আল্লাহ তাআলার হিকমত বা প্রজ্ঞা কত গভীর, ভেবে দেখেছেন? আমাদের দোয়া কবুলের জন্য তিনি সব সময় ‘সবচেয়ে দ্রুত’ সময়টাকে বেছে নেন না; বরং তিনি বেছে নেন আমাদের জন্য ‘সবচেয়ে উপযুক্ত’ সময়টি। তাই আপনার জীবন থেকে যা কিছু হারিয়ে গেছে বা যা আপনি পাননি—সেটা আসলে আপনার ছিলই না, আর আপনিও সেটার জন্য ছিলেন না।
যে মানুষটিকে আপনার মনে হয়েছিল জীবনের জন্য একেবারে ‘পারফেক্ট’, অথচ তাকে আপনি শেষ পর্যন্ত পাননি—জেনে রাখুন, সে আসলে আপনার জন্য উপযুক্তই ছিল না।
যে চাকরিটার দিকে আপনি চাতক পাখির মতো তাকিয়ে ছিলেন, অথচ সেটি আপনার কপালে জোটেনি—বিশ্বাস করুন, সেটি না পাওয়ার মধ্যেই আপনার জন্য সবচেয়ে বড় কল্যাণ লুকিয়ে ছিল।
সমস্যাটা কোথায় জানেন? আমরা পুরো দৃশ্যটা দেখতে পাই না। আমরা শুধু মুদ্রার একটা পিঠ দেখি, তা-ও কেবল আমাদের নিজস্ব সীমিত দৃষ্টিকোণ থেকে।
কিন্তু মহান আল্লাহ? তিনি পুরো দৃশ্যপটটা দেখেন। তিনি শুরুটা জানেন, জানেন এর শেষটাও। কত না পাওয়া যে আসলে পাওয়ার নামান্তর, তা আমরা কজন বুঝি? কত উপহার আসার আগে একরাশ ‘বঞ্চিত হওয়ার গল্প’ তৈরি হয়!
ভেবে দেখুন তো, ইউসুফ (আ.) যদি সেই অন্ধকার কূপের একাকিত্ব সহ্য না করতেন, তবে কি তিনি কোনো দিন মিসরের অধিপতি হতে পারতেন? মক্কার প্রবেশদ্বারে যদি সেদিন সাহাবিদের চোখের জল না ঝরত, মক্কা বিজয়ের সেই সোনালি দিনটি কি কোনো দিন আসত?
আপনার আজকের এই না পাওয়াগুলো আসলে আগামীর কোনো এক বড় অর্জনের প্রস্তুতি মাত্র। আল্লাহর ওপর ভরসা রাখুন, তিনি আপনার জন্য যা লিখে রেখেছেন, তাই শ্রেষ্ঠ।
আল্লাহ যথার্থই বলেছেন, ‘নিশ্চয়ই আমি প্রতিটি বস্তু সৃষ্টি করেছি একটি সুনির্দিষ্ট পরিমাপে।’ (সুরা : আল-কামার, আয়াত : ৪৯)
বার্তা: আমরা আমাদের সীমিত চোখে যা ক্ষতি মনে করি, আল্লাহর বিশাল পরিকল্পনায় তা হয়তো আমাদের জন্য বিশাল কোনো উপহারের ভূমিকা মাত্র। ধৈর্য ধরুন, মালিকের পরিকল্পনা কখনোই বিফলে যায় না।
আজকের সিলেট/ডি/এসটি
ধর্ম ও জীবন ডেস্ক 








