনায় দিগুণ।তিনি জানান বেশির ভাগ তরমুজ আবাদ হয়েছে পতিত জমিতে বিলের চতুরপার্শে।
পূর্ব আলীরগাঁও ইউপির উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা জয়নুর রশীদ বলেন,আমার ব্লকে ৪৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। সবার ফলন অনেক ভালো। আমরা কৃষকদের বিভিন্ন পরামর্শ দিয়েছি। ফলন ভালো হওয়ায় তরমুজ আবাদে তাদের আগ্রহ বেড়েছে।
উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা রায়হান পারভেজ রনি বলেন,তরমুজ একটি লাভজনক ফসল।এ বছর উপজেলায় ২৩৫ হেক্টর জমিতে তরমুজের আবাদ হয়েছে। গত বছর যা ছিল ১৪৫ হেক্টর। লক্ষমাত্রার চেয়ে বেশি তরমুজ আবাদ হওয়ায় বিগত দিনের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন,উপজেলার তরমুজ চাষীরা জানুয়ারীর শেষ সপ্তাহ থেকে শুরু করে ফেব্রুয়ারির মধ্যে পর্যন্ত সময়ে আগাম তরমুজ বিক্রির কাজ শেষ করতে পারায় তারা ভালো দাম পায়।যার জন্য উপজেলা কৃষকরা তরমুজ চাষে আগ্রহী হচ্ছে এবং বছর বছর তরমুজের আবাদ বাড়ছে।
আজকের সিলেট/প্রতিনিধি/মিমো
সৈয়দ হেলাল আহমদ বাদশা, গোয়াইনঘাট থেকে 








