আগ্রহের কেন্দ্রে স্পিন, সিরিজ জয়ে নজর বাংলাদেশের
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬, ০৮:০৬ PM

আগ্রহের কেন্দ্রে স্পিন, সিরিজ জয়ে নজর বাংলাদেশের

ক্রীড়া ডেস্ক

প্রকাশিত: ২০/১০/২০২৫ ০৮:২৭:৩৯ PM

আগ্রহের কেন্দ্রে স্পিন, সিরিজ জয়ে নজর বাংলাদেশের


স্পিনারদের দাপটের আভাস নিয়েই মিরপুর শের-ই বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে মঙ্গলবার ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে সিরিজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে নামছে বাংলাদেশ দল। প্রায় দেড় বছর পর এবার দ্বিপাক্ষিক সিরিজ জয়ের হাতছানি তাদের সামনে।

হোম অব ক্রিকেটে দ্বিতীয় ওয়ানডে শুরু হবে দুপুর ১টা ৩০ মিনিটে। প্রথম ম্যাচের মতোই দ্বিতীয়টিতেও স্পিনবান্ধব উইকেট হওয়ারই সম্ভাবনা বেশি। প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ২০৭ রান করেও ৭৪ রানের বড় জয়ে সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে আছে বাংলাদেশ।

স্পিনের দাপট থাকা ম্যাচে দুই ইনিংস মিলিয়ে ৮৮.৪ ওভারের মধ্যে ৬২ ওভার বল করেছেন স্পিনাররা। মাত্র ৩৫ রানে ৬ উইকেট নিয়েছিলেন রিশাদ হোসেন। এবার দ্বিতীয় ওয়ানডের দলে যোগ করা হয়েছে আরেক বাঁহাতি স্পিনার নাসুম আহমেদকেও।

মঙ্গলবারের ম্যাচে তাই ৪ স্পিনার নিয়ে খেলার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রিশাদের সঙ্গে প্রথম ম্যাচে ছিলেন মেহেদী হাসান মিরাজ ও তানভির ইসলাম। তাদের সঙ্গে যুক্ত হতে পারেন নাসুম। সেক্ষেত্রে বিশ্রাম পেতে পারেন প্রথম ওয়ানডেতে মাত্র ২ ওভার করা তাসকিন আহমেদ। 

এমনটা হলে দুই বছর পর আবার বাংলাদেশের একাদশে দেখা যাবে দুই বাঁহাতি স্পিনার। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ওয়ানডে বিশ্বকাপের ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে একসঙ্গে খেলেছিলেন নাসুম ও সাকিব আল হাসান। 

এতে আরও পরিষ্কার হয়ে যাবে, ওয়ানডে সিরিজের বাকি অংশে স্পিন সহায়ক উইকেটেই খেলা হবে। তবে বাংলাদেশের স্পিন বোলিং কোচ মুশতাক আহমেদ সতর্ক করে দিয়েছেন, এমন উইকেটে আরও সাবধান থাকতে হবে স্পিনারদের।

“আমি মনে করি, একজন স্পিনার হিসেবে যখন আপনি এমন ধরনের উইকেট দেখেন, তখন আপনি বেশি রোমাঞ্চিত হয়ে পড়েন। আর যখন রোমাঞ্চিত হন, তখন নিজের প্রক্রিয়াটা ভুলে যান। অথচ প্রক্রিয়াই সবকিছু।”

“উইকেট পেতে হলে শুধু ভালো বল করলেই হবে না, ভালো ওভার করতে হবে। টার্নিং উইকেটে মেডেন ওভার করতে হবে, ধারাবাহিকভাবে ভালো ওভার করতে হবে- তবেই উইকেট আসবে। আমার বার্তাটা খুবই সহজ- আপনি যদি নিজের প্রক্রিয়াটা মনে রাখেন, উইকেট আসবেই।” 

প্রথম ম্যাচে কালো মাটির উইকেটে দুই দলের ব্যাটাররাই রানের জন্য হিমশিম খেয়েছেন। বাংলাদেশ যেখানে পরিকল্পনা নিয়ে ধীরে ধীরে রান তোলার চেষ্টা করেছিল, সেখানে ৫১ রানের উদ্বোধনী জুটির পরই ভেঙে পড়ে ওয়েস্ট ইন্ডিজের ইনিংস।

দ্বিতীয় ম্যাচে তাই দুই দলই প্রথম ওয়ানডের অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে নিজেদের পরিকল্পনা সাজাতে চায়। প্রথম ম্যাচে ১৮৩টি ডট বল খেলার পর মাঝের ওভারগুলোতে স্ট্রাইক রোটেশনের দিকে জোর দিয়েছে বাংলাদেশ।

মুশতাক বলেন, “ফিল সিমন্স এবং মোহাম্মদ সালাউদ্দিন ব্যাটারদের বোঝানোর চেষ্টা করছিলেন কীভাবে মাঝের ওভারগুলোতে সিঙ্গেল নিতে হয়। স্পিনাররাও নিজেদের ফিল্ড সেট করেছিল, যাতে পুরোটা অনুশীলনে আসল ম্যাচের মতো পরিবেশ তৈরি হয়।”

অন্যদিকে, কঠিন কন্ডিশনে খাপ খাওয়ানোর দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। দলের বাঁহাতি স্পিনার খারে পিয়েরে বলেন, দ্রুত মানিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছে ব্যাটাররা।

“আমাদের ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে মানিয়ে নিতে হবে, দ্রুত মানিয়ে নিতে হবে। আমাদের দলে অনেক ভালো ব্যাটার আছে। বিষয়টা কেবলই মানিয়ে নেওয়ার। আর এটা আন্তর্জাতিক ক্রিকেট- তাই কঠিন হবেই, চ্যালেঞ্জও থাকবে। কিন্তু আমাদের উপায় খুঁজে বের করতেই হবে।”

আর বাংলাদেশের বোলারদের বিশেষ করে স্পিনারদের চেষ্টা থাকবে মূলত ক্যারিবিয়ানদের মানিয়ে নিতে না দেওয়ার। সেটি করতে পারলেই ৪ সিরিজ পর আবার ওয়ানডেতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজের ট্রফি ঘরে তুলতে পারবে বাংলাদেশ।

আজকের সিলেট/এপি

সিলেটজুড়ে


মহানগর